সাহু সিজদা কখন দিতে হয় অনেকেই জানেন না
সাহু সিজদা কখন দিতে হয়? এই প্রশ্নটি অনেক মুসল্লির মনে আসে, বিশেষ করে যখন
নামাজে কোনো ভুল হয়ে যায়। কিন্তু সব ভুলের জন্য সাহু সিজদা দিতে হয়? নাকি শুধু
নির্দিষ্ট কিছু ভুলের ক্ষেত্রেই এর বিধান আছে? অনেকেই সঠিক নিয়ম না জানার কারণে
অজান্তেই নামাজের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
এই লেখাটি কুরআন, সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহি ব্যাখ্যার আলোকে সহজ ভাষায় সাহু
সিজদা দেওয়ার সঠিক সময়, কোন ভুলে এটি ওয়াজিব হয়, কখন দিতে হয় না এবং কীভাবে
আদায় করতে হয় সে সম্পর্কে জানবেন। পুরো লেখাটি পড়লে আপনার আর কোনো দ্বিধা
থাকবে না, ইনশাআল্লাহ।
পেজ সূচিপত্রঃ সাহু সিজদা কখন দিতে হয় অনেকেই জানে না
- সাহু সিজদা কখন দিতে হয়?
- সাহু সিজদার নিয়ম জানুন?
- সাহু সিজদা কিভাবে দিতে হয়?
- সাহু সিজদা দিতে ভুলে গেলে করণীয়?
- সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার কারণ কয়টি?
- সাহু সিজদার সময় কী পড়তে হয়?
- সাহু সিজদা কোন কোন ভুলে হয়?
- সাহু সিজদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা?
- প্রথম বৈঠক ভুলে গেলে করণীয়?
- এই বিষয়ে মন্তব্য ও আপনার করণীয়?
সাহু সিজদা কখন দিতে হয়?
সাহু সিজদা কখন দিতে হয় এ প্রশ্নটি প্রায়ই নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের মনে
আসে। নামাজে ভুল হওয়া মানুষের স্বাভাবিক বিষয়। ইসলাম এই বিষয়টিকে সহজভাবে
সমাধান করেছে। অনিচ্ছাকৃতভাবে নামাজের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে বা এমন ভুল হয়ে
গেলে যার কারণে নামাজে ঘাটতি সৃষ্টি হয়, তখন সেই ঘাটতি পূরণের জন্য সাহু সিজদা
করতে হয়। তবে প্রতিটি ভুলের জন্য সাহু সিজদা প্রয়োজন হয় না। তাই কোন ভুলে
এটি করতে হবে আর কোন ভুলে করতে হবে না এ বিষয়টি জানা জরুরি।
নামাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওয়াজিব কাজ ছুটে গেলে।
দেরিতে আদায় হলে বা ভুলবশত অতিরিক্ত কোনো ওয়াজিব কাজ হয়ে গেলে সাহু সিজদা
করতে হয়। যেমন প্রথম বৈঠক (কায়দা উলা) ভুলে দাঁড়িয়ে যাওয়া, বিতরের
নামাজে দোয়া কুনুত ভুলে যাওয়া বা রাকাত নিয়ে সন্দেহ হলে শরিয়তের বিধান
অনুযায়ী সাহু সিজদা করতে হয়। তবে সুন্নত বা মুস্তাহাব কোনো আমল ছুটে গেলে
সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না।সাহু সিজদা দেওয়ার নিয়ম হলো, শেষ বৈঠকে
আত্তাহিয়্যাত পড়ার পর হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে
দুইটি সিজদা করতে হয়। এরপর আবার বসে আত্তাহিয়্যাত, দরুদে ইবরাহিম ও দোয়া
মাসুরা পড়ে উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।
তাই নামাজে ভুল হলে কী করতে হবে এবং কোন ভুলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় এ
বিষয়গুলো জানা প্রত্যেক মুসল্লির জন্য জরুরি।এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে স্পষ্ট
নির্দেশনা রয়েছে। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাজে ভুল
হলে দুইটি সাহু সিজদা করেছেন এবং সাহাবিদেরও তা শিক্ষা দিয়েছেন। এ
বর্ণনা সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম এ এসেছে। তাই সাহু সিজদা কখন দিতে হয়
এর সঠিক বিধান জানা থাকলে নামাজের ভুল সহজেই সংশোধন করা যায় এবং ইবাদত আরও
নির্ভুলভাবে আদায় করা সম্ভব।
সাহু সিজদার নিয়ম জানুন?
নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভুলটি অনিচ্ছাকৃত হয়,
তাহলে সাহু সিজদা করলেই ভুলের ঘাটতি পূরণ হয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, শেষ
বৈঠকে আত্তাহিয়্যাত পড়ার পর ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে দুইটি সিজদা করতে
হয়। তারপর আবার বৈঠকে বসে আত্তাহিয়্যাত, দরুদে ইবরাহিম ও দোয়া মাসুরা পড়ে
ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।তবে যদি ভুলটি ইচ্ছাকৃত
হয়, তাহলে শুধু সাহু সিজদা করলেই যথেষ্ট হবে না। কারণ সাহু সিজদা কেবল
অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
সুন্নত বা মুস্তাহাব কোনো আমল ছুটে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। তাই কোন
ভুলে সাহু সিজদা করতে হবে এবং কোন ভুলে করতে হবে না।এ বিষয়টি ভালোভাবে জানা
জরুরি।মুহাম্মদ নিজে সাহু সিজদা করেছেন এবং সাহাবিদেরও তা শিক্ষা দিয়েছেন।
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নামাজে ভুল হলে
তিনি সাহু সিজদা করেছেন এবং রাকাত নিয়ে সন্দেহ হলে নিশ্চিত সংখ্যার ওপর
ভিত্তি করে নামাজ সম্পন্ন করে সাহু সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সহিহ
সুন্নাহ অনুযায়ী সাহু সিজদা আদায় করলে নামাজ শুদ্ধভাবে সম্পন্ন হয়,
ইনশাআল্লাহ।
সাহু সিজদা কিভাবে দিতে হয়?
নামাজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাত পড়ার পর ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে
দুইটি সিজদা করতে হয়। এরপর আবার বৈঠকে বসে আত্তাহিয়্যাত, দরুদে ইবরাহিম ও
দোয়া মাসুরা পড়ে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। এই
দুইটি অতিরিক্ত সিজদাকেই সাহু সিজদা বলা হয়।সালাম ফিরানোর আগেই নিজের ভুলের
কথা মনে পড়লে, যে মাজহাব অনুসরণ করেন, সে অনুযায়ী
আমল করা উচিত। কারণ বিভিন্ন মাজহাবে সাহু সিজদার পদ্ধতিতে সামান্য পার্থক্য
রয়েছে।মুহাম্মদ নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা করেছেন এবং সাহাবিদেরও তা শিক্ষা
দিয়েছেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এ এ বিষয়ে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
সাহু সিজদা নিজের ইচ্ছামতো নয়; বরং নবীর দেখানো নিয়ম অনুযায়ী আদায় করাই
সুন্নাহ এবং এটিই একজন মুসল্লির জন্য সঠিক পদ্ধতি।
সাহু সিজদা দিতে ভুলে গেলে করণীয়?
নামাজ পড়ার সময় অনেকেই ভুল করে সাহু সিজদা করতে ভুলে যান। এটা ঘটে যখন মনে
পড়ে তার ওপর নির্ভর করে করণীয় নির্ধারণ করা হয়। যদি নামাজ শেষ করার পর
অল্প সময়ের মধ্যেই মনে পড়ে এবং নামাজের ধারাবাহিকতা ভেঙে দেয় এমন কোনো কাজ
না করে থাকেন, তাহলে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ফিরে এসে সাহু সিজদা করে নামাজ
সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু যদি দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায় বা নামাজের সঙ্গে
সম্পর্কহীন কোনো কাজ করা হয়, তাহলে ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে সেই নামাজ
পুনরায় আদায় করতে হবে।
যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে শুধু তাওবা করাই যথেষ্ট
নয়; নামাজও পুনরায় পড়তে হবে। তাই নামাজ শেষ করার আগে নিজের ভুলের বিষয়টি
মনে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সাহু সিজদা আদায় করে নেওয়াই ভালো।মুহাম্মদ নামাজে
ভুল হলে সাহু সিজদা করেছেন এবং সাহাবিদেরও এ বিধান শিক্ষা দিয়েছেন। এর
বর্ণনা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এ এসেছে। তাই সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার
বিষয়টি বুঝতে পারলে অবহেলা না করে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী দ্রুত তা আদায়
করা উচিত।
সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার কারণ কয়টি?
সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা কুরআন বা সঠিক হাদিসে বলা
হয়নি। তবে ইসলামী আইনে নামাজের ভুলগুলোকে কয়েকটি প্রধান কারণে ভাগ করা
হয়েছে, যার জন্য সাহু সিজদা প্রয়োজন। মূলত তিনটি কারণে সাহু সিজদা করতে
হয়। প্রথমত, নামাজের কোনো প্রয়োজনীয় কাজ ভুলে গেলে। দ্বিতীয়ত, কোনো
প্রয়োজনীয় কাজ নির্ধারিত সময়ের পরে করা হলে। তৃতীয়ত, ভুলবশত নামাজে এমন
কিছু করা হলে, যা নামাজের সঠিক হওয়ার উপর প্রভাব ফেলে।
এর মধ্যে প্রথম বসা (কায়দা উলা) ভুলে দাঁড়িয়ে যাওয়া, বিতরের নামাজে একটি
বিশেষ প্রার্থনা পড়তে ভুলে যাওয়া, বা রাকাত নিয়ে সন্দেহ হলে শরিয়তের
নিয়ম অনুযায়ী নামাজ শেষ করা এসব ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করা প্রয়োজন। তবে
সুন্নত বা পছন্দনীয় কোনো কাজ ছুটে গেলে সাহু সিজদা প্রয়োজন হয় না।নবী
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাজে ভুল করলে সাহু সিজদা
করেছেন এবং তাঁর অনুসারীদেরও এটি শিখিয়েছেন। এই বিষয়ে বুখারী ও মুসলিম
শরীফে অনেক হাদিস রয়েছে। তাই সাহু সিজদা করার কারণগুলো জানলে, নামাজে ভুল
হলে সহজেই তা শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করা যায়।
সাহু সিজদার সময় কী পড়তে হয়?
সাহু সিজদার সময় আলাদা কোনো দোয়া বা জিকির পড়ার নির্দেশ কুরআন বা সহিহ
হাদিসে বর্ণিত হয়নি। তাই সাহু সিজদায় সাধারণ সিজদার মতোই “সুবহানা
রাব্বিয়াল আ'লা” অন্তত তিনবার পড়া সুন্নত। এরপর ইচ্ছা করলে কুরআন-সুন্নাহ
থেকে প্রমাণিত অন্যান্য দোয়াও পড়া যেতে পারে।দুইটি সিজদা শেষ করার পর আবার
বৈঠকে বসে আত্তাহিয়্যাত পড়তে হবে। এরপর দরুদে ইবরাহিম এবং দোয়া মাসুরা
পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এটাই সাহু সিজদা আদায়ের প্রচলিত পদ্ধতি।মুহাম্মদ
সাহু সিজদা আদায় করেছেন এবং নামাজে ভুল হলে তা করার শিক্ষা দিয়েছেন। এ
বিষয়ে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এ একাধিক হাদিস রয়েছে। তাই সাহু সিজদার
সময় নতুন কোনো দোয়া উদ্ভাবন না করে সাধারণ সিজদায় যে তাসবিহ পড়া হয়,
সেটিই পড়া সুন্নত এবং এভাবেই সাহু সিজদা আদায় করা উচিত।
সাহু সিজদা কোন কোন ভুলে হয়?
নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা করতে হয়। নামাজের সময় যদি কোনো ওয়াজিব কাজ ছুটে
যায়, বা দেরিতে করা হয়, বা ভুল করে অতিরিক্ত কিছু করা হয়, তাহলে সাহু
সিজদা করতে হয়। , প্রথম বৈঠক ভুলে দাঁড়িয়ে যাওয়া, বিতরের নামাজে দোয়া
কুনুত পড়তে ভুলে যাওয়া, চার রাকাত ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সূরা
ফাতিহার সঙ্গে অন্য সূরা না পড়া, অথবা রাকাতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে সাহু
সিজদা করতে হয়।সুন্নত বা মুস্তাহাব কোনো আমল ছুটে গেলে সাহু সিজদা করার
দরকার নেই।
আবার, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওয়াজিব কাজ ছেড়ে দিলে শুধু সাহু সিজদা করলে যথেষ্ট
নয়, সে ক্ষেত্রে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হয়।মুহাম্মদ নামাজে ভুল হলে সাহু
সিজদা করেছেন এবং সাহাবিদেরও এ বিধান শিক্ষা দিয়েছেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ
মুসলিম-এ একাধিক সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাই, নামাজে ভুল হলে আগে বুঝে নিন
ভুলটি ওয়াজিবের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, এরপর শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী সাহু
সিজদা আদায় করুন।
সাহু সিজদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা?
নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা করা হয়। এটি করার জন্য কয়েকটি বিষয় মনে রাখা
দরকার। প্রথমত, সাহু সিজদা শুধুমাত্র অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য করা হয়। যদি কেউ
ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওয়াজিব কাজ ছেড়ে দেয়, তাহলে শুধু সাহু সিজদা করা যথেষ্ট
নয়, নামাজ আবার শুরু করতে হবে।দ্বিতীয়ত, যদি কেউ সুন্নত বা মুস্তাহাব কোনো
কাজ ভুলে যায়, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। তৃতীয়ত, যদি কেউ রাকাতের
সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ পায়, তাহলে যদি একটি সংখ্যার প্রতি প্রবল ধারণা থাকে,
তাহলে সেই অনুযায়ী নামাজ শেষ করতে হবে।
আর যদি কোনো ধারণা না থাকে, তাহলে কম সংখ্যাকে নিশ্চিত ধরে নামাজ শেষ করে
সাহু সিজদা করতে হবে।সাহু সিজদার জন্য আলাদা কোনো দোয়া নেই। সাধারণ সিজদায়
যেমন “সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা” পড়া হয়, সাহু সিজদাতেও সেটিই পড়তে হবে।
সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর অবহেলা না করে দ্রুত তা
আদায় করা উচিত।মুহাম্মদ নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা করেছেন এবং সাহাবিদেরও এ
বিধান শিক্ষা দিয়েছেন। এ বিষয়ে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এ একাধিক সহিহ
হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাই সাহু সিজদার মাসআলাগুলো জানা থাকলে নামাজ আরও শুদ্ধ
ও সুন্নাহ অনুযায়ী আদায় করা সম্ভব।
প্রথম বৈঠক ভুলে গেলে করণীয়?
নামাজে বসা ভুলে যাওয়া অনেকেরই হয়।যদি আপনি বসার আগে দাঁড়িয়ে যান, তাহলে
আবার বসবেন না। আপনি স্বাভাবিকভাবে নামাজ পড়বেন। নামাজ শেষে আপনি সিজদা
করবেন।কিন্তু আপনি যদি দাঁড়িয়ে না থাকেন, তাহলে বসবেন। প্রথম বসা আপনি শেষ
করবেন। এই ক্ষেত্রে অনেক ফকিহ বলেন সিজদা করার দরকার নেই।
এই ক্ষেত্রে নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাজ পরিষ্কার। একবার
তিনি প্রথম বসা না করেই দাঁড়িয়ে যান। নামাজ শেষে তিনি দুটি সিজদা করেন।
তিনি তার সঙ্গীদেরও এভাবে শিক্ষা দেন। এই কথা বুখারী ও মুসলিম শরীফে লেখা
আছে।তাই প্রথম বসা ভুলে গেলে অযথা চিন্তা না করে আপনি নবীজির (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখানো পথেই চলুন।
এই বিষয়ে মন্তব্য ও আপনার করণীয়?
সাহু সিজদা কখন দিতে হয় এই বিষয়টি নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি একটি বিষয় খুব
ভালোভাবে উপলব্ধি করেছি, তা হলো নামাজে ভুল হওয়া মানুষের স্বাভাবিক ব্যাপার,
কিন্তু সেই ভুলের সঠিক সমাধান জানা আরও বেশি জরুরি। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি,
অনেকেই না জেনে সাহু সিজদা করেন, আবার অনেকেই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও করেন
না। তাই কুরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী আমল
করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পথ।
সাহু সিজদা কখন দিতে হয় এ প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে
থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নামাজে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল হলেও আপনি আর দুশ্চিন্তায়
পড়বেন না, ইনশাআল্লাহ। আমি সব সময় চেষ্টা করি সহজ ভাষায় নির্ভুল ইসলামিক
তথ্য তুলে ধরতে, যাতে একজন সাধারণ মানুষও সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঠিক আমল করতে পারেন।
ইনফোনেস্ট আইটি-তে আমরা নিয়মিত ইসলামিক মাসআলা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং
দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য
লেখা প্রকাশ করি। আমাদের লক্ষ্য হলো পাঠকদের কাছে যাচাই করা, উপকারী এবং
বাস্তবসম্মত তথ্য পৌঁছে দেওয়া। আশা করি, আমাদের অন্যান্য লেখাগুলোও আপনার
জ্ঞান বাড়াতে এবং দৈনন্দিন জীবনে উপকারে আসবে।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url