চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ (অনলাইন টিকিটসহ)
চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী, ট্রেন ভিত্তিক টিকিটের আপডেট ভাড়া এবং
সাপ্তাহিক ছুটির তালিকা দেখুন এক ক্লিকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সঠিক সময়সূচী
অনুযায়ী আপনার পছন্দের আসন বেছে নিন।
এছাড়া মোবাইল বা অ্যাপ দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ নিয়ম, লাইভ ট্রেন
ট্র্যাকিং এবং জরুরি ভ্রমণ টিপস পাবেন এই একটি আর্টিকেলেই। তাই লেখাটা শুরু
থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানুন
- চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
- চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
- চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা ট্রেনের বিরতি স্টেশন
- এই যাত্রাপথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য
- অনলাইনে চুয়াডাঙ্গা ঢাকা ট্রেন টিকিট কাটা
- লাইভ ট্রেন লোকেশন ট্র্যাকিং করার পদ্ধতি
- চুয়াডাঙ্গা ঢাকা ট্রেন যাত্রায় দরকারী টিপস
- অনলাইনে ট্রেনের টিকিট রিফান্ড করার নিয়ম
- চুয়াডাঙ্গা ঢাকা ট্রেন ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী
- আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে নিখুঁত তথ্য জানা থাকলে আপনার
ভ্রমণ হবে অনেক বেশি সহজ ও চিন্তামুক্ত। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সময় বাঁচাতে
চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় ট্রেনে যাতায়াত করাই সেরা সিদ্ধান্ত। কোনো ভুল তথ্যের
চক্করে যেন না পড়েন, সেজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের একদম সাম্প্রতিক তথ্য নিচে গুছিয়ে
দিলাম। চুয়াডাঙ্গা স্টেশন থেকে প্রতিদিন ঢাকায় যাওয়ার জন্য ৩টি ইন্টারসিটি
ট্রেন পাবেন, যেগুলোর বিস্তারিত সময়সূচী আপনার সুবিধার্থে ছক আকারে তুলে ধরলাম।
| ট্রেনের নাম | চুয়াডাঙ্গা ছাড়ে | ঢাকা পৌঁছায় | মোট যাত্রা | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|---|
| সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫) | ১২:২৪ AM | ০৫:১০ AM | ৪ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট | মঙ্গলবার |
| চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৩) | ১১:৫৩ AM | ০৬:০৫ PM | ৬ ঘণ্টা ১২ মিনিট | রবিবার |
| বেনাপোল এক্সপ্রেস (৭৯৫) | ০৩:২৩ PM | ০৮:৩০ PM | ৪ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট | বুধবার |
ভোরের শান্ত পরিবেশে ঢাকায় নামতে চাইলে রাতের সুন্দরবন এক্সপ্রেস হবে চমৎকার
পছন্দ। অন্যদিকে দিনের রূপ দেখতে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যে জার্নি করতে চাইলে চিত্রা
বা বেনাপোল এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন। প্রতিটা ট্রেনেই যাত্রীদের আরামদায়ক
ভ্রমণের সুন্দর ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো ঝামেলা ছাড়া সঠিক সময়ে ট্রেনে চড়তে
ছুটাছুটি না করে অন্তত ৩০ মিনিট আগেই স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এতে আপনার যাত্রার শুরুটাই বেশ আনন্দদায়ক ও প্রশান্তিময় থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
ভ্রমণের পুরো প্রস্তুতি ও সঠিক পরিকল্পনার জন্য টিকিটের সঠিক মূল্য জানা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি শোভন চেয়ারে সাশ্রয়ী বাজেটে যাত্রা করতে চান অথবা
স্নিগ্ধা ও কেবিনে আরামদায়ক সফর পছন্দ করেন এখানে সকল প্রকার সিটের ভাড়া পাওয়া
যাবে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ নির্ধারিত দাম নিচে
একটি পরিষ্কার ছকে উল্লেখ করা হলো, যাতে টিকিটের জন্য বাজেট নির্ধারণে কোনো
বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়ঃ
| আসনের শ্রেণি | আসন প্রকার | টিকিট ভাড়া |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | সাধারণ আসন | ৩৯০ টাকা |
| স্নিগ্ধা | এসি চেয়ার | ৭৪৭ টাকা |
| এসি সিট | এসি আসন | ৮৯৭ টাকা |
| এসি বার্থ | এসি কেবিন | ১৩৪৬ টাকা |
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবসময় মনে রাখবেন, যদি কাউন্টারের ভিড় এড়িয়ে অনলাইনে
টিকিট করতে চান, তাহলে অনলাইন প্রসেসিং ফি বা ব্যাংক চার্জের জন্য টিকিটের মূল
দামের সাথে সামান্য কিছু টাকা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আবার, যদি আপনার একা কম
খরচে দ্রুত যেতে ইচ্ছা হয় তবে শোভন চেয়ার বেছে নেওয়া দারুণ হবে। কিন্তু
পরিবারের ছোট সদস্য বা বয়স্ক সদস্যদের সাথে থাকলে স্নিগ্ধা অথবা এসি কেবিন
নেওয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা ট্রেনের বিরতি স্টেশন
চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী ট্রেনগুলো মাঝপথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামছে
এবং প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন কতক্ষণ বিরতি নেয়, সেই তথ্য জানাটা যাত্রীর জন্য
খুবই সহায়ক। বিশেষ করে যাত্রাপথে চা খাওয়ার সুযোগ নেওয়া বা স্টেশনের নাম চিনতে
এই তথ্যটি অনেক কাজে লাগে। সাধারণত আন্তঃনগর ট্রেনগুলো যাত্রীদের ওঠানামা ও
সংকেতের কারণে নির্ধারিত কিছু জংশন বা বড় স্টেশনে অল্প সময়ের জন্য দাঁড়ায়।আপনার
সুবিধার জন্য ঢাকা রুটের চুয়াডাঙ্গা থেকে বিরতি স্টেশনগুলো, তাদের দূরত্ব ও
ট্রেনের বিরতি সময় ৩ কলামের টেবিল আকারে নিচে উপস্থাপন করলাম।
| বিরতি স্টেশন | চুয়াডাঙ্গা- দূরত্ব | বিরতির সময় |
|---|---|---|
| পোড়াদহ জংশন | ৩০ কি.মি. | ৩ - ৫ মিনিট |
| ঈশ্বরদী জংশন | ৬০ কি.মি. | ২ - ৩ মিনিট |
| বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম | ১৬০ কি.মি. | ২ মিনিট |
| জয়দেবপুর জংশন | ২৪০ কি.মি. | ২ - ৩ মিনিট |
| ঢাকা বিমানবন্দর | ২৫৫ কি.মি. | ২ - ৩ মিনিট |
| ঢাকা (কমলাপুর) | ২৭০ কি.মি. | শেষ গন্তব্য |
ট্রেনে যাতায়াতের সময় এই স্টেশনগুলোর বিরতি সত্যিই অনেক উপকারে আসে। বিশেষত
ঈশ্বরদী বা পোড়াদহ জংশনে যখন ট্রেন কিছুক্ষণ থামে, তখন হালকা চা-নাস্তা নেওয়া
বা পা দুটো একটু ছড়িয়ে নেওয়ার দারুণ সুযোগ হয়। তবে সবসময় মনে রাখতে হবে, ট্রেন
খুব বেশি সময় দাঁড়ায় না; তাই ৩ থেকে ৫ মিনিটের বেশি বিরতি না থাকলে বগি ছেড়ে
দূরে না যাওয়াই হবে শ্রেয়। আর আপনি যদি ঢাকার উত্তরা বা বিমানবন্দর এলাকায়
নামতে চান, তবে কমলাপুর পর্যন্ত না গিয়ে বিমানবন্দর স্টেশনেই নামতে পারেন এতে
আপনার সময় ও ট্রাফিক জ্যামের ভোগান্তি দুটোই অনেক কমে যাবে।
এই যাত্রাপথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য
চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা যাওয়ার এই যাত্রাপথে কোনটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ হবে,
তা মূলত নির্ভর করছে আপনার সময়সূচী ও চাহিদার ওপর। আপনি যদি ঢাকার উদ্দেশ্যে
রওনা দিয়ে দিনটাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চান, তবে রাতের সুন্দরবন এক্সপ্রেস
বেছে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রাতের ট্রেনে আরামে ঘুমাতে ঘুমাতে
যাত্রা শেষে একদম ভোরের শান্ত বাতাসে ঢাকায় পৌঁছানো যায়। এতে একদিকে যেমন
আপনার দিনের মূল্যবান সময় কিছুটা বাঁচবে, ঠিক তেমনি ভোরের ঢাকায় নেমে ফ্রেশ
হয়ে অফিস বা যেকোনো জরুরি কাজ খুব সহজে সেরে ফেলা সম্ভব।
অন্যদিকে, আপনি যদি রাতের জার্নি না পছন্দ করেন এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সবুজ
দৃশ্য দেখতে দেখতে বেশ আরামে সফর করতে চান, তবে দিনের বেলায় চলাচলকারী
ট্রেনগুলো চমৎকার বিকল্প। বিশেষ করে দুপুরের চিত্রা এক্সপ্রেস বা বিকালের
বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটো বেশ পরিচ্ছন্ন, দ্রুতগতির এবং সময়সূচী মেনে
চলার জন্য পরিচিত। বিশেষ করে পরিবার, ছোট বাচ্চা কিংবা বয়স্ক কাউকে নিয়ে
যাওয়ার সময় দিনের আলোতে যাত্রা করাটা অনেক বেশি নিরাপদ, সহজ এবং মানসিক
প্রশান্তির মনে হয়।
অনলাইনে চুয়াডাঙ্গা ঢাকা ট্রেন টিকিট কাটা
টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির প্রয়োজন এখন আর নেই, কারণ ঘরে বসেই
সহজে অনলাইনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা ট্রেনের টিকিট নেওয়া যায়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা মোবাইল
অ্যাপ ‘Rail Sheba’ ব্যবহার করে মুহূর্তেই আপনার পছন্দের আসন বুক করতে পারবেন।
তবে প্রথমে আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে, যেখানে আপনার নাম, মোবাইল
নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের সঠিক তথ্য দিয়ে দ্রুত
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সঠিকভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর লগইন করে আপনার যাত্রার তারিখ, প্রস্থান
স্টেশন 'Chuadanga' এবং গন্তব্য হিসেবে 'Dhaka' নির্বাচন করতে হবে। এরপর
ট্রেনগুলোর তালিকা থেকে আপনার সুবিধামত ট্রেনের সিট নির্বাচন করে পেমেন্ট
সম্পন্ন হলে টিকিট আপনার কাছে চলে আসবে। বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো ব্যাংক
কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজেই টিকিটের মূল্য পরিশোধ করা যায়। পেমেন্ট সফল হওয়ার
সাথে সাথে আপনার রেজিস্টার্ড নম্বরে বা ইমেইলে একটি ই-টিকিট চলে আসবে, যা
প্রিন্ট করে বা স্টেশনে দেখিয়ে অনায়াসেই ট্রেনে চড়ে বসতে পারবেন। আপনি যদি এখনও
না বুঝতে পারেন তাহলে
এখানে ক্লিক করুন
এখানে আমি প্রত্যেকটা বিষয়ে আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি।
লাইভ ট্রেন লোকেশন ট্র্যাকিং করার পদ্ধতি
ট্রেন ঠিক এই মুহূর্তে কোথায় আছে বা স্টেশনে পৌঁছাতে আর কত দেরি তা জানার
জন্য লাইভ ট্র্যাকিং পদ্ধতিটি দারুণ এক মুশকিল-আসান ব্যাপার! অনেক সময় ট্রেন
একটু দেরি করলে স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার ক্লান্তি এড়াতে এই ট্র্যাকিং
সিস্টেমটি বেশ কাজে দেয়। যেমন मान নিন আপনি সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫) ট্রেনের
লাইভ লোকেশন চেক করতে চান, তাহলে খুব সহজেই মোবাইলের মাধ্যমে এটি দেখতে
পারবেন।
এর জন্য মোবাইল থেকে একটি ছোট মেসেজ বা এসএমএস পাঠিয়ে খুব দ্রুত ট্রেনের
আপডেট জেনে নেওয়া যায়। আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বড় হাতের অক্ষরে TR
লিখে স্পেস দিয়ে ট্রেনের নম্বর বা নাম (যেমনঃ TR 725) লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে
১৬৩১৮ নম্বরে। কিছুক্ষণ পর ফিরতি একটি এসএমএসে ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনের
কাছাকাছি আছে, তার গতিবিধি এবং আনুমানিক সময়ের একদম সঠিক তথ্য আপনার ফোনে চলে
আসবে।
চুয়াডাঙ্গা ঢাকা ট্রেন যাত্রায় দরকারী টিপস
একটি দারুণ ও আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করার জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কিছু
প্রস্তুতি নিয়ে রাখা সব সময়ই বুদ্ধিমানের কাজ। ভ্রমণ শুরু করার বেশ কিছুটা
আগেই সঠিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
সম্পর্কে একদম পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন, যেন শেষ সময়ে অযথা তাড়াহুড়ো বা
ট্রেন মিস হওয়ার মতো কোনো মানসিক চাপে পড়তে না হয়। এ ছাড়া আপনি যদি অনলাইনে
বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ই-টিকিট কেটে থাকেন, তবে সেটি আগেই ডাউনলোড করে
রাখা অথবা প্রিন্ট কপি সাথে নেওয়া বেশ সুবিধাজনক। একই সাথে যাত্রাপথে ট্রেনের
বর্তমান অবস্থা জানার জন্য ফোনে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স ও ইন্টারনেট ডেটা সচল
রাখা উচিত।
সফরের সময় নিজের মূল্যবান ব্যাগ, ল্যাপটপ, মানিব্যাগ কিংবা জরুরি জিনিসপত্র
সব সময় চোখের সামনে নিরাপদ স্থানে রাখা দরকার। মাঝপথের দীর্ঘ যাত্রায়
ক্লান্তি দূর করতে সাথে কিছু শুকনো হালকা খাবার, পানির বোতল এবং প্রয়োজন
অনুযায়ী টুকিটাকি ফার্স্ট এইড ওষুধ সাথে রাখা খুবই কাজের প্রমাণিত হয়। বিশেষ
করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে এবং প্ল্যাটফর্মে নিজের নির্ধারিত আসন
খুঁজে নিতে ট্রেন ছাড়ার অন্তত আধঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, পুরো যাত্রাকে একদম নিশ্চিন্ত ও আনন্দময় করতে আপডেট
চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী মেনে সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়াই হলো সেরা
কৌশল।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট রিফান্ড করার নিয়ম
বেশ কিছু সময় হঠাৎ করে জরুরি কাজ পড়ে গেলে অথবা পরিকল্পনা পরিবর্তন হলে কেনা
টিকিটটি বাতিল বা ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। অনলাইনে কেনা ট্রেনের টিকিট
রিফান্ড করা এখন খুবই সহজ ও সুবিধাজনক, এতে স্টেশনে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে লগইন করে 'Purchase
History' থেকে কয়েকটি ক্লিকে টিকিট ফেরত বা বাতিলের আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব।
তবে টিকিট রিফান্ডের ক্ষেত্রে রেলওয়ের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও কর্তনের নীতি
প্রযোজ্য। ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের কতক্ষণ আগে আপনি টিকিট বাতিল করছেন, এর
ভিত্তিতে টিকিটের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ প্রসেসিং ফি হিসেবে কেটে
বাকি টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়। ফেরত হওয়া এই অর্থ সাধারণত পরবর্তী
৮ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আপনার ব্যবহৃত মাধ্যম যেমন বিকাশ, নগদ অথবা ব্যাংক
কার্ডে অটোমেটিক যুক্ত হয়ে যায়। আশা করি বিষয়টা আমি খুব সুন্দর ভাবে আপনাকে
বুঝাতে পেরেছি।
চুয়াডাঙ্গা ঢাকা ট্রেন ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী
- প্রশ্ন ১ঃ চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা যেতে ট্রেনে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ সাধারণত ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।
- প্রশ্ন ২ঃ এই রুটে কোন কোন আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে?
উত্তরঃ সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস।
- প্রশ্ন ৩ঃ চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য কত?
উত্তরঃ শোভন চেয়ার শ্রেণির টিকিটের মূল্য ৩৯০ টাকা।
- প্রশ্ন ৪ঃ কত দিন আগে ট্রেনের অনলাইন টিকিট কাটা যায়?
উত্তরঃ যাত্রার ঠিক ১০ দিন আগে সকাল ৮টা থেকে টিকিট কাটা যায়।
- প্রশ্ন ৫ঃ যেকোনো তথ্যের জন্য রেলওয়ের হেল্পলাইন নম্বর কোনটি?
উত্তরঃ যেকোনো সহায়তার জন্য ১৬৩১৮ নম্বরে কল করতে পারেন।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত যাতায়াত করার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা
ট্রেনের সময়সূচী সঠিক জানা থাকলে যাত্রাটা অনেকটাই ঝামেলামুক্ত ও আরামদায়ক
হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগতভাবে আমি যখনই ঢাকায় কোনো জরুরি কাজে বের হই, আগে থেকেই
ট্রেনের সময় ও সিটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিই। নিজের দেখা অভিজ্ঞতা থেকে
বলছি, অনলাইনে ই-টিকিট কেটে এবং মোবাইল অ্যাপ দিয়ে ট্রেনের লাইভ লোকেশন
ট্র্যাকিং করে সফর করলে স্টেশনে অযথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার মতো
বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। আপনি যদি কিছুটা নিরিবিলি আর শান্তিতে রাতে ঘুমাতে
ঘুমাতে পৌঁছাতে চান, তবে রাতের সুন্দরবন এক্সপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন যা আমি
নিজেও অসংখ্যবার করে উপকৃত হয়েছি।
আমার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণ টিপসগুলো মাথায় রেখে আপনি যদি একটি
সুন্দর ট্রাভেল প্ল্যান সাজান, তবে আপনার সফরটাও বেশ আনন্দময় হবে। যাত্রা
শুরু করার আগে সবসময় রেলওয়ের অফিশিয়াল সাইট থেকে আপডেট চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা
ট্রেনের সময়সূচী আর ছুটির দিনগুলো আরেকবার পরখ করে নেবেন, কারণ এটি আপনাকে
শেষ মুহূর্তের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা থেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখবে। সঠিক
তথ্যের ওপর ভরসা রেখে প্রস্তুতি নিলে ট্রেন জার্নি শুধু একটা যাতায়াত থাকবে
না, বরং আপনার স্মৃতিতে চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। আপনার শুভ ও নিরাপদ
ট্রাভেলের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url