ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী, ছুটির দিন ও স্টপেজ ২০২৬
২০২৬ সালের আপডেট ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন, টিকিট কাটার
সঠিক নিয়ম ও ভাড়ার তালিকা জানুন এক ক্লিকেই। ভ্রমণকে করুন ঝামেলারহিত এবং
প্রত্যেকটা তথ্য সুন্দর ও গোছালো ভাবে দেওয়া আছে।
এ বিষয়ে প্রত্যেকটা তথ্য একই পেজে যথাক্রমে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা আছে।
যা আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একবার মনোযোগ দিয়ে পড়লে। এ বিষয়ে আপনার মনে
থাকা সকল প্রশ্নের সমাধান পেয়ে যাবেন।
পেজ সূচীপত্রঃ ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী, ছুটির দিন ও স্টপেজ
- ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী?
- ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?
- ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের বিরোতি স্টেশন?
- যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য?
- ভাঙ্গা থেকে ঢাকা ফেরত আসার সময়সূচী?
- অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ মাধ্যম?
- এই যাত্রাপথে কিছু ট্রিকস এন্ড টেকনিক?
- এসএমএসের মাধ্যমে লাইভ লোকেশন?
- যাত্রীদের পড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর?
- আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?
ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী?
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে ট্রেনে ভাঙা এই চিত্তাকর্ষক অভিজ্ঞতার অনুভূতি
সত্যিই অনন্য! যদি আপনি এই যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তবে আপনি সঠিক
স্থানে এসেছেন। ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে আপনার পুরো যাত্রাটি
হবে একেবারে সহজ ও আনন্দময়। বর্তমানে এই রুটে ৩টি অসাধারণ আন্তঃনগর ট্রেন
নিয়মিত চলাচল করছে। আপনার সময়ের সাথে মিলে কোন ট্রেনটি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা
বুঝতে নিচের সহজ টেবিলটি আপনাকে সাহায্য করবে।
| ট্রেনের নাম | ঢাকা ছাড়ে | ভাঙ্গা পৌঁছায় | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|
| সুন্দরবন (৭২৬) | সকাল ৮:০০ | সকাল ৯:০৭ | বুধবার |
| মধুমতি (৭৫৫) | দুপুর ৩:০০ | বিকাল ৪:২৮ | শনিবার |
| বেনাপোল (৭৯৬) | রাত ১১:৩০ | রাত ১২:৪০ | বুধবার |
আশা করি টেবিলটি দেখেই আপনি আপনার সুবিধাজনক সময়টি নির্বাচনের কাজে সফল হয়েছেন।
ধরা যাচ্ছে, ঢাকা থেকে ভাঙ্গায় যেতে সাধারণত এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। তবে
আপনার ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের পূর্বে সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি মনে রাখবেন, যেন
স্টেশনে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি না হয়। বিশেষ করে দিনের বেলায় যাত্রা করলে অবশ্যই
পদ্মা সেতুর সুন্দর দৃশ্য দেখতে ভুলবেন না।
ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?
ঢাকা থেকে ট্রেনে ভাঙ্গা যাবেন ভাবছেন, কিন্তু সিটভেদে টিকিটের মূল্য কত হতে
পারে এটা নিয়ে চিন্তিত? দক্ষিণ্যে চিন্তা করবেন না! যেকোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা
করার প্রথম ধাপ হলো বাজেট সঠিকভাবে জেনে নেওয়া। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রুটে আপনি
বিভিন্ন ক্যাটাগরির সিট বা আসন নির্বাচন করতে পারবেন। আপনার বাজেট ও পছন্দের
ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী ভাড়ার তালিকাটি নিচে
সহজভাবে উপস্থাপন করা হলো।
| আসনের ধরন | ট্রেনের নাম | ভাড়ার পরিমাণ |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | সকল আন্তঃনগর ট্রেন | ২৬৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | সুন্দরবন ও বেনাপোল | ৫১২ টাকা |
| এসি সিট | সুন্দরবন ও বেনাপোল | ৬১০ টাকা |
আশা করি ভাড়া তালিকাটি দেখার পর আপনার বাজেট সম্পর্কে একটি পরিষ্কার বোধ হয়েছে।
আপনার যদি সাধারণ বা বাজেট-বান্ধব ভ্রমণ পছন্দ হয়, তাহলে ২৬৫ টাকার শোভন চেয়ারে
আরামসহ ভ্রমণ করতে পারবেন। আর গরমে যদি একটু স্বাচ্ছন্দ্যে এসি বাতাসে বসে
যাত্রা উপভোগ করতে চান, তবে ৫১২ টাকার স্নিগ্ধা এসি চেয়ার নেওয়া সবচেয়ে ভাল
হবে। অনলাইনে টিকিট কেনার সময় মূল ভাড়ার সঙ্গে সামান্য সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে
পারে, তাই টিকিট ক্রয়ের সময় সেটিকে মনে রাখলে আর কোনো সংকোচ থাকবে না। আশা করি
বিষয়টা সুন্দরভাবে বুঝতে পেরেছেন।
ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের বিরোতি স্টেশন?
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা যাওয়ার সময় ট্রেনগুলো কিছু সুন্দর স্টেশনে
অল্প কিছুক্ষণের জন্য থামে। যদি আপনি জানতে চান ঢাকা টু ভাঙ্গা রুটে ট্রেন
কোথায় কোথায় থামবে, তবে এই বিরতি স্টেশনগুলোর নাম জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মধুমতি এক্সপ্রেস যাত্রীদের সুবিধার জন্য এসব স্টেশনে বিরতি নেয়।
মাওয়া স্টেশনঃ পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তের মূল স্টেশন।
পদ্মা স্টেশনঃ সেতুর দক্ষিণ পাড়ের কাছের স্টেশন।
শিবচর স্টেশনঃ মাদারীপুরের শিবচর এলাকার জনপ্রিয় স্টপেজ।
ভাঙ্গা স্টেশনঃ এই রুটের মূল গন্তব্য ও জংশন।
ভ্রমণের সময় কোন ট্রেনে চড়ছেন তা জানলে স্টেশনের বিরতি নিয়ে আর কোন সমস্যা হবে
না। যদি আপনি মধ্যবর্তী স্টেশন যেমন মাওয়া বা শিবচরের দিকে যাচ্ছেন, তবে টিকিট
কাটার সময়ে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি অবশ্যই বেছে নেবেন। আর দ্রুত সময়ে ভাঙ্গা
পৌঁছাতে চাইলে সুন্দরবন বা বেনাপোল এক্সপ্রেস আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ বিকল্প।
যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য?
ঢাকা থেকে ভাঙ্গা যাওয়ার জন্য যখন টিকিট খোঁজা শুরু করবেন, তখন প্রথমেই মনে হতে
পারে একই রুটে ৩টি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক
হবে? কারণ সবার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, সময় এবং বাজেট একই হয় না। আপনার পছন্দ ও
সময়ের মধ্যে সঠিক ট্রেন নির্বাচন করতে নিচের ৩টি ট্রেন সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা
নেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমত, যদি আপনি ভোরের আলো ফুটতেই যাত্রা শুরু করতে চান বা দিন শেষে কাজ সেরে
ঢাকায় ফিরে আসতে চান, তবে সুন্দরবন এক্সপ্রেস আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ। এটি সকাল
৮ঃ০০ টায় ঢাকা ত্যাগ করে। ট্রেনে বসে পদ্মা সেতুর ওপর ভোরের সুমধুর রোদ উপভোগ
করার চমৎকার অভিজ্ঞতা পাবেন। অন্যদিকে, যদি দুপুরের পর বা বিকেল বেলা বের হতে
চান, মধুমতি এক্সপ্রেস নির্বাচন করতে পারেন।
দুপুর ৩ঃ০০ টায় ছেড়ে যাওয়া এই ট্রেনটির বড় সুবিধা হলো এটি মাওয়া ও শিবচরের মতো
মাঝপথের স্টেশনে থামে এবং এটি একটি বাজেট-সহায়ক ট্রেন।সর্বশেষ, সারাদিনের কাজ
শেষ করে রাতে নিশ্চিন্তে যাত্রা করতে চাইলে বেনাপোল এক্সপ্রেস আপনার জন্য
একেবারে উপযুক্ত। রাত ১১ঃ৩০ টায় ঢাকা ত্যাগ করে গভীর রাতে ভাঙ্গায় পৌঁছায়, তাই
এটি রাতের যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। ঢাকার দিনের যানজট এড়িয়ে নিরিবিলিতে গন্তব্যে
পৌঁছাতে চাইলে এই ট্রেন আপনার যাত্রা সহজ করে দেবে।
ভাঙ্গা থেকে ঢাকা ফেরত আসার সময়সূচী?
ভাঙ্গা থেকে কাজ শেষ করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন? যাওয়ার
সময়সূচী জানা যে অপরিহার্য, তেমনি ঢাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরে আসার জন্য রিটার্ন
ট্রেনের সময়টাও জানা equally গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙ্গা থেকে ঢাকা আসার পথেও
প্রতিদিন তিনটি চমৎকার আন্তঃনগর ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে চলে। আপনার সুবিধার জন্য
ভাঙ্গা থেকে ঢাকা ফেরার ট্রেনের সহজ সময়সূচী নিচে বিন্যস্ত করা হলোঃ
| ট্রেনের নাম | ভাঙ্গা ছাড়ে | ঢাকা পৌঁছায় | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|
| বেনাপোল (৭৯৫) | ভোর ৪:১৮ | ভোর ৫:৪০ | বুধবার |
| সুন্দরবন (৭২৫) | রাত ৮:৫৫ | রাত ১০:১০ | বুধবার |
| মধুমতি (৭৫৬) | রাত ৯:১৭ | রাত ১০:৪০ | শনিবার |
আশা করি টেবিলটি দেখে আপনার ফেরার সঠিক সময়টি বেছে নিতে সহজ হবে। আপনার যদি
ঢাকায় সকাল সকাল পৌঁছানোর দরকার হয়, তবে ভোরের বেনাপোল এক্সপ্রেস হতে পারে
সবচেয়ে উপযুক্ত। আর দিনভর কাজ শেষ করে রাতে শান্তিতে বাড়ি ফিরতে চাইলে সুন্দরবন
বা মধুমতি এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, ট্রেনের বন্ধের দিনে
যেন আপনার ফেরার পরিকল্পনা না পড়ে।
অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ মাধ্যম?
স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেনার কষ্ট এখন সম্পূর্ণভাবে শেষ!
আপনার কাছে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে খুবই সহজে ২ মিনিটের মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা
ট্রেনের যেকোনো সিটের টিকিট কিনতে পারবেন। অনলাইনে টিকিট বুক করার জন্য
বাংলাদেশ রেলওয়ে’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা গুগল প্লে-স্টোর থেকে 'Rail
Sheba' অ্যাপ ব্যবহার করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক ও নিরাপদ উপায়।
টিকিট কাটার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। প্রথমে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার
এনআইডি (NID) এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। তারপর আপনি
‘Dhaka’ থেকে ‘Bhanga’ যাওয়ার তারিখ এবং পছন্দের ট্রেনের আসন নির্বাচন করবেন।
সিট নির্বাচন করার পর আপনার নাম ও যাত্রীর তথ্য দিয়ে পেমেন্ট অপশনে চলে
যাবেন।পেমেন্ট করার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত কোনো ঝামেলা পোহানোর প্রয়োজন নেই।
বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এক ক্লিকেই
টিকিটের মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব।
টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথে আপনার ইমেইল ও মোবাইলে একটি অনলাইন ই-টিকিট পৌঁছে
যাবে। যাত্রার দিন এই ই-টিকিটটি মোবাইলে দেখালেই চলবে, আলাদা করে কাগজ
প্রিন্টের প্রয়োজন নেই।
আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে
এখানে ক্লিক করুন
এখানে আমি আরো ভেঙে বিষয়টা সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছি। তাই এ বিষয়ে আপনার
সামনে ধারণা থাকলেও সমস্যা হবে না।
এই যাত্রাপথে কিছু ট্রিকস এন্ড টেকনিক?
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা যাওয়ার দারুণ এই ট্রেন যাত্রাকে আরও বেশি
আরামদায়ক ও ঝামেলামুক্ত করতে কিছু দরকারি টিপস জানা থাকলে আপনার পথচলা
অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। প্রথম ও প্রধান ট্রিকস হলো আপনার ভ্রমণের সুবিধার্থে
ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী অগ্রিম চেক করে রাখা, যাতে যাত্রার দিন কোনো
তাড়া বা অনিশ্চয়তায় পড়তে না হয়। নিচে এমন ৩টি প্রয়োজনীয় ট্রিকস ও টেকনিক সহজ
ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছি, যা আপনার জার্নিকে আরও সুন্দর করবে।
প্রথমত, টিকিটের চাপ এড়িয়ে সঠিক সময়ে সিট নিশ্চিত করতে ১০ দিন আগেই অনলাইন
থেকে টিকিট কেটে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী যাত্রার ঠিক ১০
দিন আগে সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে এই রুটের টিকিট দেওয়া শুরু হয়। তাই কাঙ্ক্ষিত
এসি বা পছন্দের সিট পেতে হলে ঠিক সকাল ৮টায় অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ঢুকে টিকিট
বুক করে ফেলবেন। আর যাত্রার আগে অবশ্যই ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী
আরেকবার ভালোভাবে মিলিয়ে নিয়ে স্টেশনে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে পৌঁছে
যাবেন।
দ্বিতীয়ত, ভ্রমণপথে সেরা প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য সিট বেছে নেওয়ার
ক্ষেত্রে কিছুটা টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন। দিনে বেলা যাত্রা করলে সুন্দরবন
বা মধুমতি এক্সপ্রেসে জানালার পাশের সিট (Window seat) বুক করার চেষ্টা
করবেন। কারণ পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন যখন যাবে, তখন দুপাশের নদীর রূপ আর
মুক্ত বাতাস উপভোগ করার অনুভূতিটা একেবারে অন্যরকম লাগবে।
তৃতীয়ত, কমলাপুর বা গেন্ডারিয়া স্টেশনে পৌঁছানো এবং ভাঙ্গা নেমে গন্তব্যে
যাওয়ার কানেক্টিভিটি আগে থেকেই প্ল্যান করে রাখুন। ট্রেনে ওঠার ক্ষেত্রে
কমলাপুর স্টেশনের ভিড় এড়িয়ে গেন্ডারিয়া স্টেশন থেকেও ট্রেনে ওঠার সুযোগ
রয়েছে, যদি আপনার বাসা পুরান ঢাকা বা আশেপাশের এলাকায় হয়। এছাড়া ভাঙ্গা
স্টেশনে নেমে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর বা বরিশাল যাওয়ার জন্য স্টেশনের বাইরেই
পর্যাপ্ত অটো ও বাস পাওয়া যায়, তাই নেমে গাড়ি পাওয়া নিয়ে একদম চিন্তা করতে
হবে না।
এসএমএসের মাধ্যমে লাইভ লোকেশন?
ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় আছে অথবা আপনার স্টেশনে পৌঁছাতে কত সময় বাকি এ নিয়ে
আর কোনও উদ্বেগ বা বিভ্রান্তি হতে হবে না। অনেকেই জানেন না যে, ইন্টারনেট বা
স্মার্টফোন ছাড়াই খুব সহজভাবে একটি মোবাইল এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে ট্রেনের
সঠিক ও লাইভ অবস্থান জানা সম্ভব। আপনার কাছে থাকা যেকোনো সাধারণ বা বাটন ফোন
ব্যবহার করেই আপনি বাড়ির কোণে বসে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন।
বিষয়টি খুবই সহজ, আমি আপনাকে দেখাচ্ছি কীভাবে করবেন। প্রথমে আপনার ফোনের মেসেজ
অপশনে যান।
সেখানে বড় হাতের অক্ষরে টাইপ করুন TR, তারপর একটি স্পেস দিয়ে যে ট্রেনে উঠবেন
তার নম্বর লিখুন (যেমন: সুন্দরবন এক্সপ্রেসের জন্য TR 726 এবং বেনাপোলের জন্য
TR 796)। এরপর এ মেসেজটি 16318 নম্বরে পাঠিয়ে দিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি
ফিরতি এসএমএসে জানানো হবে ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে রয়েছে এবং আপনার
স্টেশনে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে। যাত্রার আগে বা স্টেশনে বসে এই ছোট কৌশলটি
ব্যবহার করলে আপনার ভ্রমণ অনেক বেশি নিশ্চিন্ত হবে।
যাত্রীদের পড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর?
প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে ভাঙ্গা ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ মাত্র ১ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মতো সময় লাগে।
প্রশ্নঃ ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
- উত্তরঃ শোভন চেয়ারে সর্বনিম্ন ভাড়া ২৬৫ টাকা।
প্রশ্নঃ ঢাকা টু ভাঙ্গা রুটে প্রতিদিন কয়টি ট্রেন চলে?
- উত্তরঃ প্রতিদিন ৩টি আন্তঃনগর ট্রেন চলে।
প্রশ্নঃ অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপ কোনটি?
- উত্তরঃ 'Rail Sheba' অ্যাপ।
প্রশ্নঃ ট্রেনে করে কি সরাসরি পদ্মা সেতু পার হওয়া যায়?
- উত্তরঃ হ্যাঁ, প্রতিটি ট্রেনই পদ্মা সেতু পার হয়ে যায়।
প্রশ্নঃ ট্রেনের টিকিট কত দিন আগে কেনা যায়?
- উত্তরঃ যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে কেনা যায়।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি, ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও ঝামেলামুক্ত করতে
ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখাটা
সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ। আমি যখন প্রথমবার এই রুটে ট্রেনে করে পদ্মা সেতু
পার হয়ে ভাঙ্গা গিয়েছিলাম, তখন সঠিক ট্রেনের সময় জানা থাকায় কোনো ধরনের তাড়া
বা বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ভোরের সুন্দরবন
এক্সপ্রেস ট্রেনটির যাত্রা সবচেয়ে দারুণ লেগেছে।
আপনার সুবিধার্থে পরামর্শ দেব, যাত্রার দিন হুটহাট টিকিট না কেটে ঢাকা টু
ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচী দেখে অন্তত কয়েক দিন আগেই 'Rail Sheba' অ্যাপ থেকে
টিকিট কনফার্ম করে নিন। এতে আপনার পছন্দের সিট পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে এবং
স্টেশনে গিয়ে অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলাও পোহাতে হবে না। আশা করি আমার অভিজ্ঞতা ও
টিপসগুলো আপনার এই রুটের যাত্রাকে আরও সহজ ও স্মরণীয় করে তুলবে। আপনার ঢাকা
টু ভাঙ্গা ট্রেন যাত্রা অনেক বেশি নিরাপদ ও আনন্দময় হোক।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url