চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের দাম, বন্ধের দিন ও অনলাইন
টিকিট কাটার নিয়ম জানুন। কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের সঠিক তথ্য দেখুন
একেবারে সহজ সুন্দর ও গোছালোভাবে।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছি। আপনি চাইলে
টেবিল থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত তথ্যের সরাসরি যেতে পারেন অথবা শুরু থেকে শেষ
পর্যন্ত পুরো লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন।
পেজ সূচীপত্রঃ চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানুন
- চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও অফ-ডে
- চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিটের মূল্য
- যাত্রাপথের প্রধান ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ
- এই যাত্রাপথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
- চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের দূরত্ব ও সময়
- অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম
- নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণের জরুরি কিছু টিপস
- এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন
- এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর
- আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও অফ-ডে
আপনি চুয়াডাঙ্গা থেকে ট্রেনে করে রাজশাহী যাওয়ার কথা ভাবছেন? চুয়াডাঙ্গা টু
রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী না জেনে স্টেশনে রওনা দিলে অনেক সময়ই বিপদে পড়তে হয়।
চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের
পছন্দমতো সময়ে নিশ্চিন্তে যাত্রা শুরু করা যায়। বিশেষ করে সকালের স্নিগ্ধ
বাতাসে নাকি সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশে যাত্রা করবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে এই রুটের
ট্রেনগুলোর সঠিক তথ্য জানা খুব প্রয়োজন।
| ট্রেনের নাম | চুয়াডাঙ্গা ছাড়ে | রাজশাহী পৌঁছায় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|
| কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৫) | সকাল ৮:৫৯ | দুপুর ১২:০০ | মঙ্গলবার |
| সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (৭৬১) | সন্ধ্যা ৬:৫৪ | রাত ১০:০০ | সোমবার |
একটি বিষয় সবসময় মনে রাখবেন, ট্রেনের সময় মাঝে মাঝে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। তাই
ভ্রমণের দিন কিছুটা সময় নিয়ে অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে
পৌঁছানোই সবচেয়ে উত্তম। সকালে কাজ থাকলে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ধরে দুপুরে রাজশাহী
পৌঁছে যেতে পারবেন, আর সারাদিনের কাজ শেষে বিশ্রাম নিতে চাইলে সাগরদাঁড়ি
এক্সপ্রেস আপনার জন্য একদম উপযুক্ত।
চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিটের মূল্য
চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট নেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই
নিয়েছেন, কিন্তু বাজেট কেমন সেটি না জানলে শেষ মুহূর্তে কিছুটা সমস্যায় পড়তে
পারেন। আসলে ট্রেনের ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার অর্থের পরিস্থিতি
যাই হোক না কেন এখানে অত্যন্ত কম খরচে সাধারণ আসন থেকে আরামদায়ক এসি ক্লাসে
যাওয়ার অসাধারণ ব্যবস্থা রয়েছে।নিচে চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী রুটের সমস্ত
আসনের সর্বশেষ হালনাগাদ টিকিটের মূল্যসহ একটি টেবিল তৈরি করা হলোঃ
| আসন শ্রেণী (Class) | টিকিটের ভাড়া (টাকা) |
|---|---|
| শোভন (Shovon) | ১৫৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার (Shovon Chair) | ১৮৫ টাকা |
| প্রথম সিট (First Seat) | ২৪৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা / এসি চেয়ার (Snigdha) | ৩০৫ টাকা |
| এসি সিট / বার্থ (AC Seat) | ৩৬৫ টাকা |
যদি আপনার বাজেটের মধ্যে আরামে এক সিটে বসে ভ্রমণের ইচ্ছা থাকে, তবে শোভন
চেয়ারের টিকিট কিনতে পারেন এটি সাশ্রয়ী এবং আরামদায়কও। গরমের দিনে ৩-৪ ঘণ্টার
যাত্রাটি ঠান্ডা ও স্নিগ্ধ পরিবেশে কাটাতে চাইলে স্নিগ্ধা বা এসি সিট বুক করা
সবচেয়ে উপযুক্ত হবে। অনলাইন বা স্টেশনের কাউন্টার যেখান থেকেই কাটুন না কেন,
টিকিটের সাথে সামান্য অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে।
যাত্রাপথের প্রধান ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ
চুয়াডাঙ্গা থেকে ট্রেন ছেড়ে রাজশাহী যাওয়া পর্যন্ত মাঝপথের কোন স্টেশনে কতো
সময় বিরতি দেওয়া হয়, তা জানা থাকলে ভ্রমণটি অনেক বেশি সুন্দর হয়। বিশেষ করে
যদি আপনি মাঝপথের কোনো স্টেশনের যাত্রী হন অথবা যাত্রার সময় কিছু চা-নাস্তা
খাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে এই বিরতিসংক্রান্ত তথ্য আপনার জন্য খুবই সহায়ক
হবে।আপনার সুবিধার জন্য চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী রুটের প্রধান ট্রেনগুলোর বিরতি
স্টেশন ও বিরতিকালের একটি সুন্দর রেসপন্সিভ টেবিল নিচে উপস্থাপন করা হলোঃ
| বিরতি স্টেশন | ট্রেনের নাম | বিরতির সময় |
|---|---|---|
| আলমডাঙ্গা | কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি | ২ - ৩ মিনিট |
| পোড়াদহ জংশন | কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি | ৩ - ৫ মিনিট |
| ভেড়ামারা | কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি | ২ - ৩ মিনিট |
| ঈশ্বরদী বাইপাস | কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি | ২ - ৪ মিনিট |
| আব্দুলপুর জংশন | কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি | ৩ - ৫ মিনিট |
মনে রাখবেন, জংশন স্টেশনে যদি সিগন্যাল বা অন্যান্য ট্রেনের ক্রসিং থাকে, তাহলে
কখনও কখনও বিরতির সময় সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে
ট্রেন খুব কম সময়ের জন্যই থামে, তাই প্ল্যাটফর্মে নামার পর সব সময় ট্রেনের
হুইসেলের দিকে খেয়াল রাখবেন যেন অস্বস্তি ছাড়াই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে
পারেন।
এই যাত্রাপথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী যাওয়ার দুটি ট্রেনই দেখলেন, কিন্তু মনে এক প্রশ্ন
নিশ্চয়ই আসছে "আমার জন্য কোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে?" আসলে, দুইটি ট্রেনেরই
ভিন্ন একটি আকর্ষণ রয়েছে, এবং আপনার কোনটি নির্বাচন করা উচিত তা সম্পূর্ণভাবে
আপনার দিনের কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করে।যদি সকালে সতেজ
মেজাজে বের হয়ে দুপুরের মধ্যে রাজশাহীতে কাজ শেষ করতে চান।
তাহলে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস আপনার জন্য নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ! জানালার মাধ্যমে
বাইরের সোনালী রোদ ও গ্রাম বাংলার সবুজ দেখতে দেখতে চার ঘণ্টার এই সফর যেন
মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। এবং যদি আপনি চাকরির জন্য ব্যস্ত হন বা সারাদিনের কাজ
শেষে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে, রাতের শীতল বাতাসে আরামে চলাচল করতে চান তাহলে চোখ
বন্ধ করে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস নির্বাচন করুন। রাতের ট্রেনের জানালায় হালকা
বাতাস ও ঝকঝকে শব্দে মানসিক ক্লান্তি দূর করার অনুভূতি আলাদা। সুতরাং আপনার
সুবিধা ও আরামের দিকে নজর রেখে কোন একটি বেছে নিন, দুটোই আপনার যাত্রাকে
স্মরণীয় করে তুলবে
চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের দূরত্ব ও সময়
চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ট্রেনের দূরত্ব সত্যিই খুব বেশি নয়, স্রেফ
১২০ থেকে ১২৫ কিমি। সড়কের উৎকণ্ঠা ও ধুলাবালি থেকে দূরে ট্রেনে এই দুরত্ব পার
করা যেমন স্বস্তিকর, তেমনই সস্তা। রেললাইনে কোনো ট্রাফিক জ্যামের সমস্যা নেই
বিধায় মন খুলে গান শুনতে বা বই পড়তে পড়তেই এই রাস্তা শেষ হয়ে যায়।সময় হিসাব
করলে, চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী পৌঁছাতে সাধারণভাবে ৩ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা
সময় লাগে। কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস সকাল ০৮ঃ৫৯ এ ছেড়ে দুপুর ১২ঃ০০ টায় রাজশাহী
পৌঁছায় (সময় প্রায় ৩ ঘণ্টা ১ মিনিট)।
অন্যদিকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস সন্ধ্যা ০৬ঃ৫৪ এ ছেড়ে রাত ১০ঃ০০ টায় পৌঁছায় (সময়
প্রায় ৩ ঘণ্টা ৬ মিনিট)। তাই মাত্র ৩ ঘণ্টার এই ক্ষুদ্রমাত্রায় আপনি কোনো
ক্লান্তি ছাড়া সম্পূর্ণ তাজা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন!তবে একটা ছোট পরামর্শ
মনে রাখবেন ট্রেনের এই সময়টা কিন্তু রেলওয়ের নিয়মিত শিডিউলের ওপর ভিত্তি করে
বলা। মাঝে মাঝে আবহাওয়া, সিগন্যাল বা লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য ৫-১০
মিনিট এদিক-সেদিক হতে পারে, যা খুব স্বাভাবিক। তাই ভ্রমণের দিন হাতে একটু বাড়তি
সময় নিয়ে চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে চলে আসলে আর কোনো দুশ্চিন্তাই থাকবে না, একদম
নিশ্চিন্ত মনে আড্ডা দিতে দিতেই পৌঁছে যাবেন পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহীতে।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম
এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চুয়াডাঙ্গা স্টেশনের কাউন্টার থেকে
ট্রেনের টিকিট কাটার প্রয়োজন নেই। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়েই কয়েক
মিনিটের মধ্যে ঘরে বসে চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) বা 'Rail Sheba'
অ্যাপ ইনস্টল করে প্রথমে আপনার এনআইডি (NID) ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি একাউন্ট
তৈরি করুন।
এরপর অ্যাপে গিয়ে যাত্রার স্টেশন হিসেবে 'Chuadanga' এবং গন্তব্য হিসেবে
'Rajshahi' নির্বাচন করে আপনার ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণ করলে ওই দিনের খালি
আসনগুলো দেখতে পারবেন।পছন্দের ট্রেন, সিট ও ক্লাস নির্ধারণের পর পেমেন্টের সময়
এসেছে। বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজেই
টিকিটের টাকা পরিশোধ করা যায়। পেমেন্ট সফল হলে আপনার ইমেইল ও অ্যাপে ই-টিকিট
পৌঁছে যাবে। যাত্রার দিন মোবাইলে এই ডিজিটাল টিকিট দেখালেই হবে, তবে চাইলে
স্টেশন থেকে অনলাইন কপি দিয়ে মূল টিকিটও মুদ্রণ করতে পারেন। চলুন, একদম ঝামেলা
ছাড়াই ডিজিটাল পদ্ধতিতে টিকিট কিনে নিশ্চিন্তে ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত হন।
আপনি যদি এখনো বিষয়টা ভালোভাবে বুঝতে না পারেন। তাহলে এখানে
ক্লিক করুন। এখানে আমি প্রত্যেকটা বিষয় আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি স্ক্রিনশট
ব্যবহার করে। আপনার যদি এ বিষয়ে একেবারে শূন্য ধারণা থাকে তাও আপনি খুব সহজে
লেখাটা পড়তে পড়তে কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারবেন। তাই আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন
এখনই গিয়ে আর্টিকেলটা পরে আসুন।
নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণের জরুরি কিছু টিপস
ট্রেন ভ্রমণ সবসময় খুব আনন্দদায়ক ও আরামদায়ক, তবে ভ্রমণটি যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ
ও চিন্তামুক্ত হয় তার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত
প্রয়োজন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, স্টেশনে তাড়াহুড়ো না করে অন্তত
২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে পৌঁছানো সত্যিই ভালো ফল দেয়। এতে প্ল্যাটফর্মে শেষ
মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ এড়ানো সম্ভব হয়, এবং নিজের সিটে নিশ্চত হয়ে বসা যায়। এছাড়া
ভ্রমণের সময় টিকিট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সবসময় হাতের কাছের পকেটে বা ছোট
ব্যাগে রাখতে হবে, যাতে টিটিই এলে কোনো অসুবিধা ছাড়া দেখাতে পারেন।
যাত্রা করার সময় আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র, যেমন মোবাইল, ওয়ালেট বা ল্যাপটপ
ব্যাগ সবসময় নজরে রাখুন। রাতের ট্রেনে চলার সময় বা ঘুমানোর সময় মূল্যবান
ব্যাগটি মাথার নিচে বা নিজের নিকট রাখা উত্তম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,
ট্রেনের জানালায় বা দরজায় হাঁটাকালে সতর্ক থাকা এবং অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার
বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা। সামান্য একটুখানি সতর্কতা আর নিয়ম মেনে
চললেই আপনার সফর হবে নিরাপদ, আনন্দময় ও স্মৃতিময়!
এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন
অনেক সময়ই দেখা যায় ট্রেন স্টেশনে আসতে একটু দেরি করছে, আর আপনি স্টেশনে বসে
অপেক্ষা করছেন। এই অচেনা অপেক্ষার দুশ্চিন্তা এড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এসএমএস
ট্র্যাকিং সার্ভিসটি কিন্তু দারুণ এক সমাধান! ভ্রমণ শুরু করার আগে চুয়াডাঙ্গা
টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী জেনে নেওয়ার পর আপনি খুব সহজেই মোবাইল থেকে একটি
সাধারণ এসএমএস পাঠিয়ে জেনে নিতে পারবেন আপনার ট্রেনটি এখন ঠিক কোথায় অবস্থান
করছে এবং চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে কখন এসে পৌঁছাবে।
পদ্ধতিটি একদমই সহজ! আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন TR স্পেস দিয়ে
আপনার ট্রেনের নম্বর। ধরুন আপনি কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের লাইভ লোকেশন জানতে চান,
যার ট্রেন নম্বর হলো ৭১৫। তাহলে আপনাকে টাইপ করতে হবে TR 715 এবং মেসেজটি
পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬৩১৮ (16318) নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে মুহূর্তের মধ্যেই
আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে ট্রেনটির বর্তমান অবস্থান ও পরবর্তী স্টেশনে
পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়। সঠিক চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী
নিজের যাত্রা পরিকল্পনা করার পাশাপাশি এই ট্র্যাকিং সুবিধাটি আপনার সময়
বাঁচাবে এবং সফরকে করবে আরও মানসিক শান্তিদায়ক।
এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্নঃ চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
- উত্তরঃ শোভন সিটে মাত্র ১৫৫ টাকা।
প্রশ্নঃ চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ প্রায় ৩ ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
প্রশ্নঃ সকালে কোন ট্রেনটি ছাড়ে?
- উত্তরঃ কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (সকাল ০৮:৫৯ মিনিট)।
প্রশ্নঃ কতদিন আগে অগ্রিম টিকিট পাওয়া যায়?
- উত্তরঃ ভ্রমণের ঠিক ১০ দিন আগে।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী মেনে বহুবার এই রুটে যাতায়াত করার
পর আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলতে পারি ট্রেনের জার্নিটা সত্যিই
অদ্ভুত সুন্দর আর একদম ঝঞ্ঝাটহীন। ব্যস্ত জীবনে বাসের ধুলাবালি আর জ্যামের
প্যারা না নিয়ে চুয়াডাঙ্গা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী সকালে বা
সন্ধ্যায় ট্রেনের জানালার পাশে বসে ট্রাভেল করার মজাই আলাদা। আমি নিজে বেশ
কয়েকবার এই রুটে যাতায়াত করে দেখেছি, একটু আগেভাগে স্টেশনে পৌঁছে
প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ালে বা অনলাইনে টিকিটটা আগেই কেটে রাখলে ভ্রমণটা অনেক বেশি
ঝামেলা মুক্ত ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
আমার পরামর্শ থাকবে, আপনি যদি চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পরিকল্পনা
করেন, তবে নিজের সময় সুবিধা অনুযায়ী সঠিক ট্রেনটি বেছে নিয়ে নিশ্চিন্তে টিকিট
বুক করে ফেলুন। বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্ভিস এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো, আর মাত্র
৩ ঘণ্টার যাত্রায় পদ্মা পাড়ের শহরে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা আপনার মন ভালো করে
দেবেই। আশা করি আমার অভিজ্ঞতা ও আজকের তথ্যগুলো আপনার যাত্রাকে আরও সহজ ও
আনন্দদায়ক করবে। ভ্রমণ ও বিভিন্ন দরকারি সব সঠিক তথ্যের আপডেট সবসময় সবার আগে
পেতে ইনফোনেস্ট আইটি (InfoNest IT)-এর সাথেই থাকুন। শুভ হোক আপনার যাত্রা!



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url