খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬

খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের সঠিক দাম ও যাত্রার গোপন টিপস জেনে নিন সহজেই। উত্তরের এই দীর্ঘ ও মনোরম ট্রেন ভ্রমণকে সম্পূর্ণ নিরাপদ, আরামদায়ক ও ঝামেলাহীন করতে আমাদের এই বিশেষ গাইডলাইনটি তৈরি করা হয়েছে।
খুলনা-টু-চিলাহাটি-ট্রেনের-সময়সূচী
অনলাইনে টিকেট বুকিং থেকে শুরু করে লাইভ ট্রেন ট্র্যাকিংয়ের সব আপডেট জানতে এ পুরো লেখাটি পড়ে চমৎকার এই ট্রেন যাত্রার সব আপডেট জেনে নিয়ে আপনার ভ্রমণকে সম্পূর্ণ চাপমুক্ত করুন।

পেজ সূচীপত্রঃ খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী?

খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী নিয়মিত ২টি আন্তঃনগর ও ১টি মেইল ট্রেনের ছাড়ার সময়,খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনের হালনাগাদ তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ
ট্রেন ও নম্বর ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন
রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭) ০৭:১৫ (সকাল) ০৫:০৫ (বিকাল) বৃহস্পতিবার
সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭) ০৯:১৫ (রাত) ০৬:৪৫ (সকাল) সোমবার
রকেট মেইল (৩২৩) ০৯:৩০ (সকাল) ০৮:০০ (রাত) নেই (প্রতিদিন)

খুলনা থেকে চিলাহাটি সরাসরি যাতায়াতের জন্য রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭) ও সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭) আন্তঃনগর ট্রেন দুটি বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। তবে রকেট মেইল (৩২৩) ট্রেনটি চিলাহাটি পর্যন্ত যায় না, এটি পার্বতীপুর গিয়ে শেষ হয়।রেলওয়ের সিদ্ধান্ত বা বিশেষ কোনো কারণে ট্রেনের সময়সূচীতে সাময়িক পরিবর্তন বা বিলম্ব হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে Rail Sheba App বা ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস দিয়ে লাইভ লোকেশন যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

চিলাহাটি টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী?

চিলাহাটি থেকে দূরপাল্লার এই ট্রেনের ভ্রমণটা বরাবরই আমার খুব পছন্দের। তবে সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো আর ট্রেনের সূচী জানা না থাকলে পুরো আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। আপনাদের যেন স্টেশনে গিয়ে অযথা অনিশ্চয়তায় বসে থাকতে না হয়, সেজন্যই চিলাহাটি টু খুলনা রুটের রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেসের একদম তাজা ও সঠিক সময়সূচী, ছাড়ার সময় আর ছুটির দিনগুলো নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে দিলাম। ভাই টেবিলটা থেকে আপনার কাঙ্খিত উত্তরটি দেখে নিন।
ট্রেন ও নম্বর ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন
সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৮) ৬:৩ (সন্ধ্যা) ০৪:১০ (ভোর) সোমবার
রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৮) ০৮:০০ (সকাল) ০৬:২৫ (বিকাল) বৃহস্পতিবার

ট্রেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা সবসময় বলি রেলওয়ে কখন কোনো কারণে শিডিউল সামান্য বদলে ফেলে, তা আগে থেকে বলা কঠিন। তাই রওনা দেওয়ার অন্তত আধঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতি অনুযায়ী যেকোনো ট্রেনের সময়সূচী সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে। তাই যাত্রার পূর্বে চূড়ান্ত ছাড়ার সময় ও আসন নিশ্চিত করতে সরাসরি বাংলাদেশ রেলওয়ে ই-টিকিট পোর্টাল অথবা Rail Sheba মোবাইল অ্যাপ চেক করে নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?

খুলনা থেকে চিলাহাটি রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর (রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস) আসনভেদে নির্ধারিত টিকিটের হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো নন-এসি টিকিটে কোনো অতিরিক্ত চার্জ না থাকলেও এসি ক্লাসের ভাড়ার সাথে ১৫% সরকারি ভ্যাট যুক্ত রয়েছে। 
আসন মূল ভাড়া ভ্যাটসহ ভাড়া মন্তব্য
শোভন ৳২৪৫ ৳২৪৫ নন-এসি
শোভন চেয়ার ৳২৯৫ ৳২৯৫ চেয়ার
স্নিগ্ধা ৳৫৬৪ ৳৬৪৯ এসি চেয়ার
এসি সিট ৳৬৭৫ ৳৭৭৭ এসি আসন
এসি বার্থ ৳১,০১৪ ৳১,১৬৭ এসি বেড

এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে ই-টিকিট পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট কাটলে প্রতি টিকিটে ২০ টাকা ব্যাংক সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হবে।খুলনা থেকে চিলাহাটির সরাসরি মেইল ট্রেন নেই। তবে রকেট মেইলে খুলনা থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ভাড়া আনুমানিক ৳১১০-১২০। সেখান থেকে কানেক্টিং ট্রেনে চিলাহাটি যেতে আরও ৳৩০-৪০ খরচ হবে।কম খরচে ভ্রমণ করতে চাইলে এই অপশনটি নেওয়া যেতে পারে।

খুলনা টু চিলাহাটি রুটে কোন আসনটি সেরা?

খুলনা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত দীর্ঘ ৮-৯ ঘণ্টার এই ভ্রমণটা আমি বহুবার করেছি। সত্যি বলতে, দীর্ঘ যাত্রায় একটা ভুল আসন পুরো ভ্রমণের আনন্দটাই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই আপনার বাজেট আর সুবিধার কথা ভেবে সঠিক সিট বেছে নিতে আমার এই ছোট অভিজ্ঞতাটুকু কাজে লাগাতে পারেন:

আরামদায়ক সফরের জন্য আমার প্রথম পছন্দ (স্নিগ্ধা / AC Chair): এত লম্বা জার্নিতে ক্লান্তি এড়াতে চাইলে চোখ বন্ধ করে স্নিগ্ধা বেছে নিন। সিটগুলো চমৎকার, পেছনে একটু হেলান দিয়ে আরামে যাওয়া যায় আর এসি বগি হওয়ায় ধুলাবালি বা গরমের কোনো ঝামেলা থাকে না।
খুলনা-টু-চিলাহাটি-ট্রেনের-সময়সূচী
কম খরচে সেরা অভিজ্ঞতা (শোভন চেয়ার): আপনার বাজেট যদি কিছুটা কম হয়, তবে শোভন চেয়ার আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা। বিশেষ করে দিনের বেলা রূপসা এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করলে জানালার পাশে বসে উত্তরবঙ্গের রূপ দেখতে দেখতে সময় কেটে যাবে টেরই পাবেন না।

রাতের ভ্রমণের জন্য নিশ্চিন্ত ঘুম (এসি বার্থ / কেবিন): আপনি যদি সীমান্ত এক্সপ্রেসে রাতের বেলা সফর করেন এবং পৌঁছানোর পর পর কাজের জন্য একদম ফ্রেশ থাকতে চান, তবে এসি বার্থ নেওয়াটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আমার ব্যক্তিগত  অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলি বাজেট যদি খুব বেশি টানাটানি না হয়, তবে দিন বা রাত যেকোনো যাত্রার জন্যই স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) বুক করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের যাত্রার বিরতি স্টেশন?

আপনি কি খুলনা থেকে চিলাহাটি যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? প্রায় সাড়ে চারশ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ ট্রেন যাত্রা কিন্তু কম সময়ের নয়! ৮ থেকে ৯ ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দেওয়ার সময় খুলনা ছাড়ার পর ট্রেনটি উত্তরবঙ্গের কোথায় কোথায় থামবে, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতুহল থাকে। খুলনা থেকে ছেড়ে শেষ গন্তব্য চিলাহাটি পৌঁছানো পর্যন্ত ট্রেনটি যেসব মূল স্টেশনে থামে, পর পর দেখে নেওয়া যাকঃ

১. খুলনা জংশন, ২. নওয়াপাড়া, ৩. যশোর জংশন, ৪. মোবারকগঞ্জ, ৫. কোটচাঁদপুর, ৬. দর্শনা জংশন, ৭. চুয়াডাঙ্গা, ৮. আলমডাঙ্গা, ৯. পোড়াদহ জংশন, ১০. ভেড়ামারা, ১১. ঈশ্বরদী জংশন, ১২. নাটোর, ১৩. আহসানগঞ্জ, ১৪. সান্তাহার জংশন, ১৫. আক্কেলপুর, ১৬. জয়পুরহাট, ১৭. পাঁচবিবি, ১৮. বিরামপুর, ১৯. ফুলবাড়ী, ২০. পার্বতীপুর জংশন, ২১. সৈয়দপুর, ২২. নীলফামারী, ২৩. ডোমার এবং ২৪. চিলাহাটি।
দীর্ঘ এই ভ্রমণকে আরামদায়ক করতে আপনার সুবিধামতো সিট বুক করে নিন আর বড় জংশনগুলোতে (যেমনঃ যশোর, ঈশ্বরদী, সান্তাহার ও পার্বতীপুর) ট্রেন ১০-১৫ মিনিট থামে। তাই যাত্রা বিরতিতে হাত-মুখ ধোয়া বা চা-নাস্তা কেনার জন্য এই স্টেশনগুলোই সেরা। আপনার যাত্রা সুন্দর হোক।

অনলাইনে খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের টিকেট কাটিং?

অনলাইনে খুলনা টু চিলাহাটির ট্রেনের টিকিট কাটা কিন্তু একদমই কোনো কঠিন কাজ নয়! একটু নিয়ম জেনে নিয়ে নিজেই ঘরে বসে ২ মিনিটে কেটে ফেলতে পারবেন। আসুন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহজভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছি।সবচেয়ে প্রথম কাজ হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) এ যাওয়া অথবা আপনার ফোনে Rail Sheba অ্যাপটি নামিয়ে নেওয়া।

অ্যাকাউন্ট তৈরি ও এনআইডি ভেরিফিকেশন (একবারের কাজ)

বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী এখন এনআইডি ছাড়া টিকিট কাটা যায় না। অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ঢুকলেই নিবন্ধনের অপশন পাবেন। সেখানে আপনার নাম, সঠিক মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিন। সিস্টেমে আপনার এনআইডি সার্ভারের সাথে মিলে গেলেই অ্যাকাউন্ট সচল হয়ে যাবে। এটি শুধু প্রথমবার করার সময়ই লাগবে, পরবর্তীতে এই অ্যাকাউন্ট দিয়েই সবসময় লগইন করতে পারবেন। একেবারে খুব সহজ কোন ঝামেলা ছাড়াই।

রুট ও ট্রেন নির্বাচন

লগইন করার পর যাত্রার স্থান ‘Khulna’ এবং গন্তব্য ‘Chilahati’ লিখে তারিখ সিলেক্ট করবেন। এখানে একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন খুলনা থেকে চিলাহাটি রুটে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলেঃ রূপসা এক্সপ্রেস (যা সকালে ছাড়ে) এবং সীমান্ত এক্সপ্রেস (যা রাতে ছাড়ে)। আপনার সময়ের সুবিধামতো যেকোনো একটি ট্রেন বেছে নিতে পারেন। আপনি কোন সময়ে কখন যাবেন সে অনুযায়ী।

বগি ও আসন (Seat) বাছাই

সার্চ করার পর শোভন চেয়ার (S-CHAIR) বা স্নিগ্ধা এসি (SNIGDHA) যা-ই বেছে নেন না কেন, বগির ভেতরের নকশা দেখতে পাবেন।
  • সবুজ বা খালি লাল চিহ্নিত ঘরগুলো ফাঁকা সিট নির্দেশ করে।
  • জানালার পাশের সিট পছন্দ করতে চাইলে বগির ম্যাপ দেখে বেছে নেবেন।
  • একবারে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কাটা যায়।

সহজে ও নিরাপদে পেমেন্ট করা

সিট সিলেক্ট করার পর পেমেন্ট পেজে নিয়ে যাবে। সেখানে আপনার বিকাশ, নগদ বা রকেটের নম্বর দিলে মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) কোড আসবে। কোড ও পিন নম্বর দিলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই টাকা কেটে টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে। ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করতে চাইলেও পদ্ধতি একই।

টিকিট নামানো ও ভ্রমণের নিয়ম

পেমেন্ট সফল হলে স্ক্রিনেই ‘Download Ticket’ অপশন পাবেন। এছাড়া আপনার ইমেইলেও পিডিএফ ফাইল চলে যাবে। ভ্রমণের দিন টিকিটের কপিটি ফোনে সেভ করে রাখাই যথেষ্ট, প্রিন্ট করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সাথে যে এনআইডি দিয়ে টিকিট কেটেছেন, তার মূল কপি বা ছবি ফোনে রাখা ভালো, কারণ চেকার কখনো দেখতে চাইতে পারেন।

খুলনা ও চিলাহাটি স্টেশনের খাবার ও হোটেল সুবিধা?

খুলনা জংশন থেকে বের হয়ে পাওয়ার হাউস মোড়ের দিকে গেলেই মানসম্মত অসংখ্য রেস্তোরাঁ চোখে পড়বে। সেখানে খুলনা অঞ্চলের বিখ্যাত চুইঝালের খাসি ও গরুর মাংস, রূপসা নদীর তাজা মাছ কিংবা হাঁসের মাংসের চমৎকার স্বাদ নেওয়া যায়। এছাড়া ২৪ ঘণ্টাই স্টেশনের প্রধান ফটকের সামনে গরম পরোটা, সিঙ্গাড়া ও দুধ-চা পাওয়া যায়। স্টেশনের একদম কাছেই স্টেশন রোডে কম খরচে থাকার জন্য বেশ কিছু বাজেট আবাসিক হোটেল ও রেস্টহাউস রয়েছে। 
খুলনা-টু-চিলাহাটি-ট্রেনের-সময়সূচী
তবে পরিবার নিয়ে আরও একটু উন্নত ও আরামদায়ক পরিবেশে থাকতে চাইলে ১০-১৫ মিনিটের দূরত্বে রয়েল মোড় বা শিববাড়ি মোড় এলাকার প্রিমিয়াম হোটেলগুলোতে ওঠাই সেরা সিদ্ধান্ত।অন্যদিকে, সীমান্ত ঘেঁষা চিলাহাটি স্টেশনের বাইরে ছোট একটি বাজার রয়েছে। সেখানকার স্থানীয় হোটেলগুলোতে একদম ঘরোয়া পরিবেশের তাজা খাবার যেমন ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, ঘন ডাল, দেশি মুরগির ঝোল ও স্থানীয় পুকুরের মাছ পাওয়া যায়। বিশেষ করে সকালে ট্রেন থেকে নেমে বাজারের মিষ্টির দোকানে টাটকা পরোটা, ভাজি আর গরম দুধ-চা খেলে দারুণ তৃপ্তি মিলবে। 
চিলাহাটি নিরিবিলি এলাকা হওয়ায় স্টেশনের কাছেই অল্প খরচে রাত কাটানো বা ফ্রেশ হওয়ার মতো ৩-৪টি সাধারণ মানের বোর্ডিং রয়েছে। তবে এসি রুম বা ভালো মানের হোটেলের সুযোগ-সুবিধা পেতে চাইলে চিলাহাটিতে নেমে নীলফামারী সদর কিংবা সৈয়দপুর শহরে চলে যাওয়া সবচেয়ে ভালো হবে।

এসএমএসে ট্রেনের লাইভ লোকেশন দেখার সহজ নিয়ম?

মোবাইলে সাধারণ মেসেজ পাঠিয়েও যে চোখের পলকে ট্রেনের লাইভ লোকেশন জেনে নেওয়া যায়, তা কিন্তু অনেকেরই অজানা আপনি যেকোনো নরমাল বা বাটন ফোন দিয়েই এই কাজটা নিমেষেই করে ফেলতে পারবেন। আসুন, একদম সহজ নিয়মে বুঝিয়ে দিচ্ছি কীভাবে মেসেজটা পাঠাবেনঃ

 ১ঃ মেসেজ অপশনে যান
আপনার মোবাইলের Message অপশনে গিয়ে Create New Message সিলেক্ট করুন।

২ঃ নিয়ম মেনে টাইপ করুন
বক্সে বড় হাতের অক্ষরে লিখুন: TR এরপর একটি স্পেস (খালি জায়গা) দিয়ে আপনার ট্রেনের নম্বরটি বসিয়ে দিন। উদাহরণঃ মনে করুন আপনি রূপসা এক্সপ্রেসে আছেন, যার নম্বর ৭২৭। তাহলে বক্সে লিখবেন TR 727)

৩ঃ পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে
লেখা শেষ হলে মেসেজটি 16318 নম্বরে সেন্ট (Send) করে দিন।

ফিরতি মেসেজে কী দেখতে পাবেন?
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রেলওয়ে থেকে একটি ফিরতি মেসেজ আসবে। সেখানে খুব সুন্দর করে লেখা থাকবে ট্রেনটি এই মুহূর্তে ঠিক কোন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে বা কোন স্টেশন অতিক্রম করছে, সামনে কোন স্টেশন আসছে এবং ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কত মিনিট লেট বা লেট ছাড়াই সঠিক সময়ে চলছে।যেকোনো সিম (বিকাশ/নগদ রিচার্জ থাকে যেগুলোতে) থেকেই এই মেসেজ পাঠানো যায়।প্রতিটা মেসেজে ৫ টাকার মতো ব্যালেন্স কাটে, রিচার্জ নিশ্চিত করে নিয়ে ট্রেনের আপডেট নিতে পারেন।

এই যাত্রা বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু বিশেষ প্রশ্ন উত্তর?

১. খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী কী?
উত্তরঃ খুলনা স্টেশন থেকে সকালে রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭) ছাড়ে সকাল ৭ঃ১৫ মিনিটে এবং রাতে সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭) ছাড়ে রাত ৯ঃ১৫ মিনিটে।

২. চিলাহাটি পৌঁছাতে মোট কত সময় লাগে?
উত্তরঃ সময়সূচী অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৪শ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ যাত্রায় ট্রেনভেদে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। এরমধ্যে পৌঁছে যাবেন খুব সহজে আপনার গন্তব্যে।

৩. খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী পৌঁছানোর সময় কখন?
উত্তরঃ সময়সূচী অনুযায়ী সকালের রূপসা এক্সপ্রেস চিলাহাটি পৌঁছায় বিকেল ৫:০০ টায় এবং রাতের সীমান্ত এক্সপ্রেস পৌঁছায় ভোর ৬:০০ টায়।

৪. এই রুটের টিকিটের ভাড়া কেমন?
উত্তরঃ আসনশ্রেণিভেদে ভাড়া ভিন্ন হয় শোভন চেয়ার প্রায় ৪০০-৪৫০ টাকা, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) প্রায় ৮০০-৮৫০ টাকা এবং এসি সিট/বার্থের ভাড়া ১০০০-১২০০ টাকার মতো।
৫. ট্রেনে কি খাবারের সুব্যবস্থা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনে খাবার বিক্রির ক্যাফেটেরিয়া বগি রয়েছে এবং বয়রা প্রতিটি বগিতে গিয়ে চা, নাস্তা ও ভারি খাবার বিক্রি করেন।

৬. অনলাইনে কত দিন আগে টিকিট কাটা যায়?
উত্তরঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা ‘Rail Sheba’ অ্যাপ থেকে যাত্রার ঠিক ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় টিকিট অনলাইনে পাওয়া যায়। এর মাঝে যে কোন সময় আপনি পাবেন।

যে বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?

আমার দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সঠিক তথ্য জানা থাকলে দীর্ঘ দূরত্বের এই ভ্রমণটি ভীষণ আনন্দদায়ক হতে পারে। খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী ও ট্রেনের বর্তমান রানিং স্ট্যাটাস আগে থেকে জেনে যাত্রার পরিকল্পনা করলে স্টেশনে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয় না। নিজে ভ্রমণের সময় দেখেছি, সকালের রূপসা এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করলে দিনের আলোয় বাইরের চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়, আর রাতে সীমান্ত এক্সপ্রেসে আরামসে ঘুমিয়ে সময় বাঁচিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। যাত্রায় নিজের সাথে কিছু হালকা নাস্তা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে রাখবেন।

আপনি যদি প্রথমবার এই রুটে যাতায়াত করতে চান, তবে অনলাইন থেকে টিকিটের সুবিধা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেব। খুলনা টু চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী খেয়াল রেখে যাত্রার অন্তত ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় ‘Rail Sheba’ অ্যাপ বা রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অগ্রিম টিকিট বুক করে নিলে সিট পাওয়া নিয়ে একদম দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা যায়। ভ্রমণ সংক্রান্ত আরও খুঁটিনাটি ও আপডেট তথ্য সবসময় হাতের কাছে পেতে ইনফোনেস্ট আইটির সাথেই থাকুন। আপনার নিরাপদ, নিখুঁত ও স্মৃতিমধুর হোক!

 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Rifat Mhamud
Md. Rifat Mhamud
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার ও SEO এক্সপার্ট। ওয়েবসাইট, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও প্রযুক্তি নিয়ে নিয়মিত কাজ ও লেখালেখি করি। এই ওয়েবসাইটে আমার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত শেয়ার করে থাকি।