রক্তের অ্যালার্জি কেন হয়? লক্ষণ, ঘরোয়া প্রতিকার ও চিকিৎসকদের পরামর্শ
রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় খুঁজতে গিয়ে অনেকেই ভুল তথ্যের জালে আটকা
পড়েন। সঠিক কারণ ও কার্যকর পরামর্শ জানা থাকলে অস্বস্তিকর লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে
রাখতে অনেক সুবিধা হয়।কোন লক্ষণ গুলোর প্রতি মনোযোগ দেবেন, কেন সমস্যা বৃদ্ধি
পেতে পারে।
কোন কৌশলগুলো সুরক্ষিত এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার জন্য পুরো লেখাটি
পড়ুন। এখানে সহজ ভাষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।এ রক্তের
এলার্জি দূর করার উপায়গুলো জানুন।
পেজ সূচিপত্রঃ রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় জানুন গোপন রহস্য
- রক্তের এলার্জি দূর করার উপায়?
- এলার্জি হলে কি কি খাওয়া যাবে না?
- রক্তে এলার্জির লক্ষণ গুলো কেমন?
- রক্তে এলার্জি কেন হয় জানুন সহজে?
- রক্তে এলার্জির প্রধান কারণগুলো কী?
- রক্তের এলার্জি হলে কী খাওয়া উচিত?
- কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই জানুন?
- রক্তে এলার্জি টেস্ট করুন খুব সহজে?
- রক্তের এলার্জির জন্য কখন ডাক্তার দেখাবেন?
- এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?
রক্তের এলার্জি দূর করার উপায়?
রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় জানার জন্য প্রথমে বুঝতে হবে কেন শরীরে
অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। খাবার, ওষুধ, ধুলোবালি, পরাগ, পোষা প্রাণী
অথবা অন্য কোনো উপাদান ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই কখন, কী খাচ্ছেন বা
কীসের সংস্পর্শে আসছেন তার ফলে চুলকানি, লাল দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে তা
লক্ষ্য করতে হবে। কারণটা চিহ্নিত করে চলাফেরা সীমিত করাই অ্যালার্জি
নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।চুলকানি বা হালকা ফুসকুড়ি হলে আক্রান্ত
অংশ ঠান্ডা রাখা এবং সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে স্বস্তি পাওয়া
যায়।
উপসর্গ বাড়লে চিকিৎসকের নির্দেশে অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহার করা হয়। সমস্যা
ঘনঘন হলে চিকিৎসক স্কিন-প্রিক টেস্ট বা নির্দিষ্ট IgE রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে
কারণ চিহ্নিত করতে পারেন। কিছু নির্দিষ্ট অ্যালার্জির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
হিসেবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ইমিউনোথেরাপি দিতেও হয়। রক্তের এলার্জি
পুরোপুরি দূর করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ঘরোয়া পদ্ধতি নেই তাই রক্ত পরিষ্কার
করার দাবিদার খাবার বা অজানা ওষুধের ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। শ্বাসকষ্ট, গলা
বা জিভ ফুলে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো এলার্জির উপসর্গ দেখা দিলে
দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
এলার্জি হলে কি কি খাওয়া যাবে না?
এলার্জির ক্ষেত্রে কোন খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে, তা সবই একজনের জন্য একই নয়।
নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে সেই খাবার এবং তার উপাদানযুক্ত
খাবারগুলি নিষিদ্ধ করা অপরিহার্য। নিচের টেবিলে বিভিন্ন খাবারের অ্যালার্জি এবং
সাধারণভাবে কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিত, তা সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই
টেবিলটি সুন্দরভাবে পড়ুনঃ
| খাবার | সমস্যা | লক্ষণ | করণীয় |
|---|---|---|---|
| ডিম | অ্যালার্জি | চুলকানি | এড়ান |
| দুধ | অসহিষ্ণুতা | পেটব্যথা | কমান |
| চিংড়ি | অ্যালার্জি | র্যাশ | এড়ান |
| বাদাম | অ্যালার্জি | ফোলা | এড়ান |
| মাছ | অ্যালার্জি | চুলকানি | এড়ান |
যদি খাবারের অ্যালার্জি নিশ্চিত না হয়, তাহলে নিজের এমন ইচ্ছা অনুযায়ী অনেক
খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব তৈরি হতে
পারে। কোনো খাবার গ্রহণের পরে একাধিক বার একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে
চিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে কারণ নির্ধারণ করুন এবং প্রয়োজনে নিরাপদ বিকল্প খাবার
নির্বাচন করুন। এটা আপনার জন্য ভালো হবে।
রক্তে এলার্জির লক্ষণ গুলো কেমন?
আপনার শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া আছে কিনা, সেটা বুঝতে লক্ষণগুলো লক্ষ্য
করলেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। অনেকেই যাকে রক্তে অ্যালার্জির লক্ষণ বলে,
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সেটি মূলত কোন অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে শরীরের
প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া। শুরুতে ত্বকে হঠাৎ চুলকানি, লালচে দাগ, ছোট
ছোট ফুসকুড়ি বা চাকা উঠতে পারে। এটা মূলত প্রথম লক্ষন।
কখনও চোখের পাতা, ঠোঁট, মুখ বা শরীরের অন্য অংশ ফুলে যেতে পারে। এই লক্ষণগুলো
খাবার, ওষুধ, ধুলাবালি, পরাগরেণু, পোকামাকড়ের কামড় বা অন্যান্য অ্যালার্জেনের
সংস্পর্শের পর দেখা দিতে পারে।ত্বকের সমস্যা ছাড়াও, অ্যালার্জির
প্রতিক্রিয়ায় হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, কাশি বা চোখ চুলকানো
মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। খাবারের অ্যালার্জিতে বমি, পেটব্যথা বা
ডায়রিয়ারও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এইসব লক্ষণ গুলো মূলত এলার্জির কারণেই
হয়ে থাকে।
তাই আপনার কোন উপসর্গ কখন শুরু হলো এবং তার আগে আপনি কী খেয়েছেন বা কীসের
সংস্পর্শে এসেছেন, সেটি মনে রাখার চেষ্টা করা উচিত। তবে শ্বাস নিতে অসুবিধা,
গলা বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, গিলতে সমস্যা, মাথা ঘোরা, হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া বা
অজ্ঞান হওয়ার মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো
অ্যানাফাইল্যাক্সিসের লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। একই সমস্যা
বারবার হলে চিকিৎসকের সহায়তা নিয়ে কারণ চিহ্নিত করাই সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি।
রক্তে এলার্জি কেন হয় জানুন সহজে?
আপনার যদি বারবার চুলকানি, লাল দাগ, ফুসকুড়ি বা শরীর ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা
হয়, তাহলে প্রথমেই মনে হতে পারে রক্তে এলার্জি কেন ঘটে? রক্তে এলার্জি আসলে
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়। সাধারণত শরীরের রোগ প্রতিরোধ
ব্যবস্থা কোনো ক্ষতিকর পদার্থকে ভুল করে বিপজ্জনক মনে করে অতিরিক্ত
প্রতিক্রিয়া দেখালে অ্যালার্জি হয়। এই প্রতিক্রিয়ায় শরীরের বিভিন্ন
রাসায়নিক, যেমন হিস্টামিন, বের হয়, ফলে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
আপনার ক্ষেত্রে এর কারণ হতে পারে কোনো খাদ্য, চিকিৎসা, ধুলো, পরাগ, পোষ্য
প্রাণীর খুশকি, পোকামাকড়ের বিষ বা ল্যাটেক্স জাতীয় উপাদান। আবার কখনও
নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না যেমন কিছু ক্ষেত্রে বারবার চাকা ওঠা
বা হাইভসের সঠিক কারণ জানা যায় না। পরিবারের সদস্যদের অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে
ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই শুধু রক্তে সমস্যা আছে ধরে নেওয়ার বদলে
অ্যালার্জির উৎস খুঁজে বের করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো খাদ্য বা ওষুধের পর প্রতিবার একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হলে সেটি নোট করে
চিকিৎসককে জানান। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক আপনার উপসর্গ ও ইতিহাস দেখে অ্যালার্জি
পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। আর শ্বাসকষ্ট, গলা বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, মাথা
ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়ার মতো গুরুতর প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা
গ্রহণ করুন। নয়তো পরে সমস্যা হতে পারে।
রক্তে এলার্জির প্রধান কারণগুলো কী?
যদি আপনার বার বার চুলকানি, ফুসকুড়ি বা শরীরে দাগ উঠে, তাহলে শুধু “রক্তে
সমস্যা” মনে করার আগে কোন পরিস্থিতির পর এসব ঘটছে, সেটা লক্ষ্য করুন। আসলে
রক্তে এলার্জির নির্দিষ্ট একটি কারণ নেই। শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাধারণত
অনাকাঙ্ক্ষিত পদার্থকে ভুলভাবে ক্ষতিকর মনে করে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখালে
অ্যালার্জির সমস্যা সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে পরিচিত কারণে খাবারের অ্যালার্জি যেমন দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, বিভিন্ন
বাদাম, মাছ, চিংড়ি, গম কিংবা সয়া অন্তর্ভুক্ত। আবার কিছু লোকের ক্ষেত্রে
অ্যান্টিবায়োটিকসহ নির্দিষ্ট ওষুধ, পোকামাকড়ের কামড় বা হুল, ধুলা, পরাগরেণু,
পোষা প্রাণীর খুশকি এবং ল্যাটেক্সের সংস্পর্শেও অ্যালার্জি হতে পারে। কিছু
মানুষের ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে অ্যালার্জির প্রবণতা থাকায় ঝুঁকি বৃদ্ধি
পায়।কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন প্রতিটি চুলকানি বা ফুসকুড়ির পেছনে
অ্যালার্জির কেনা থাকে না।
সংক্রমণ, ত্বকের অন্যান্য সমস্যাগুলো বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও
একইরকম লক্ষণ হতে পারে। তাই যদি আপনার সমস্যা বারবার ঘটে, কখন শুরু হচ্ছে, তার
আগে আপনি কী খেয়েছেন বা কিসের সংস্পর্শে এসেছেন, তা লিখে রাখুন। প্রয়োজনে
চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক ইতিহাস দেখে অ্যালার্জির কারণ চিহ্নিত করতে পরীক্ষা
করতে পারেন। এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।
রক্তের এলার্জি হলে কী খাওয়া উচিত?
অ্যালার্জি থাকলে এমন কোনো নির্দিষ্ট খাবার নেই, যা খেলে অ্যালার্জি দূর হবে।
বরং শরীরে যেই খাবারের কারণে প্রতিক্রিয়া ঘটে, সেটি এড়িয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর
খাবার খাওয়াই অত্যন্ত জরুরি। যেমন, খাবারের কারণে সমস্যা না হলে ভাত, ডাল,
শাকসবজি, ফল, মাংস বা অন্যান্য সাধারণ খাবার সঠিক পরিমাণে খেতে পারেন। যথেষ্ট
পানি পানও শরীরের স্বাভাবিক পানিশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
তবে এখানে কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। অনেকেই রক্তের অ্যালার্জি হলে কী খাওয়া উচিত
জানতে গিয়ে মধু, লেবু, কিছু নির্দিষ্ট জুস বা রক্ত পরিষ্কারকারী খাবারকে
অ্যালার্জির চিকিৎসা মনে করেন। এসব খাবার অ্যালার্জি ভালো করে দেয় এমন কোনো
নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বরং পূর্বে যেকোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকলে তা স্বাস্থ্যকর
হলেও এড়িয়ে যেতে হবে। একইভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দুধ, ডিম বা অন্যান্য
পুষ্টিকর খাবার দীর্ঘমেয়াদে বাদ দেওয়া ঠিক নয়। বার বার খাবার খাওয়ার পর
চুলকানি, ফুসকুড়ি, বমি বা ঠোঁটে ফোলাভাব হলে যে খাবারের পর সমস্যা হচ্ছে তা
লিখে রাখুন।
কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই জানুন?
যদি আপনি জানতে চান কোন খাবারে সম্পূর্ণরূপে অ্যালার্জি নেই, তাহলে প্রথমে একটি
বিষয় স্পষ্ট করতে হবে সবার জন্য অ্যালার্জিমুক্ত খাবারের নির্দিষ্ট তালিকা
বিদ্যমান নয়। যে খাবার একজন ব্যক্তি নিশ্চিন্তে ভক্ষণ করেন, সেটি অন্য কারো
শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
তবে সাধারণভাবে অনেক লোক ভাত, বিভিন্ন সবজি, কিছু ফল, ডাল, মাংস বা অন্যান্য
পরিচিত খাবার সহজেই খেতে পারে। আপনার জন্য নিরাপদ খাবার ব্যক্তিগত অ্যালার্জির
উপর নির্ভর করবে।সুতরাং, “এই খাবারে অ্যালার্জি হয় না” বলাসাপেক্ষে নতুন কোনো
খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। পূর্বে যেসব খাবার খেয়ে কোন সমস্যা
হয়নি, সেগুলো স্বাভাবিক খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
নতুন খাবার খাওয়ার পরে চুলকানি, চাকা ওঠা, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া, বমি কিংবা
শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন। বিশেষত যদি আগে গুরুতর প্রতিক্রিয়া হয়ে
থাকে, তাহলে নিজের ইচ্ছায় খাবার পরীক্ষা করা উচিত নয়। খাবারের অ্যালার্জি
সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ চিহ্নিত করাই নিরাপদ। মনে রাখবেন,
অ্যালার্জি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হলো আপনার শরীরে যে খাবারটি
প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে সেটি চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলা অযথা অনেক খাবার বাদ
দেওয়া নয়।
রক্তে এলার্জি টেস্ট করুন খুব সহজে?
রক্তে এলার্জি টেস্ট করা খুব সহজ। প্রথমে ডাক্তার আপনার সমস্যার প্রকৃতি, কখন
তা ঘটে এবং কোন খাবার, ওষুধ বা পরিবেশের সংস্পর্শে গেলে উপসর্গ বেড়ে যায় এসব
জানতে চান। এরপর প্রয়োজন মনে হলে হাতের শিরা থেকে সামান্য রক্ত নেওয়া হয়।
সেই রক্ত পরীক্ষা করে নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে IgE অ্যান্টিবডি
বিদ্যমান কি না দেখা হয়। রক্ত সংগ্রহের কাজ সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ
হয়ে যায়।কেবল রক্ত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে অ্যালার্জি নির্ণয় করা সম্ভব
নয়।
চিকিৎসক আপনাদের উপসর্গ, চিকিৎসার ইতিহাস এবং পরীক্ষার ফলাফলগুলোকে একত্রে
বিবেচনা করেন। প্রয়োজনে স্কিন প্রিক টেস্টও করা হতে পারে, যেখানে ত্বকে কিছু
পরিমাণ নির্দিষ্ট অ্যালার্জেন প্রয়োগ করে শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখা হয়।
সুতরাং, নিজের মতো করে নানা পরীক্ষা না করিয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়াই উত্তম। এটি কোন অ্যালার্জেন আপনার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে, সেটি
সঠিকভাবে চিহ্নিত করার সম্ভাবনা বাড়ায়। আশা করি বিষয়টা বুঝিয়েছেন।
রক্তের এলার্জির জন্য কখন ডাক্তার দেখাবেন?
মার অভিজ্ঞতায়, রক্তের অ্যালার্জি শব্দটি শুনলে ভয় পাওয়ার কোনও প্রয়োজন হয়
না। অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায় eosinophil বা IgE বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
শুধুমাত্র রিপোর্টের ভিত্তিতে অ্যালার্জি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তবে যদি
শরীরে চুলকানি, লাল দাগ বা চাকা ওঠা, চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া, হাঁচি আসা অথবা
খাবার বা ওষুধ নেওয়ার পরে অস্বস্থি হয়, তাহলে একজন মেডিসিন অথবা অ্যালার্জি
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষত, উপসর্গগুলো যদি আবার হয়, দীর্ঘ সময়
স্থায়ী হয় বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি করে, তাহলে দেরি না করে
ডাক্তার দেখানো উচিত।
আরো পড়ুনঃ দুধের ছানা খেলে কি সুগার বাড়ে? আসল তথ্য
প্রয়োজনে ডাক্তার আপনার উপসর্গ এবং রিপোর্ট অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা করতে পারে
এবং আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। ইচ্ছেমতো অ্যালার্জির ওষুধ দীর্ঘ
সময় ব্যবহার করা ঠিক নয়। আরেকটি বিষয় যা আমি সবসময় বলি যদি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট
হয়, গলা বা জিহ্বা ফুলে যায়, মাথা ঘোরায় বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি হয়,
তাহলে এটাকে সাধারণ অ্যালার্জি মনে করে বাড়িতে অপেক্ষা করবেন না। এই ধরনের
লক্ষণ গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার পূর্বাভাস হতে পারে।
এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?
রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় খুঁজতে গিয়ে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বুঝেছি শুধু ওষুধ খেয়ে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করলেই স্থায়ী সমাধান পাওয়া
যায় না। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে, কোন খাবার, ওষুধ, ধুলাবালি বা অন্য কিছু
অ্যালার্জির কারণ হয়ে উঠছে, সেটা আগে বোঝা জরুরি। তাই নিজের মতো করে বারবার
ওষুধ না নিয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনে কিছু পরীক্ষা
করানো এবং অ্যালার্জির কারণ এড়িয়ে চলা বেশি কার্যকরী। আমি উপলব্ধি
করেছি, শরীরের ছোট চিহ্নগুলোকে অবহেলা না করে সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিলে বড়
সমস্যাগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় প্রত্যেকের জন্য সমান নয়, কারণ অ্যালার্জির
কারণ ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই অন্যের অভিজ্ঞতা বা নির্দেশনার
ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেকে ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন। আমি বলব অ্যালার্জির
লক্ষণ বারবার দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান এবং ধৈর্য্যসহকারে
চিকিৎসা ও জীবনযাপন পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন। সুস্থ থাকার জন্য সঠিক তথ্য জানা
এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আরও স্বাস্থ্যবিষয়ক
নির্ভরযোগ্য ও উপকারী তথ্য পাবার জন্য
ইনফোনেস্ট আইটির সাথে থাকুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url