ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬ (আপডেট)
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন? ট্রেনের সঠিক
সময়, ভাড়া ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন না জানলে আপনার যাত্রার পরিকল্পনা মুহূর্তের
মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
এই পোস্টে ট্রেনগুলোর ছাড়ার সময়, জয়দেবপুরে পৌঁছাতে সময়সীমা এবং টিকিটের
ভাড়াসহ যাত্রার প্রয়োজনীয় সব তথ্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই
আপনার জন্য কোন ট্রেনটি সবচেয়ে সহায়ক, জানতে সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা
- ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী আন্তঃনগর?
- ঢাকা টু জয়দেবপুর কমিউটার ও মেইল ট্রেনের সময়সূচী?
- ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?
- কমলাপুর নাকি বিমানবন্দর কোন স্টেশনে ট্রেনে উঠবেন?
- অনলাইনে ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম?
- ঢাকা টু জয়দেবপুর রুটের সেরা কিছু ট্রেনের তালিকা?
- জয়দেবপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা যাওয়ার উপায় ও ভাড়া?
- জরুরি প্রয়োজনে টিকিট না পেলে করণীয়?
- এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর?
- এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত পূর্ব অভিজ্ঞতা?
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী আন্তঃনগর?
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী বলার আগে ছোট্ট একটা কথা বলে নেওয়া
ভালো। আন্তঃনগর ট্রেন গুলো কমলাপুর থেকে ছেড়ে এসে বিমানবন্দরে
কিছুটা বিরতি নেই। তাই আপনার অবস্থান অনুযায়ী কোন ট্রেনে উঠা আপনার জন্য
সবচেয়ে ভালো হবে। সে অনুপাতে নিচের টেবিলে সময়সূচি প্রকাশ করা হলো। টেবিল টা
দেখলে আপনি সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ঢাকা টু জয়দেবপুর সকাল ও দুপুরের ট্রেনের সময়সূচীঃ
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | কমলাপুর ছাড়ার সময় | বিমানবন্দর ছাড়ার সময় | জয়দেবপুর পৌঁছায় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯) | সকাল ০৬:০০ | সকাল ০৬:২৫ | সকাল ০৬:৫১ | বৃহস্পতিবার |
| নীল সাগর এক্সপ্রেস (৭৬৫) | সকাল ০৬:৪৫ | সকাল ০৭:১১ | সকাল ০৭:৩৬ | সোমবার |
| তিস্তা এক্সপ্রেস (৭০৭) | সকাল ০৭:৩০ | সকাল ০৭:৫৬ | সকাল ০৮:২৩ | সোমবার |
| জামালপুর এক্সপ্রেস (৭৯৯) | সকাল ১০:০০ | সকাল ১০:২৪ | সকাল ১০:৫৩ | রবিবার |
| একতা এক্সপ্রেস (৭০৫) | সকাল ১০:১৫ | সকাল ১০:৪০ | সকাল ১১:০৬ | নেই |
| সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩) | দুপুর ০২:৩০ | দুপুর ০২:৫৪ | দুপুর ০৩:২১ | রবিবার |
ঢাকা টু জয়দেবপুর বিকেল ও রাতের ট্রেনের সময়সূচীঃ
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | কমলাপুর ছাড়ার সময় | বিমানবন্দর ছাড়ার সময় | জয়দেবপুর পৌঁছায় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৭৬) | বিকাল ০৪:১৫ | বিকাল ০৪:৩৯ | বিকাল ০৫:০৬ | শনিবার |
| যমুনা এক্সপ্রেস (৭৪৫) | বিকাল ০৪:৪৫ | বিকাল ০৫:১০ | বিকাল ০৫:৩৮ | নেই |
| চিলাহাটি এক্সপ্রেস (৮০৫) | বিকাল ০৫:০০ | বিকাল ০৫:২৪ | বিকাল ০৫:৫১ | শনিবার |
| ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (৭৪৩) | সন্ধ্যা ০৬:১৫ | সন্ধ্যা ০৬:৪০ | সন্ধ্যা ০৭:১৪ | নেই |
| চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪) | সন্ধ্যা ০৭:৩০ | সন্ধ্যা ০৭:৫৪ | রাত ০৮:২১ | রবিবার |
| দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৭) | রাত ০৮:৪৫ | রাত ০৯:১০ | রাত ০৯:৩৬ | নেই |
| লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১) | রাত ০৯:৪৫ | রাত ১০:০৯ | রাত ১০:৩৬ | শুক্রবার |
| হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৮) | রাত ১০:১৫ | রাত ১০:৩৯ | রাত ১১:০৮ | শুক্রবার |
| পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯) | রাত ১০:৪৫ | রাত ১১:০৯ | রাত ১১:৩৬ | মঙ্গলবার |
বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের সময়সূচী সাময়িক কারিগরি কারণ, প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন
বা বিশেষ শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আপনার ভ্রমণের
সুবিধার্থে এবং ট্রেনের বর্তমান লাইভ স্ট্যাটাস দেখতে যাত্রা শুরুর আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা
'Rail Sheba' মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সর্বশেষ আপডেট সময়সূচী যাচাই করে নেওয়া
উত্তম।
ঢাকা টু জয়দেবপুর কমিউটার ও মেইল ট্রেনের সময়সূচী?
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী ও যাতায়াতের জন্য কমিউটার ও
মেইল ট্রেন অনেক যাত্রীদের কাছে সহজ ও সাশ্রয়ী উপায়। আপনার যাত্রার সময়
অনুযায়ী কোন ট্রেনটি সুবিধাজনক, তা জানতে নিচের সময়সূচীটি দেখে নিতে পারেন।
এখানে ট্রেনের নাম, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময় এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিন
উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা টু জয়দেবপুর কমিউটার ও মেইল ট্রেনের সময়সূচী
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | কমলাপুর ছাড়ার সময় | বিমানবন্দর ছাড়ার সময় | জয়দেবপুর পৌঁছায় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| তুরাগ এক্সপ্রেস-১ (৬৯) | সকাল ০৫:০০ | সকাল ০৫:২৫ | সকাল ০৫:৫৫ | নেই (প্রতিদিন) |
| তুরাগ এক্সপ্রেস-৩ (৭১) | সকাল ০৭:১৫ | সকাল ০৭:৪০ | সকাল ০৮:১৫ | নেই (প্রতিদিন) |
| টাঙ্গাইল কমিউটার (৭৩) | বিকাল ০৫:১৫ | বিকাল ০৫:৪০ | সন্ধ্যা ০৬:১৫ | নেই (প্রতিদিন) |
| তুরাগ এক্সপ্রেস-৫ (৭৫) | সন্ধ্যা ০৭:০০ | সন্ধ্যা ০৭:২৫ | রাত ০৭:৫৮ | নেই (প্রতিদিন) |
ট্রেনের সময়সূচী বিভিন্ন কারণে বদলে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ
রেলওয়ের আপডেট তথ্য যাচাই করা উত্তম। বিশেষ করে সপ্তাহের ছুটির দিন ও ছাড়ার
সময় নিশ্চিত করে স্টেশনে পৌঁছালে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া
যায়। তাই এ বিষয়গুলো খেয়াল করবেন।
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?
ঢাকা (কমলাপুর) অথবা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে জয়দেবপুর (গাজীপুর) যাওয়ার জন্য
ট্রেনের প্রকার (কমিউটার/আন্তঃনগর) এবং আসন বা সিটের শ্রেণী অনুযায়ী টিকিটের
দামে ভিন্নতা থাকে। আপনার যাত্রার সুবিধার্থে আসন ও ট্রেনের প্রকার অনুযায়ী
অনুমানিক ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ও সাধারণ ধারণা
| ট্রেনের ধরণ | আসন/সিট এর শ্রেণী | টিকিটের মূল্য (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| কমিউটার ও মেইল/লোকাল | সুলভ / সাধারণ আসন | ৳ ২৫ - ৳ ৩০ |
| আন্তঃনগর (Intercity) | শোভন ও শোভন চেয়ার (Non-AC) | ৳ ৪৫ - ৳ ৫০ |
| আন্তঃনগর (Intercity) | স্নিগ্ধা ও এসি সিট (AC) | ৳ ১১৫ - ৳ ১২৭ |
| আন্তঃনগর (Intercity) | ১ম শ্রেণী ও এসি বার্থ (Berth) | ৳ ৯০ - ৳ ১৫০ |
ভাড়ার মৌলিক নিয়মাবলীঃ
১।আন্তঃনগর ট্রেনের সাধরণ শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫০ টাকা এবং এসি চেয়ার/স্নিগ্ধার
ভাড়া ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২। তুরাগ বা টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনে সাধারণত ২৫-৩০ টাকায় স্ট্যান্ডিং টিকেট
পাওয়া যায়।.
৩।ওয়েবসাইট বা অ্যাপ (eticket.railway.gov.bd) ব্যবহার করে টিকিট কিনলে
অনলাইন ফি ও ১৫% ভ্যাটসহ মূল টিকিটের সাথে ২০-৩০ টাকা বাড়তি লাগতে পারে।
কমলাপুর নাকি বিমানবন্দর কোন স্টেশনে ট্রেনে উঠবেন?
ভাই, সত্যি কথা বলতে কি ঢাকা থেকে গাজীপুর বা জয়দেবপুর রুটে ট্রেনে যাতায়াত
করতে গেলে এই একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাবেই: কমলাপুর থেকে ট্রেনে উঠবেন,
নাকি বিমানবন্দর স্টেশন থেকে?
নিজের কয়েক বছরের চড়াই-উতরাই আর তিতা অভিজ্ঞতার আলোকেই বলি আপনি ঠিক কোন
উদ্দেশ্যে বা সময়ে বের হচ্ছেন, তার ওপরই কিন্তু উত্তরটা নির্ভর করছে।আসেন,
আমার জীবনের দুইটা একদম আলাদা অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলি।
কমলাপুর স্টেশন বেছে নেবেন যখনঃ
আমার প্রথম প্রথম একটা বড় বোকামি হতো ভাবতাম বিমানবন্দর তো ঘরের কাছে, ওখান
থেকেই উঠে পড়ি! কিন্তু বিশ্বাস করেন, পিক আওয়ারে (বিশেষ করে অফিস টাইমে বা
বিকেলের দিকে) বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেনের বগিতে পা দেওয়ার জায়গা পর্যন্ত থাকে
না। মানুষের ভিড়ে দম বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়, আর যদি হাতে ব্যাগপত্র থাকে তবে তো
যুদ্ধ জয় করার মতো অবস্থা!
তাই এখন আমি একটা সোজা হিসাব মেনে চলি যদি আমার কাছে আরামটা প্রাধান্য পায়,
কোনো ঝক্কি ঝামেলা ছাড়া সিটে গিয়ে বসতে চাই, তবে আমি সোজা কমলাপুর চলে যাই।
কমলাপুর হলো শুরুর স্টেশন (Origin Station)। তাই ট্রেন যখন এসে দাঁড়ায়, একদম
খালি থাকে। শান্তিতে নিজের সিটটা খুঁজে নিয়ে ব্যাগটা উপরে তুলে চেপে বসা যায়।
বিশেষ করে পরিবার সাথে থাকলে বা হাতে ব্যাগ থাকলে কমলাপুরই সেরা। এখন
সিদ্ধান্ত আপনার যে কোনটা ভালো।
বিমানবন্দর স্টেশন বেছে নেবেন যখনঃ
তবে হ্যাঁ, ঢাকার যে জ্যাম! এখন ধরেন আপনি থাকেন উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী বা
গুলশানের দিকে। এখান থেকে জ্যাম ঠেলে কমলাপুর যেতেই আপনার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা
হাওয়া হয়ে যাবে। এই ভুলের মাশুলও আমি একবার দিয়েছিলাম কমলাপুর থেকে ট্রেন ধরার
চক্করে পুরো রাস্তা জ্যামে আটকে ট্রেনটাই মিস করলাম!তাই আপনার লোকেশন যদি
উত্তরার কাছাকাছি হয়
আপনি যদি একা একা বা হালকা ব্যাগেজে ট্রাভেল করেন, তবে কমলাপুর যাওয়ার কোনো
দরকারই নেই। বিমানবন্দর স্টেশনই আপনার জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে হ্যাঁ,
সেখানে প্ল্যাটফর্মে প্রচুর ভিড় ঠেলার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নামতে হবে। ট্রেন
এসে থামার সাথে সাথেই চট করে উঠে পড়তে হবে, কারণ বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেন
কিন্তু খুব অল্প সময় থামে।
যদি হাতে সময় থাকে, জ্যামের ভয় না থাকে আর আরামে উঠে বসতে চান তবে চোখ বন্ধ করে
কমলাপুর চলে যান। আর যদি উত্তরার আশপাশে থাকেন এবং সময় বাঁচাতে চান তবে ভিড় সয়ে
হলেও বিমানবন্দর থেকেই ট্রেন ধরা ভালো। এখন আপনার সিদ্ধান্ত আপনার অবস্থানের
উপর নির্ভর করে।
অনলাইনে ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম?
অনলাইনে ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের টিকিট কাটা খুবই সহজ এবং মাত্র কয়েক মিনিটের
কাজ। আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা Rail Sheba মোবাইল অ্যাপ
দুইভাবেই টিকিট কাটতে পারবেন। আমি আপনাকে সহজে দেখিয়ে দিচ্ছি।
১. অ্যাকাউন্ট তৈরি / লগইনঃ
- প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা Rail Sheba অ্যাপ ওপেন করুন।
- আপনার যদি আগে থেকে অ্যাকাউন্ট করা থাকে তবে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে Login করুন।
- অ্যাকাউন্ট না থাকলে Register বাটনে ক্লিক করে আপনার এনআইডি (NID) নম্বর, জন্মতারিখ ও ফোন নম্বর দিয়ে ভেরিফাই করে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিন।
২. ভ্রমণের তথ্য নির্বাচনঃ
- From: বক্সে টাইপ করুন Dhaka (বা আপনার সুবিধামতো Dhaka Airport)।
- To: বক্সে টাইপ করুন Joydebpur।
- Date of Journey: যে তারিখে ভ্রমণ করতে চান সেই তারিখটি সিলেক্ট করুন।
- Choose Class: আপনার পছন্দের আসন শ্রেণী (যেমন: S-CHAIR, SNIGDHA, 1ST SEAT ইত্যাদি) বেছে নিন।
- এরপর Find Ticket বাটনে ক্লিক করুন
৩. ট্রেন ও সিট সিলেক্টঃ
- নির্দিষ্ট তারিখের ঢাকা-জয়দেবপুর রুটের সব আন্তঃনগর ট্রেনের তালিকা এবং ফাঁকা সিটের সংখ্যা দেখতে পাবেন।
- আপনার পছন্দের ট্রেনের পাশে থাকা Select Seat বাটনে ক্লিক করে খালি সিট বেছে নিন।
৪. পেমেন্ট বা টাকা পরিশোধঃ
- সিট সিলেক্ট করার পর Continue Purchase এ ক্লিক করলে ভাড়ার পরিমাণ এবং অনলাইন চার্জ দেখাবে।
- টাকা পরিশোধ করার জন্য বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad), রকেট বা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড অপশন বেছে নিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
৫. টিকিট ডাউনলোডঃ
- পেমেন্ট সফল হলেই আপনার স্ক্রিনে নিশ্চিতকরণ বার্তা আসবে এবং আপনার রেজিস্টার্ড ইমেইলে ই-টিকিট চলে যাবে।
- অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের Purchase History সেকশন থেকেও পিডিএফ (PDF) আকারে টিকিটটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
ট্রেনে ভ্রমণের জন্য অনলাইন থেকে কাটা টিকিটটি প্রিন্ট করার খুব একটা তাড়া
নেই। আপনার মোবাইলে থাকা ডিজিটাল কপি বা ডাউনলোড করা টিকিটের একটা স্ক্রিনশট
দেখালেই অনায়াসে ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে যাত্রাপথে নেটওয়ার্কের সমস্যা বা
ফোনের চার্জ চলে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে চাইলে, নিরাপদ থাকার জন্য একটা কাগজের
প্রিন্ট কপি সাথে রেখে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আর হ্যাঁ, আপনি যদি ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে তুরাগ বা টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনে
যেতে চান, তবে অনলাইনে কিন্তু এগুলোর টিকিট পাবেন না। এসব কমিউটার ট্রেনের
জন্য যাত্রার ঠিক আগে স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকায়
স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে সরাসরি ট্রেনে উঠে পড়া যায়।
ঢাকা টু জয়দেবপুর রুটের সেরা কিছু ট্রেনের তালিকা?
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী এ বিষয়টি নিয়ে দেখার পর একটা জিনিস
আমাদের সবার মাথায় আসে যে কোন ট্রেনটা আমার জন্য ভালো হবে। কোন
ট্রেনে যাতায়াত করলে আমাদের ভ্রমণটা আরো সুন্দর হবে এ বিষয়টা নিয়ে নিচে
টেবিল উপস্থাপন করা হলো। যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার যাতায়াতের
জন্য সুন্দর ভ্রমণের জন্য কোন ট্রেনটি ভালো।
| ট্রেন | ধরন | ঢাকা ছাড়ার সময় | জয়দেবপুর পৌঁছায় | বন্ধ | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|---|---|
| বলাকা এক্স (৪৯) | কমিউটার | ০৪:৪৫ AM | ০৫:৩৮ AM | নেই | ভোরে দ্রুত যাওয়ার জন্য সেরা |
| জয়দেবপুর কমিউটার | কমিউটার | ০৫:২৫ AM | ০৬:২৫ AM | শনি | সরাসরি ও কম সময়ের যাত্রা |
| মহুয়া এক্সপ্রেস (৪৩) | কমিউটার | ০৮:১৫ AM | ০৯:১০ AM | নেই | সকালের অফিস টাইমে আদর্শ |
| একতা এক্সপ্রেস (৭০৫) | আন্তঃনগর | ১০:১০ AM | ১০:৫৬ AM | নেই | দ্রুত ও আরামদায়ক সিট |
| জামালপুর কমিউটার | কমিউটার | ০৩:৪০ PM | ০৪:৩৬ PM | নেই | বিকেলে কম খরচে ফেরার জন্য |
| দ্রুতযান এক্স (৭৫৭) | আন্তঃনগর | ০৯:০০ PM | ০৯:৪৪ PM | নেই | রাতের দ্রুতগামী আন্তঃনগর |
আরামদায়ক যাত্রার জন্য একতা বা দ্রুতযান আন্তঃনগরের টিকেট কেটে নেওয়া ভালো। আর
ঝটপট ও কম খরচে যেতে বলাকা বা মহুয়া কমিউটার উপযুক্ত। এরকমটা আমার মনে
হয়।
জয়দেবপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা যাওয়ার উপায় ও ভাড়া?
জয়দেবপুর স্টেশন থেকে নেমে গাজীপুর চৌরাস্তা যাওয়ার জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের
এই পথটুকুর অভিজ্ঞতা আমার বেশ পুরানো। স্টেশন থেকে চৌরাস্তার দূরত্ব খুব বেশি
নয় মেপে দেখলে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটারের মতো। কিন্তু এইটুকু রাস্তা পার হতেই
একেকজনের অভিজ্ঞতা একেক রকম হয়, কারণ যাতায়াতের উপায় এখানে বেশ কয়েকটি।
আপনি যদি একদম একা থাকেন এবং কম খরচে পৌঁছাতে চান, তবে স্টেশন থেকে বের হতেই
সামনে পেয়ে যাবেন ব্যাটারিচালিত লোকাল অটো বা ইজিবাইক। ড্রাইভাররা ৩-৪ জন
যাত্রী তুলে লোকাল হিসেবে ছাড়ার জন্য হাঁকডাক দিতে থাকে। রাজবাড়ী রোড ধরে
শিববাড়ী মোড় হয়ে সরাসরি চৌরাস্তা পৌঁছাতে এদের ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো সময়
লাগে। জনপ্রতি ভাড়া পড়ে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা।তবে সাথে যদি ভারী কোনো
ব্যাগপত্র থাকে কিংবা পরিবারের কেউ সাথে থাকে।
স্টেশনের গেট থেকেই একটি অটো বা সিএনজি রিজার্ভ করে নেওয়া যায়। অটো
রিজার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আর সিএনজি নিলে দরদাম করে ১২০ থেকে
১৫০ টাকার মধ্যে নেওয়া যায়। রিজার্ভ নিলে কোথাও না থেমে ১০ থেকে ১২ মিনিটের
মধ্যেই সরাসরি চৌরাস্তায় নামিয়ে দেয়।আরেকটি মজার উপায় আছে আপনি যদি লোকাল
বাসে যেতে চান, তবে স্টেশন থেকে একটা ৫ টাকার শর্ট অটো রাইড নিয়ে সোজা চলে
আসতে পারেন শিববাড়ী মোড়ে। শিববাড়ী হলো গাজীপুরের মূল পয়েন্ট।
চৌরাস্তাগামী যেকোনো লোকাল বাসে উঠে পড়লেই হলো, ভাড়া লাগবে মাত্র ১০ টাকা।
জরুরি প্রয়োজনে টিকিট না পেলে করণীয়?
জীবনে কতবার যে এমন হয়েছে জরুরি কাজ, কিন্তু কাউন্টার বা অনলাইনে টিকিটের
কোনো নামগন্ধই নেই! প্রথমে বুকটা ধড়ফড় করে উঠলেও, অনেকবার এই বিপদে পড়ে একটা
জিনিস বুঝেছি: রেলওয়েতে টিকেট না পাওয়া মানেই যে যাওয়া থামিয়ে ঘরে বসে থাকতে
হবে, তা কিন্তু নয়। একটু বুদ্ধি আর কৌশল জানা থাকলে শেষ মুহূর্তেও ঠিকই
ব্যবস্থা হয়ে যায়।অনলাইনে টিকিট একদম শেষ হয়ে গেলে সবচেয়ে প্রথম যে কাজটা
করবেন, তা হলো যাত্রার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে সরাসরি কাউন্টারে চলে যাওয়া।
অনেক সময় শেষ মুহূর্তে বা ট্রেন ছাড়ার ১-২ ঘণ্টা আগে সিস্টেম থেকে কিছু সিট
বা
স্ট্যান্ডিং (দাঁড়িয়ে যাওয়ার) টিকিট কাউন্টারে উন্মুক্ত করা হয়। কমলাপুর বা এয়ারপোর্ট স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে একটু খোঁজ নিলে অনেক সময়ই এই
টিকেটটা পেয়ে যাওয়া সম্ভব।দ্বিতীয় পথটি হলো ‘স্ট্যান্ডিং টিকেট’ বা কমিউটার
ট্রেনের ভরসা। আপনি যদি ঢাকা থেকে গাজীপুর, টাঙ্গাইল বা ময়মনসিংহের দিকে যেতে
চান, তবে আন্তঃনগর ট্রেনের সিটের আশা ছেড়ে তুরাগ, বলাকা বা জামালপুর
কমিউটারের মতো ট্রেনগুলোর টিকিট কেটে নিন। মাত্র ২৫-৩০ টাকায় কাউন্টার থেকে
সাথে সাথেই টিকেট পেয়ে যাবেন। একটু দাঁড়িয়ে বা ভিড় সয়ে যেতে হলেও আপনার জরুরি
কাজ আটকাবে না।
আরেকটা ছোট ট্রিকস আমি মাঝে মাঝে খাটাই স্টেশন ব্রেক বা রুট ভেঙে যাত্রা করা।
ধরুন, ঢাকা থেকে সরাসরি জয়দেবপুর বা আপনার গন্তব্যের টিকেট পাচ্ছেন না। তখন
মাঝের কোনো স্টেশন পর্যন্ত টিকিট পান কিনা দেখুন। যেমন বিমানবন্দর স্টেশন বা
কাছাকাছি অন্য কোনো পয়েন্টের টিকেট কেটে ট্রেনে উঠে পড়া। ট্রেনে ওঠার পর
টিটিই (TTE) স্যারের সাথে কথা বলে বাকি পথের অতিরিক্ত ভাড়া আর জরিমানা নিয়ম
মেনে পরিশোধ করে নিলে একদম আইনিভাবেই যাত্রা শেষ করা যায়।
তবে সবসময় একটা কথা মাথায় রাখা ভালো ব্ল্যাকার বা দালালদের ফান্দে ভুলেও পা
দেবেন না। টিকেট না পেয়ে দিশেহারা হয়ে বেশি দামে অবৈধ উপায়ে টিকেট কাটতে গিয়ে
অনেকেই জালিয়াতির শিকার হন। আর টিকেট একদমই না পেলে বিকল্প হিসেবে গাবতলী বা
মহাখালী থেকে ভালো কোনো লোকাল/ডাইরেক্ট বাসে উঠে পড়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
এ বিষয়ে করা যাত্রীদের কিছু প্রশ্ন উত্তর?
প্রশ্নঃ অনলাইন টিকিট কাটার ওয়েবসাইট কোনটি?
উত্তরঃ eticket.railway.gov.bd অথবা Rail Sheba অ্যাপ।
প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে জয়দেবপুর ট্রেনের ভাড়া কত?
উত্তরঃ কমিউটারে ২৫-৩০ টাকা, আন্তঃনগরে ৫০-১১০ টাকা।
প্রশ্নঃ টিকিট প্রতিদিন কখন থেকে পাওয়া যায়?
উত্তরঃ প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে।
প্রশ্নঃ এক আইডি থেকে কয়টি টিকিট কাটা যায়?
উত্তরঃ একবারে সর্বোচ্চ ৪টি।
প্রশ্নঃ কত বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকিট লাগে না?
উত্তরঃ ৫ বছরের কম বয়সীদের।
প্রশ্নঃ অন্যের টিকিটে ভ্রমণ করা যাবে?
উত্তরঃ না, যার নামে টিকিট তাকে সাথে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত পূর্ব অভিজ্ঞতা?
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে আমার দীর্ঘ যাতায়াত এবং
বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ট্রেনে চড়ার আগে শুধু ছাড়ার সময় জানা যথেষ্ট
নয় সাপ্তাহিক ছুটির দিন, পৌঁছানোর সময় এবং টিকিট সম্পর্কিত বিষয়গুলোও আগে
নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। এতে শেষ মুহূর্তের সমস্যা অনেকাংশেই এড়ানো যায় এবং
যাত্রাটা হয় স্বস্তিদায়ক।
ঢাকা টু জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী দেখে আপনার সুবিধামতো ট্রেনটি
নির্বাচন করাই হবে সেরা বিকল্প। আমি পরামর্শ দেব, যাত্রার দিন নির্ধারিত সময়ের
কিছু আগে স্টেশন পৌঁছান এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ তথ্য যাচাই
করে নিন। আশা করছি, এই তথ্যগুলি আপনার যাত্রাকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলবে।
আরও নির্ভরযোগ্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে
ইনফোনেস্ট আইটির সাথে থাকুন। ভালো
থাকুন সুস্থ থাকুন আমাদের সাথে থাকুন।




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url