বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ও নতুন ভাড়া তালিকা ২০২৬

বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬, নতুন কেবিন ও ডেক ভাড়া এবং প্রধান লঞ্চগুলোর বুকিং নম্বর এক পেজে জানুন। অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়মসহ আপডেটেড তথ্য দেখুন।
বরিশাল-টু-ঢাকা-লঞ্চ-সময়সূচী
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। সূচিপত্র দেখে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য আপনি সরাসরি দেখতে পারেন। পর্যায়ক্রমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করতে পারেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ও নতুন ভাড়া তালিকা

বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ও ছাড়ার সময়

বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী জেনে রাখা যেকোনো যাত্রীর জন্যই সবচেয়ে জরুরি কাজ। বরিশাল থেকে নদীপথে ঢাকায় যাওয়া এ যেন এক দারুণ অনুভূতির নাম। রাতের শান্ত নদী, মৃদু বাতাস, আর লঞ্চের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পথ চলার আনন্দই আলাদা! লঞ্চ মিস করার ঝামেলা যে কতটা বিরক্তিকর, তা আমরা কমবেশি সবাই জানি। তাই আপনাদের নিশ্চিন্ত যাত্রার জন্য নতুন সময়সূচী নিচে গুছিয়ে দেওয়া হলো, যাতে সঠিক সময়ে ঘাটে পৌঁছে আরামে গন্তব্যে যেতে পারেন।
লঞ্চের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময়
এম. ভি. মানামী রাত ৮:৪৫ ভোর ৪:৩০
সুন্দরবন-১৬ রাত ৯:০০ ভোর ৫:০০
পারাবত-১২/১৮ রাত ৯:০০ ভোর ৫:১৫
অ্যাডভেঞ্চার-৯ রাত ৯:০০ ভোর ৫:০০
সুরভী-৯ রাত ৮:৪৫ ভোর ৪:৪৫
কীর্তনখোলা-১০ রাত ৯:০০ ভোর ৫:১৫
খাতায় বা কাগজে সময় ৮:৪৫ বা ৯:০০ টা লেখা থাকলেও, আপনি চেষ্টা করবেন সন্ধ্যা ৭:৩০ থেকে ৮:০০ টার মধ্যে ঘাটে পৌঁছে যেতে। বিশেষ করে আপনার যদি কেবিন বুকিং করা থাকে, তবে একটু আগেভাগে কেবিনে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর ডেকের যাত্রী হলে তো কথাই নেই, ভালো জায়গা পেতে হলে সন্ধ্যার পরপরই ঘাটে যাওয়া ভালো।

বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চের নতুন ভাড়া তালিকা

বর্তমানে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে যাত্রী সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সিট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আপনি সাধারণ ডেকে অল্প খরচে খোলা বাতাসে যেতে পারেন, আবার চাইলে নিজের প্রাইভেসি ও আরামের জন্য কেবিন বা ভিআইপি স্যুটও নিতে পারেন। নিচে যাত্রীদের সুবিধার জন্য হালনাগাদ ভাড়ার তালিকাটি তুলে ধরা হলোঃ
সিটের শ্রেণি ভাড়া বিশেষত্ব
ডেক ৳ ২৫০-৩০০ সাশ্রয়ী
সোফা ৳ ৫০০-৬০০ আরামদায়ক
সিঙ্গেল কেবিন ৳ ১,০০০-১,২০০ ১ জন (এসি)
ডাবল কেবিন ৳ ২,০০০-২,২০০ ২ জন (এসি)
ফ্যামিলি কেবিন ৳ ২,৫০০-৩,০০০ পরিবারের জন্য
ভিআইপি কেবিন ৳ ৪,৫০০-৭,০০০ ফাইভ স্টার
সাধারণত স্বাভাবিক সময়ে সরাসরি ঘাটে এসে সহজেই পছন্দমতো কেবিন বা সিটের টিকিট পাওয়া যায়। তবে কোনো ছুটির দিন বা উৎসবের সময়ে যেতে চাইলে একটু আগেভাগেই কেবিন বুক করে নেওয়া ভালো। তাছাড়া লঞ্চের বারান্দায় বসে রাতের নদীর হিমশীতল হাওয়া আর স্নিগ্ধ পরিবেশ উপভোগ করার যে আনন্দ, তা এই বাজেটের মধ্যে সত্য়িই অতুলনীয়।

লঞ্চের অনলাইন টিকিট বুকিং করার নিয়ম

লঞ্চের টিকিট বুক করার ঝামেলা একদম নেই বললেই চলে! আগে যেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে বা ঘাটে গিয়ে টিকিট কাটতে হতো, এখন কিন্তু আপনি ঘরে বসেই আপনার হাতের মোবাইল ফোনটি দিয়ে খুব সহজে ২ মিনিটে টিকিট বুক করে নিতে পারেন। ধরুন, আমি আপনার পাশে বসেই সহজ ভাষায় দেখিয়ে দিচ্ছি কীভাবে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবেন 
  • ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যানঃ প্রথমে আপনার মোবাইলের Chrome ব্রাউজারে গিয়ে Shohoz.com সার্চ করুন অথবা আপনার bKash অ্যাপে ঢুকে 'Tickets' অপশন থেকে 'Launch' বেছে নিন।
  • রুট ও তারিখ সিলেক্ট করুনঃ 'From'-এ Barishal এবং 'To'-এ Dhaka নির্বাচন করুন। এরপর 'Date of Journey' থেকে আপনার ভ্রমণের তারিখটি বেছে নিয়ে 'Search Launch'-এ ট্যাপ করুন।
  • লঞ্চ ও সিট পছন্দ করুনঃ স্ক্রিনে ওইদিনের সব লঞ্চের তালিকা দেখতে পাবেন। আপনার পছন্দের লঞ্চটির (যেমন মানামী, পারাবত বা সুন্দরবন) পাশে থাকা 'View Seats'-এ ট্যাপ করে সিঙ্গেল, ডাবল কেবিন কিংবা সোফা সিলেক্ট করুন।
  • তথ্য দিনঃ আপনার নাম, সচল মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানাটি নির্ভুলভাবে লিখে দিন।
  • পেমেন্ট সম্পন্ন করুনঃ বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে দিন।
পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথেই আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি কনফার্মেশন মেসেজ এবং ইমেইলে ই-টিকিট চলে আসবে। যাত্রার দিন ঘাটে গিয়ে লঞ্চের কাউন্টারে শুধু এই ডিজিটাল মেসেজ বা টিকিটটি দেখালেই আপনাকে কেবিনের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

লঞ্চে যেতে কত সময় লাগে ও নৌপথের দূরত্ব

বরিশাল থেকে নদীপথে ঢাকায় পৌঁছাতে সাধারণ লঞ্চগুলোর প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। সাধারণত বরিশাল নৌ-টার্মিনাল থেকে রাতের লঞ্চগুলো রাত ৮ঃ৪৫ থেকে ৯ঃ০০ টার মধ্যেই যাত্রা শুরু করে এবং বিরতি ছাড়াই ভোর ৪ঃ৩০ থেকে ৫ঃ১৫ এর মধ্যে সদরঘাটে পৌঁছায়। নদীর পানি শান্ত বা আবহাওয়া অনুকূল থাকলে যাত্রাটি দ্রুত ও আরামদায়ক হয়, তবে শীতকালীন কুয়াশা বা বর্ষাকালের খারাপ আবহাওয়ায় মাঝে মাঝে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
বরিশাল-টু-ঢাকা-লঞ্চ-সময়সূচী
বরিশাল থেকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নদীপথটির দূরত্ব প্রায় ১৬৯ কিলোমিটার (বা প্রায় ৯১ নটিক্যাল মাইল)। ঢাকা-বরিশাল রুটের আধুনিক ও বিলাসবহুল লঞ্চগুলো আড়িয়াল খাঁ, মেঘনা ও বুড়িগঙ্গার বিশাল নদীগুলোর মধ্যে দিয়ে চলে যায়। যদিও সড়কপথের তুলনায় নদীবন্দরটির দূরত্ব কিছুটা বেশি, তবুও রাতে ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটায় এই দীর্ঘ যাত্রা দ্রুত শেষ হয় এবং যাত্রীরা সম্পূর্ণ সতেজ অবস্থায় ভোরে রাজধানীতে পৌঁছান। আশা করি আপনি বিষয়টা সম্পূর্ণ বুঝতে পেরেছেন।

লঞ্চে যেসব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন

বরিশাল থেকে ঢাকা রুটের আধুনিক বিলাসবহুল লঞ্চগুলো এখন শুধুমাত্র পারাপারের উপায় নয়, বরং এগুলোকে ভাসমান থ্রি-স্টার বা ফাইভ-স্টার হোটেল বলা যেতে পারে! প্রতিটি কেবিনে যাত্রীদের সর্বোচ্চ আরামদায়ক যাত্রার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) রুমের সাথে রয়েছে আধুনিক এলইডি টিভি, রিডিং লাইট, মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট, প্রশস্ত নরম বেড এবং সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন সংযুক্ত ওয়াশরুম। এছাড়া কিছু ভিআইপি স্যুটে ব্যক্তিগত বারান্দা (Balcony) রয়েছে, যেখানে বসে রাতের রূপালী নদী ও তারা আলো উপভোগ করা যায়।
শুধু কেবিনের মধ্যে নয়, পুরো লঞ্চজুড়ে রয়েছে অসাধারণ সব আধুনিক সুবিধা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ লঞ্চ এলাকা ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া রাখা হয়। বিনোদন ও খাদ্যের জন্য সেখানে সুশৃঙ্খল ক্যানটিন ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে তাজা খাবার এবং স্ন্যাক্স পাওয়া যায়। তাছাড়া কিছু বিলাসবহুল লঞ্চে ফ্রি ওয়াই-ফাই (Wi-Fi), এসি প্রার্থনা কক্ষ (নামাজ ঘর) এবং বাচ্চাদের জন্য ছোট কিডস জোন বা গেমিং স্পেসের সুবিধাও রয়েছে।

বিশেষ উৎসব ও ছুটির দিনের স্পেশাল সার্ভিস

ঈদ, পূজা বা দীর্ঘ ছুটির দিনগুলোতে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রীদের মারাত্মক চাপ তৈরি হয়। সাধারণ সময়ের তুলনায় এই সময়ে যাত্রীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) যৌথভাবে বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ব্লকের আওতায় বিশেষ উৎসব ও ছুটির দিনের স্পেশাল সার্ভিস চালু করে থাকে। এই সার্ভিসের আওতায় নিয়মিত নির্ধারিত সময়সূচীর বাইরেও অতিরিক্ত বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ডাবল-ডেকার লঞ্চের ট্রিপ যুক্ত করা হয়। ফলে হাজার হাজার ঘরমুখী মানুষ কোনো ভোগান্তি ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।
এই স্পেশাল শিডিউলে ডে-সার্ভিস বা দিনে চলার লঞ্চও যুক্ত করা হয়, যা সকালে ঘাট ছেড়ে বিকেলে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। তবে এই সময়ে কেবিন বা ভালো মানের সোফা সিটের টিকিটের বেশ সংকট দেখা দেয়। তাই নতুন বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী অনুযায়ী উৎসবের দিনে যাত্রা করতে এবং কেবিন নিশ্চিত পেতে যাত্রার অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন আগেই অগ্রিম টিকিট কাটা বা বুকিং সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে করে শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত চাপ কিংবা অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট কেনার বিড়ম্বনা থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে বরিশাল লঞ্চে ফেরত আসার সময়সূচী

ঢাকা থেকে বরিশালে আসার জন্য রাত এবং দিনের বেলা উভয় সময়েই বিলাসবহুল লঞ্চের সুব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকায় কর্মব্যস্ত দিন শেষে রাতে ঘুমিয়ে ভোরবেলা নিশ্চিন্তে বাড়ি ফেরার জন্য রাতের সার্ভিসগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়, তবে দিনের বেলা নদীর নির্মল হাওয়া ও প্রকৃতির রূপ দেখতে দেখতে যেতে চাইলে ডে-সার্ভিসগুলো দুর্দান্ত একটি পছন্দ।
লঞ্চের নাম ছাড়ার সময় (সদরঘাট) পৌঁছানোর সময় (বরিশাল)
এম. ভি. মানামী রাত ৮:৪৫ ভোর ৪:৩০
সুন্দরবন-১৬ রাত ৯:০০ ভোর ৫:০০
পারাবত-১২ / ১৮ রাত ৯:০০ ভোর ৫:১৫
অ্যাডভেঞ্চার-৯ রাত ৯:০০ ভোর ৫:০০
সুরভী-৯ রাত ৮:৪৫ ভোর ৪:৪৫
কীর্তনখোলা-১০ রাত ৯:০০ ভোর ৫:১৫
গ্রীন লাইন (ডে সার্ভিস) সকাল ৮:০০ দুপুর ২:৩০
ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রতিটি লঞ্চই সাধারণত ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়ের এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগেই ঘাটে এসে অবস্থান করে। তাই শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ এড়াতে এবং কেবিনে নিজের মালামাল নিয়ে নিরাপদে গুছিয়ে বসতে অন্তত ৩০ মিনিট আগেই ঘাটে উপস্থিত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

লঞ্চ ভ্রমণের পূর্বে জরুরি কিছু টিপস ও নিরাপত্তা

লঞ্চে কোনো ভ্রমণকে আরামদায়ক ও নির্বিগ্ন রাখতে যাত্রার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে রাতের ভ্রমণের জন্য এনআইডি (NID) বা অন্য পরিচয়পত্রের কপি, প্রযোজ্য ওষুধ এবং যথেষ্ট নগদ টাকা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যদি অনলাইনে বুকিং থাকে তাহলে টিকিটের ডিজিটাল কপির পাশাপাশি একটি প্রিন্ট কপি নিজে রাখা সুবিধাজনক, এতে কাউন্টারে ঝামেলা কমে। 
বরিশাল-টু-ঢাকা-লঞ্চ-সময়সূচী
এছাড়া যাত্রার নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে লঞ্চ ঘাটে পৌঁছানো উচিত, এতে অতিরিক্ত ভিড় ও তাড়াহুড়ি থেকে দূরে থেকে সহজেই নিজের কেবিন বা সিটে মালামাল সাজানো সম্ভব হয়।নৌপথে ভ্রমণের সময়ে বিনোদন উপভোগের পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা অত্যন্ত জরুরি। লঞ্চে ওঠার পর মাস্টার ব্রিজ ও কেবিনের পাশে থাকা লাইফ বয়া, লাইফ জ্যাকেট এবং জরুরি নির্গমনের পন্থাগুলো একবার দেখে নিন। অপরিচিত কারো দেয়া কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকুন এবং আপনার মূল্যবান সামগ্রী বা ওয়ালেট সবসময় নিরাপদে রাখুন।

এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর

১. প্রশ্নঃ বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন কয়টি লঞ্চ ছেড়ে যায়?
  • উত্তরঃ সাধারণত প্রতিদিন ৬ থেকে ৮টি লঞ্চ ছেড়ে যায়।
২. প্রশ্নঃ বরিশাল থেকে ঢাকা পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
  • উত্তরঃ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে।
৩. প্রশ্নঃ বরিশাল থেকে ঢাকার নদীপথের দূরত্ব কত?
  • উত্তরঃ এই নদীপথের দূরত্ব প্রায় ১৬৯ কিলোমিটার।
৪. প্রশ্নঃ লঞ্চের সিঙ্গেল কেবিনে কি ২ জন যাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ না, সিঙ্গেল কেবিন ১ জনের জন্য; ২ জনের জন্য ডাবল কেবিন লাগে।
৫. প্রশ্নঃ অনলাইন থেকে কীভাবে দ্রুত টিকিট কাটা যায়?
  • উত্তর: Shohoz.com ওয়েবসাইট বা বিকাশ (bKash) অ্যাপের মাধ্যমে সহজে টিকিট কাটা যায়।
৬. প্রশ্ন: ঈদ বা ছুটির দিনে কত দিন আগে কেবিন বুক করা উচিত?
  • উত্তর: যাত্রার অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন আগে বুকিং দেওয়া ভালো।

আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা

বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী মেনে আমার দীর্ঘদিনের যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ঢাকা-বরিশাল নদীপথের ভ্রমণ কেবল একটি যাত্রা নয়, বরং এটি এক অনন্য প্রশান্তির অভিজ্ঞতা। ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে রাতে লঞ্চের ডেকে দাঁড়িয়ে নদীর ঠান্ডা বাতাস আর থৈ থৈ জলরাশি উপভোগ করার আনন্দই আলাদা। বহুবার এই রুটে আসা-যাওয়া করে আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্রিম কেবিন বা সোফা বুকিং করে রাখলে পুরো জার্নিটা একদম দুশ্চিন্তামুক্ত ও আরামদায়ক হয়। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বা প্রিয়জনদের নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগেভাগেই প্ল্যান করে রাখাটা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী দেখে সময়মতো ঘাটে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় টিপসগুলো মেনে চললে আপনার নদীপথের সফর হবে চমৎকার ও স্মৃতিমধুর। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দেব অনলাইনে টিকিট কাটার পর সবসময় টিকিটের একটি ডিজিটাল কপি মোবাইলে রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে ঘাট থেকে কলার বা প্রিন্ট কপি নিয়ে নেবেন, এতে যেকোনো ঝামেলা এড়ানো সহজ হয়। আশা করি, আমার শেয়ার করা প্রতিটি তথ্য ও দিকনির্দেশনা আপনার ভ্রমণকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করতে সাহায্য করবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Rifat Mhamud
Md. Rifat Mhamud
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার ও SEO এক্সপার্ট। ওয়েবসাইট, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও প্রযুক্তি নিয়ে নিয়মিত কাজ ও লেখালেখি করি। এই ওয়েবসাইটে আমার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত শেয়ার করে থাকি।