ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া ও টিকেট [২০২৬]
ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী সহজেই জেনে নিন কোন ট্রেন কখন রওনা দেয়,
ভাড়া কত এবং যাত্রাপথে কি সুবিধা পাওয়া যাবে, সব কিছু একত্রিত তথ্য। সঠিক
সময়সূচী জানা থাকলে শেষ মুহূর্তের সমস্যা এড়িয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
সিলেট ভ্রমণ অথবা জরুরি কাজের জন্য যাওয়ার সময় ট্রেনের সময় ও টিকিটের
বিষয়গুলো আগে জানলে যাত্রাটি আরও সহনীয় হয়। এই লেখায় ট্রেনের সময়সূচী,
ভাড়া, বিরতি এবং টিকিট কাটার নিয়মসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য সহজভাবে উপস্থাপন করা
হয়েছে।
পেজ সূচিপত্রঃ ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া ও টিকেট
- ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী?
- ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?
- সিলেট থেকে ঢাকা ফিরতি ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া?
- সুরমা মেইল ট্রেনের সুবিধা ভাড়া কম খরচে?
- ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ?
- অনলাইনে ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম?
- এসএমএস SMS ও অ্যাপে লাইভ ট্রেন ট্র্যাকিং পদ্ধতি?
- ঢাকা-সিলেট ট্রেনের সেরা আসন ও ভ্রমণের টিপস?
- ভ্রমণ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর?
- ভ্রমণ সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামত?
ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী?
ঢাকা (কমলাপুর) থেকে সিলেটে প্রতিনিয়ত ৪টি দ্রুতগামী আন্তঃনগর (Intercity) এবং
১টি মেইল ট্রেন চলাচল করে। আপনার সুবিধাজনক সময়ে যাতায়াতের জন্য নিচে
আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের হালনাগাদ সময়সূচী প্রদান করা হলোঃ
১ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী (আন্তঃনগর )
পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯)
- ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়ঃ সকাল ০৬ঃ২০ মিনিট
- সিলেট পৌঁছানোর সময়ঃ দুপুর ০১ঃ০০ মিনিট
- সাপ্তাহিক বন্ধঃ মঙ্গলবার
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭)
- ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়ঃ সকাল ১১ঃ১৫ মিনিট
- সিলেট পৌঁছানোর সময়ঃ সন্ধ্যা ০৭ঃ০০ মিনিট
- সাপ্তাহিক বন্ধঃ নেই (সপ্তাহে ৭ দিন)
কালনী এক্সপ্রেস ( ৭৭৩)
- ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়ঃ দুপুর ০২ঃ৫৫ মিনিট
- সিলেট পৌঁছানোর সময়ঃ রাত ০৯ঃ৩০ মিনিট
- সাপ্তাহিক বন্ধ: শুক্রবার
উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯)
- ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়ঃ রাত ১০ঃ০০ মিনিট
- সিলেট পৌঁছানোর সময়ঃ ভোর ০৫ঃ০০ মিনিট
- সাপ্তাহিক বন্ধ: বুধবার
২ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী (মেইল )
সুরমা মেইল (৯)
- ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়ঃ রাত ১০ঃ৫০ মিনিট
- সিলেট পৌঁছানোর সময়ঃ দুপুর ১২ঃ৪০ মিনিট
- সাপ্তাহিক বন্ধঃ নেই (সপ্তাহে ৭ দিন)
প্রত্যেকটা ট্রেনের ছাড়ার সময় ও পৌঁছানোর সময় এর সাথে ছুটির দিন সবকিছু
একসাথে দেখে নিন
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় | সিলেট পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯) | সকাল ০৬:২০ মি. | দুপুর ০১:০০ মি. | মঙ্গলবার |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭) | সকাল ১১:১৫ মি. | সন্ধ্যা ০৭:০০ মি. | নেই |
| কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩) | দুপুর ০২:৫৫ মি. | রাত ০৯:৩০ মি. | শুক্রবার |
| উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯) | রাত ১০:০০ মি. | ভোর ০৫:০০ মি. | বুধবার |
| সুরমা মেইল (৯ - মেইল) | রাত ১০:৫০ মি. | দুপুর ১২:৪০ মি. |
নেই |
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রয়োজনে বা শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে
সময়সূচী সামান্য পরিবর্তন করতে পারে। তাই ভ্রমণের পূর্বে স্টেশনে বা রেলসেবা
অ্যাপে ট্রেনের রানিং স্ট্যাটাস দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বা
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
ভিজিট করতে পারেন।
ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?
ঢাকা (কমলাপুর) থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ও সুরমা মেইল ট্রেনের টিকিটের ভাড়া সিট
ক্যাটাগরিভেদে ভিন্ন হয়। বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নন-এসি শোভন চেয়ার এবং
বিলাসবহুল ভ্রমণের জন্য স্নিগ্ধা এসি চেয়ার ও বার্থ কেবিনের সুবিধা রয়েছে।
রেলসেবা অ্যাপে অনলাইন টিকিট কাটার ক্ষেত্রে ব্যাংক ফি বাবদ ২০ টাকা সার্ভিস
চার্জ যুক্ত হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের আপডেটেড ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া
হলো তালিকাটি মনোযোগ দিয়ে দেখুন।
আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের ভাড়া (ভ্যাটসহ)
- শোভন চেয়ার (S-CHAIR)= ৩৮০ টাকা
- স্নিগ্ধা (Snigdha / AC Chair)=৭২০ টাকা
- ১ম শ্রেণী চেয়ার (F-SEAT)= ৫৭০ টাকা
- ১ম শ্রেণী বার্থ (F-BERTH)= ৮৫৫ টাকা
- এসি সিট (AC-S)=৮৭০ টাকা
- এসি বার্থ (AC-B)=১,২৯০ টাকা
সুরমা মেইল ট্রেনের ভাড়াঃ
- শোভন (Shovan)=২৫০ - ৩০০ টাকা
এসি বার্থ এবং ১ম শ্রেণী কেবিনে আসনপ্রতি নির্ধারিত ভ্যাটের কারণে টিকিটের
মূল্যে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। অনলাইনে টিকেট কাটলে ব্যাংক চার্জ বা
অনলাইন প্রসেসিং ফি বাবদ অতিরিক্ত ২০ টাকা যুক্ত হবে। প্রত্যেকটা ট্রেনের আসন
ও ভাড়া এক নজরে দেখে নিনঃ
| আসনের ধরন | মূল্য | সুবিধা |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার (S-CHAIR) | ৩৮০ টা. | নন-এসি, কম খরচ |
| স্নিগ্ধা (AC Chair) | ৭২০ টা. | এসি সিট, আরামদায়ক |
| ১ম শ্রেণী চেয়ার (F-SEAT) | ৫৭০ টা. | নন-এসি, বড় সিট |
| ১ম শ্রেণী বার্থ (F-BERTH) | ৮৫৫ টা. | নন-এসি কেবিন/বেড |
| এসি সিট (AC-S) | ৮৭০ টা. | এসি কেবিন সিট |
| এসি বার্থ (AC-B) | ১,২৯০ টা. | এসি লাক্সারি বেড |
| সুরমা মেইল (Shovan) | ২৫০-৩০০ টা. | সর্বনিম্ন ভাড়া |
সিলেট থেকে ঢাকা ফিরতি ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া?
সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার জন্য প্রতিদিন ৪টি আন্তঃনগর ও ১টি সুরমা মেইল ট্রেন
চলাচল করে। এই ট্রেনগুলোর সিলেট থেকে ছাড়া সময় ও ঢাকায়
পৌঁছানোর সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হলোঃ
কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪)
- সিলেট থেকে ছাড়েঃ সকাল ০৬ঃ১৫ মিনিট
- ঢাকা পৌঁছায়ঃ দুপুর ০১ঃ০০ মিনিট
- ছুটির দিনঃ শুক্রবার
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৮)
- সিলেট থেকে ছাড়েঃ দুপুর ১২ঃ০০ মিনিট
- ঢাকা পৌঁছায়ঃ সন্ধ্যা ০৭ঃ২৫ মিনিট
- ছুটির দিনঃ নেই (সপ্তাহে ৭ দিন)
পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০)
- সিলেট থেকে ছাড়েঃ বিকাল ০৩ঃ৪৫ মিনিট
- ঢাকা পৌঁছায়: রাত ১০ঃ৪০ মিনিট
- ছুটির দিনঃ মঙ্গলবার
সুরমা মেইল (১০ - মেইল)
- সিলেট থেকে ছাড়েঃ সন্ধ্যা ০৭ঃ৩০ মিনিট
- ঢাকা পৌঁছায়ঃ সকাল ০৬ঃ৩০ মিনিট
- ছুটির দিনঃ নেই (নিয়মিত)
উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০)
- সিলেট থেকে ছাড়েঃ রাত ১১ঃ৩০ মিনিট
- ঢাকা পৌঁছায়ঃ ভোর ০৫ঃ৪৫ মিনিট
- ছুটির দিনঃ বুধবার
সিলেট থেকে ঢাকা রুটেও টিকিটের ভাড়া একই শোভন চেয়ার ৩৮০ ৳, স্নিগ্ধা ৭২০ ৳,
১ম সিট ৫৭০ ৳, এসি সিট ৮৭০ ৳ এবং এসি বার্থ ১,২৯০ ৳) উপরের তথ্যগুলো সবগুলো
একসাথে দেখতে বা আরেকটু ভালোভাবে তুলনা করার জন্য নিচের টেবিলটি এখনো জুড়ে
দেখে নিন।
| ট্রেন | সময় | ছুটি |
|---|---|---|
| কালনী (৭৭৪) | ০৬:১৫ AM | শুক্রবার |
| জয়ন্তিকা (৭১৮) | ১২:০০ PM | নেই |
| পারাবত (৭১০) | ০৩:৪৫ PM | মঙ্গল |
| সুরমা (১০) | ০৭:৩০ PM | নেই |
| উপবন (৭৪০) | ১১:৩০ PM | বুধ |
সুরমা মেইল ট্রেনের সুবিধা ভাড়া কম খরচে?
ঢাকা-সিলেট রুটে যাদের বাজেট সীমিত বা যারা হুটহাট ঘুরতে ভালোবাসেন, তাদের
জন্য সুরমা মেইল ট্রেন এক ভরসার নাম। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যখন
অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় সরাসরি সিলেট পৌঁছে যাওয়ার
সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম এটি। ভ্রমণের দিন স্টেশনে গিয়ে সহজেই এর টিকিট কেটে
ফেলা যায়।
ঢাকা থেকে রাত ১০ঃ৫০ মিনিটে রওনা দিয়ে সারারাত ভ্রমণ শেষে ট্রেনটি সকালে
সিলেটে পৌঁছায়। এতে করে রাতের আলাদা হোটেল ভাড়া বেঁচে যায়, যা শিক্ষার্থী ও
বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য বড় স্বস্তি। গতি একটু ধীরগতির এবং অনেক ছোট স্টেশনে
থামলেও, কম খরচে আড্ডামুখর রাতের যাত্রা আর লোকাল ভ্রমণের আসল অনুভূতি পেতে
সুরমা মেইলের বিকল্প নেই।
ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ?
ঢাকা (কমলাপুর) থেকে সিলেট যাওয়ার পথে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো যাত্রীদের সুবিধার্থে
বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়। আন্তঃনগর ট্রেনের প্রধান
বিরতি স্টেশনসমূহ এবং সুরমা মেইল ট্রেনের বিরতি সংক্রান্ত তথ্য নিচে দেওয়া হলোঃ
- ঢাকা বিমানবন্দরঃ বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকার যাত্রীদের জন্য প্রধান ওঠানামার স্টেশন।
- ভৈরব বাজারঃ মেঘনা নদীর তীরের প্রধান রেল সংযোগস্থল।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ জেলা সদরের অন্যতম প্রধান স্টেশন।
- আখাউড়া জংশনঃ বড় রেলওয়ে জংশন, যেখানে ট্রেন কিছু সময় অবস্থান করে।
- শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)ঃ হবিগঞ্জ জেলা ও আশেপাশের এলাকায় যাতায়াতের প্রধান স্টেশন।
- শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) চা বাগান ও পর্যটন কেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে নামার জন্য জনপ্রিয় স্টেশন।
- কুলাউড়া জংশনঃ মৌলভীবাজার ও জুড়ী-কুলাউড়া অঞ্চলের যাত্রীদের মূল বিরতি স্থান।
- মাইজগাঁও (ফেঞ্চুগঞ্জ)ঃ সিলেট পৌঁছানোর আগের অন্যতম বিরতি স্টেশন।
পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী ও উপবন এক্সপ্রেস সব আন্তঃনগর ট্রেন সব স্টেশনে থামে
না। যেমন: কালনী এক্সপ্রেস তুলনামূলক কম স্টেশনে বিরতি দেয়।আন্তঃনগর ট্রেনের
বাইরে সুরমা মেইল (৯/১০) ট্রেনটি ঢাকা-সিলেট রুটের প্রায় সব ছোট-বড় লোকাল ও
ফ্লাগ স্টেশনে থামে, যার কারণে এতে ভ্রমণের সময় ও বিরতির সংখ্যা দুটিই বেশি।
অনলাইনে ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম?
অনলাইনে ঢাকা থেকে সিলেট রুটের ট্রেনের টিকিট কাটা এখন অত্যন্ত সহজ। বাংলাদেশ
রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই ২ মিনিটে টিকিট
কাটা যায়। চলুন আপনাকে সহজে দেখিয়ে দিচ্ছি কিভাবে আপনি অনলাইনে টিকিটটা
কাটতে পারবেন।
রেজিস্ট্রেশন বা লগইন
প্রথমে Rail Sheba অ্যাপ ওপেন করুন অথবা ওয়েবসাইট
(eticket.railway.gov.bd)
ভিজিট করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে এনআইডি (NID) ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন আপ
করুন, আর অ্যাকাউন্ট থাকলে লগইন করুন। আর আগে থেকে লগইন করা থাকলে সরাসরি
পরবর্তী ধাপগুলো দেখুন।
ভ্রমণের তথ্য পূরণঃ
- From Station: Dhaka নির্বাচন করুন।
- To Station: Sylhet নির্বাচন করুন।
- Date of Journey: আপনার ভ্রমণের তারিখ সিলেক্ট করুন।
- Choose Class: আপনার পছন্দের আসন শ্রেণি (যেমন: S_CHAIR, Snigdha বা AC_S) বেছে নিয়ে Find Ticket-এ ক্লিক করুন।
ট্রেন ও সিট নির্বাচনঃ
নির্ধারিত তারিখের ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেনের তালিকা (পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী,
উপবন) দেখতে পাবেন। আপনার পছন্দের ট্রেনের পাশে Book Now-এ ক্লিক করে ফাঁকা
থাকা সিট সিলেক্ট করুন।
পেমেন্ট সম্পূর্ণ করাঃ
বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পরিশোধ
করুন। (অনলাইন পেমেন্টে ব্যাংক ফি বাবদ প্রতি টিকিটে ২০ টাকা যুক্ত হয়।)
ই-টিকিট ডাউনলোডঃ
পেমেন্ট সফল হলে আপনার ই-মেইলে টিকিট চলে আসবে এবং অ্যাপের History অপশনেও দেখা
যাবে। এটি পিডিএফ (PDF) ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করে ফোনে সেভ করে রাখুন।
এসএমএস SMS ও অ্যাপে লাইভ ট্রেন ট্র্যাকিং পদ্ধতি?
ভ্রমণের দিন ট্রেনটি এখন কোন স্টেশনে আছে বা কতক্ষণ লেট করছে, তা স্টেশন
কাউন্টারে না গিয়েই ঘরে বসে এসএমএস (SMS) বা অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ ট্র্যাক করা
যায়। নিচে সহজ পদ্ধতি দেওয়া হলো
এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে ট্র্যাকিং (সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি)
- যেকোনো মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুনঃ TR <স্পেস> ট্রেনের নম্বর
- উদাহরণঃ TR 709 (পারাবত এক্সপ্রেসের জন্য)
- এবার পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান, পরবর্তী স্টেশন এবং সম্ভাব্য সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। (প্রতি এসএমএসে প্রচলিত অপারেটর চার্জ প্রযোজ্য।)
অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাকিং (Rail Sheba / Train Tracking App)
- Rail Sheba App অথবা গুগল প্লে স্টোর থেকে যেকোনো বিশ্বস্ত Train Tracking App ওপেন করুন।
- অ্যাপের Train Location বা Live Tracking অপশনে যান।
- ট্রেনের নাম বা নম্বর (যেমন: কালনী ৭৭৪, পারাবত ৭০৯) লিখে সার্চ করুন।
- স্ক্রিনেই ম্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের রিয়েল-টাইম লোকেশন দেখতে পাবেন।
ঢাকা-সিলেট ট্রেনের সেরা আসন ও ভ্রমণের টিপস?
ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেনের যাত্রাটা সবসময়ই স্পেশাল। পাহাড়, চা-বাগান আর সবুজ
বনানীর কোল ঘেঁষে এই পথটুকু পাড়ি দিতে বেশ চমৎকার লাগে। তবে এই ভ্রমণটাকে
পুরোপুরি আনন্দদায়ক করতে হলে টিকিটের আসন বা সিট নির্বাচন এবং কিছু ছোটখাটো
বিষয়ে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি। আমার নিজস্ব ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকেই
বিষয়গুলো ধাপে ধাপে শেয়ার করছিঃ
দিনের যাত্রায় 'স্নিগ্ধা', রাতে কেবিন বা স্নিগ্ধা
আপনি যদি দিনে ভ্রমণ করেন (যেমন পারাবত বা কালনী এক্সপ্রেসে), তবে আমার
পরামর্শ থাকবে স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) অথবা অন্তত শোভন চেয়ার (S_CHAIR) নেওয়ার।
দিনের আলোতে জানালার পাশের সিট পেলে শ্রীমঙ্গলের সবুজ চা-বাগান আর পাহাড়ের
রূপ দেখতে দেখতে পুরো পথ কেটে যাবে। আর যদি রাতে ভ্রমণ করেন (যেমন উপবন
এক্সপ্রেসে), তবে ঘুমিয়ে আরামদায়ক যাত্রার জন্য এসি বার্থ বা ১ম শ্রেণির
কেবিন সেরা। টিকিট বাজেট-ফ্রেন্ডলি রাখতে চাইলে রাতের জন্যও স্নিগ্ধা
বেশনিরাপদ পছন্দ।
সিট নির্বাচনের দারুণ কিছু টিপস
ট্রেনের টিকিট কাটার সময় চেষ্টা করবেন ট্রেনের মাঝামাঝি বগিগুলোতে (যেমন-
'ঙ', 'চ', 'ছ') সিট নিতে। ইঞ্জিনের একদম কাছের বগিগুলোতে বিকট শব্দ ও ঝাঁকুনি
বেশি থাকে, আর পেছনের দিকের বগিগুলোতে দোলানি বেশি অনুভূত হয়। আর আপনি যদি
ছবি তুলতে বা প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তবে বুকিং করার সময় অবশ্যই
'Window Seat' বা জানালার পাশের আসন বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ট্রেন ছাড়ার আগেই গুছিয়ে নিন প্রস্তুতি
কমলাপুর স্টেশনে সবসময়ই বেশ ভিড় থাকে, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে। তাই ট্রেন
ছাড়ার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগেই স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া নিরাপদ। আর একটি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ন অনলাইনে কাটা টিকিটের সাথে অবশ্যই আপনার জাতীয়
পরিচয়পত্রের (NID) একটি ছবি বা কপি ফোনে সেভ করে রাখবেন। টিটিই (TTE)
চেকিংয়ের সময় টিকিট ও এনআইডি মেলাতে চাইলে যেন ঝামেলায় পড়তে না হয়। তাই এ
বিষয়টা মাথায় রাখবেন।
যাত্রাপথের খাবার ও অন্যান্য সতর্কতা
ট্রেনের ক্যাটারিং সার্ভিসের খাবার সবসময় সবার রুচিসম্মত নাও হতে পারে। তাই
ভ্রমণের আগে নিজ দায়িত্বে হালকা শুকনা খাবার, বিস্কুট এবং পানির বোতল সাথে
নিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে যারা বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ করছেন, তাদের জন্য
ঘরের তৈরি খাবারই সেরা। আর রাতে বা দিনে স্টেশনে যখন ট্রেন কিছুক্ষণের জন্য
থামবে, তখন নিজের ব্যাগ ও মোবাইল বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসের দিকে বাড়তি
খেয়াল রাখুন। যেকোনো দুর্ঘটনায় ঘটে যেতে পারে।
ভ্রমণ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর?
প্রশ্নঃ ঢাকা-সিলেট ট্রেনে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ আন্তঃনগর ট্রেনে ৬-৭ ঘণ্টা এবং মেইল ট্রেনে ১৩-১৪ ঘণ্টা।
প্রশ্নঃ দিনের সেরা ট্রেন কোনটি?
উত্তরঃ পারাবত এক্সপ্রেস ও কালনী এক্সপ্রেস।
প্রশ্নঃ রাতের সেরা ট্রেন কোনটি?
উত্তরঃ উপবন এক্সপ্রেস।
প্রশ্নঃ কত দিন আগে অগ্রিম টিকিট পাওয়া যায়?
উত্তরঃ যাত্রা শুরুর ১০ দিন আগে।
প্রশ্নঃ অনলাইন ই-টিকিট কি প্রিন্ট করা লাগে?
উত্তরঃ না, ফোনে টিকিটের পিডিএফ দেখালেই চলে।
ভ্রমণ সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামত?
ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী ভালোভাবে দেখে ভ্রমণের আগে টিকিট কেটে নেওয়াই
আমার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। বহুবার এই রুটে যাতায়াত করে দেখেছি,
শেষ মুহূর্তের জন্য বসে থাকলে টিকিট মেলা যেমন কঠিন হয়, তেমনি পছন্দের আসন না
পেয়ে পুরো যাত্রার আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী
অবশ্যই জানুন।
ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি খেয়াল
রেখে পরিকল্পনা করলে আপনার পুরো সফর হবে নিরাপদ ও আনন্দদায়ক। আশা করি আমার এই
টিপসগুলো আপনার সিলেট ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে সাহায্য করবে। নিয়মিত এমন
দরকারি ও নির্ভরযোগ্য ভ্রমণ গাইড পেতে ইনফোনেস্ট আইটির সাথেই থাকুন। নতুন
কিছু জানুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url