ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ (আপডেট)

ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য, ছুটির দিন ও অনলাইন টিকিট কাটার সহজ নিয়ম জানুন এক ক্লিকে। সম্পূর্ণ আপডেট তথ্য পেতে ভিজিট করুন। সবকিছু পর্যায়ক্রমে সুন্দরভাবে গোছানো আছে।
ঢাকা-টু-নরসিংদী-ট্রেনের-সময়সূচী
আমি এখানে প্রত্যেকটা তথ্য এমন ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। যা যদি কেউ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে। তাহলে তার মনে আশা সকল প্রশ্নের সমাধান পর্যায়ক্রমে আস্তে আস্তে পেয়ে যাবে।

পেজ সূচিপত্রঃ ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানুন

ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী?

আপনি কি ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী খুঁজে হয়রান হচ্ছেন? ঢাকা-সিলেট বা ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের বিশ্রী জ্যাম এড়াতে ট্রেনই কিন্তু সবচেয়ে আরামদায়ক আর দ্রুততম মাধ্যম। সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছে ঝামেলা ছাড়া যাত্রা শেষ করতে নিচে ঢাকা থেকে নরসিংদীগামী আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনের হালনাগাদ সময়সূচী তুলে ধরা হলো।
ঢাকা টু নরসিংদী আন্তঃনগর ট্রেন
ট্রেনের নাম নম্বর ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন
এগারোসিন্দুর প্রভাতী ৭৩৭ ০৭:১৫ AM ০৮:২২ AM বুধবার
মহানগর প্রভাতী ৭০৪ ০৭:৪৫ AM ০৮:৫১ AM নেই
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ৭৮১ ১০:৩০ AM ১১:৩৬ AM মঙ্গলবার
চট্টলা এক্সপ্রেস ৮০২ ০২:১৫ PM ০৩:২০ PM শুক্রবার
উপকূল এক্সপ্রেস ৭১২ ০৩:১০ PM ০৪:১৭ PM বুধবার
এগারোসিন্দুর গোধূলি ৭৪৯ ০৬:৪৫ PM ০৭:৫৩ PM নেই
মহানগর এক্সপ্রেস ৭২২ ০৯:২০ PM ১০:২৭ PM রবিবার
উপবন এক্সপ্রেস ৭৩৯ ১০:০০ PM ১১:০৯ PM বুধবার
ঢাকা টু নরসিংদী লোকাল ও মেইল ট্রেন
ট্রেনের নাম নম্বর ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন
তিতাস কমিউটার ৩৪ ০৫:১৫ AM ০৬:২৫ AM নেই
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ০৪ ০৮:৪৫ AM ১০:০০ AM নেই
ঢাকা কমিউটার ৩৬ ০৫:২০ PM ০৬:৩৫ PM নেই
সুরমা মেইল ১০ ১০:৫০ PM ১২:০৫ AM নেই
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি ভাই, নিরিবিলিতে আরাম করে যেতে চাইলে ইন্টারসিটি বা আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট আগে কেটে রাখা শ্রেয়। বিশেষ করে সকালে রওনা দিতে পারলে, দিনের অনেকটা সময় পাওয়া যায়। লোকাল ট্রেনগুলোও আছে হঠাৎ স্টেশনে গিয়ে টিকিট কেটে চড়ে পড়ার জন্য বেশ উপকারী, তবে সিট পাওয়া একটু ভাগ্যের বিষয়! হ্যাঁ, আরও একটি বিষয়স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাড়াহুড়ো করবেন না, ট্রেন ছাড়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানো বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হবে। আশা করি বিষয়টা আপনাকে সুন্দরভাবে বুঝাতে পেরেছি।

ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেন এর ভাড়ার তালিকা?

ঢাকা থেকে নরসিংদী যেতে চান, কিন্তু ভাড়ার ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন না? সত্যি বলতে, এই রুটে বাসের অনিয়মিত ভাড়া এবং জ্যামের সমস্যার তুলনায় ট্রেনের ভাড়া তো সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট এবং সাশ্রয়ী। আপনি যদি বাজেটের মধ্যে যেতে চান বা এসি সিটে একটু আরামে ভ্রমণ করতে চান এটা একেবারে আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করছে। আপনার সুবিধার জন্য মোবাইল-বান্ধবভাবে ৩ কলামে টিকিটের সঠিক মূল্য নিচে দেখানো হলোঃ
সিটের ধরণ ভাড়া মন্তব্য
শোভন ৬৫-৭০ টাকা সাধারণ সাশ্রয়ী সিট
শোভন চেয়ার ৮০ টাকা সেরা ও জনপ্রিয়
ফাস্ট চেয়ার ১২১ টাকা আরামদায়ক নন-এসি
স্নিগ্ধা (এসি) ১৩৩-১৫০ টাকা এসি চেয়ার সিট
এসি সিট ১৭৯ টাকা সম্পূর্ণ এসি কামরা
এসি বার্থ ৩২১ টাকা কেবিন/শোয়ার ব্যবস্থা
ছোট্ট একটা বাস্তব উপদেশ দিই ভাই, ঢাকা থেকে নরসিংদী যেহেতু মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার পথ, তাই ৮০ টাকার শোভন চেয়ারের টিকেট কাটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর যদি গরমের দিনে ঠাণ্ডায় যেতে চান, তবে ১৫০ টাকার স্নিগ্ধা টিকিট নিতে পারেন। তবে অনলাইনে টিকেট কাটলে সামান্য ৫-২০ টাকা ব্যাংক সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে, যা একদম স্বাভাবিক।

ঢাকা থেকে নরসিংদী ট্রেনের বিরতি স্টেশন?

ঢাকা থেকে নরসিংদী ট্রেনে যাওয়ার পক্ষে যদি সিদ্ধান্ত নেন, তবে ট্রেনের কোন স্টেশনসমূহে থামবে, তা জানাটা ভ্রমণকে অনেক সহজ করে দেয়। বিশেষ করে ঢাকা শহরের ভিতরের জ্যাম এড়াতে এবং কমলাপুর না গিয়ে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার চাইলে বিরতি স্টেশন সম্পর্কে তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ঢাকা থেকে নরসিংদী রুটটি খুব বেশি দূরত্বের নয়, তাই আন্তঃনগর ট্রেনগুলি পথে মাত্র ১-২টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে, আর লোকাল বা কমিউটার ট্রেনগুলো প্রায় সবগুলো ছোট স্টেশনে বিরতি নেয়।
  1. ঢাকা কমলাপুর (শুরুর মূল স্টেশন)
  2. ঢাকা বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট)
  3. টঙ্গী জংশন
  4. পূবাইল
  5. ঘোড়াশাল
  6. ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ
  7. নরসিংদী (মূল গন্তব্য)
একটি প্রয়োজনীয় টিপ দিচ্ছি ভাই যদি আপনার বাসা উত্তরা, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত বা মিরপুরের দিকে হয়, তবে অনর্থক জ্যাম এড়িয়ে কমলাপুর যাওয়ার দরকার নেই। সরাসরি বিমানবন্দর স্টেশনে চলে আসলেই সময় এবং কষ্ট দুটোই সাশ্রয় হবে। তবে একটি বিষয় একদম ভুলবেন না, বিমানবন্দর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিট stops! তাহলে ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগে নিজের বগির সামনের দিকে পজিশন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মূলত হবে বুদ্ধির পরিচয়।

এই যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য?

ঢাকা থেকে ট্রেনে নরসিংদী যাওয়ার লক্ষ্য তো করেছেন, কিন্তু অনেক ট্রেনের মধ্যে আপনার প্রয়োজনের জন্য কোনটি সঠিক হবে তা চিন্তা করছেন তো? সত্যি বলতে, সবার যাত্রার উদ্দেশ্য এবং চাহিদা তো একই হয় না। কেউ চান তাড়াহুড়ো করে ভোরবেলায় পৌঁছে যেতে, কেউ চান কম খরচে পকেট বাঁচিয়ে ভ্রমণ শেষ করতে, আবার কেউ ছোট একটি যাত্রায়ও সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে এসি সিটে বসে যেতে ভালোবাসেন। আপনার সুবিধা ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই তিন ধরনের অপশন থেকে নিজের জন্য নির্বাচন করতে পারেন।
ঢাকা-টু-নরসিংদী-ট্রেনের-সময়সূচী
যদি আপনার সকালে নরসিংদী পৌঁছানো প্রয়োজন হয় যেমন কোনো জরুরি মিটিং, অফিস বা পরীক্ষাতাহলে বিনা দ্বিধায় সকালের এগারোসিন্দুর প্রভাতী বা মহানগর প্রভাতী টেনে নিন। এই দুটি ট্রেন খুব সকালে (সাতটা থেকে পৌনে আটটার মধ্যে) যাত্রা করে এবং মাত্র এক ঘণ্টার কিছুটা বেশিতে আপনাকে পৌঁছাবে গন্তব্যে। ফলে সারাটি দিনকে কাজে লাগানোর জন্য আপনার হাতে যথেষ্ট সময় থাকবে।পকেটে টাকা সাশ্রয় করতে চান অথবা আকস্মিকভাবে পরিকল্পনা করে স্টেশনে আসছেন? এমন অবস্থায় অনলাইনে টিকিট কাটার ঝামেলায় যেতে নেই, সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে তিতাস কমিউটার বা অন্যান্য মেইল ট্রেনের টিকিট কেটে ট্রেনে উঠুন। 
মাত্র ৬৫-৭০ টাকায় টিকিট পাবেন। এতে পকেটের ওপর কোনো চাপ পড়বে না, পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এটি একটি চমৎকার সাশ্রয়ী উপায়।যদি আপনার তাড়াহুড়ো না থাকে এবং পুরো সফরটা আরামে ও শীতলভাবে উপভোগ করতে চান, তাহলে ইন্টারসিটি ট্রেনের এসি চেয়ার বা স্নিগ্ধা টিকিট মেইল করুন। বিশেষ করে চৈত্র-বৈশাখ বা গরমের সময়ে মাত্র ১৩৩ থেকে ১৫০ টাকায় স্নিগ্ধা ক্লাসে যাতায়াত করা সম্ভব। দুপুরের চট্টলা বা উপকূল এক্সপ্রেস কিংবা সন্ধ্যার এগারোসিন্দুর গোধূলিতে এসি সিটে বসে হেডফোন কানে লাগিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার অনুভূতিই অনন্য।

নরসিংদী থেকে ঢাকা ফেরত আসার সময়সূচী?

কাজ শেষ করে কি আবার ঢাকা চলে আসবেন? নরসিংদী থেকে ঢাকা যাওয়ার ট্রেন পাওয়া কিন্তু খুব বেশি কঠিন কাজ নয়! পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ আন্তঃনগর ট্রেন নরসিংদী স্টেশনের মাধ্যমে ঢাকায় প্রবেশ করে, তাই দিনে নানা সময়ে যে কোনো ট্রেন পাওয়া যাবে। কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময়ে ট্রেনের সঠিক সময় জানা জরুরি, কারণ সামান্য দেরি হলে প্ল্যাটফর্মে বসে থাকার বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে।
ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় বন্ধের দিন
উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) ০৪:১৫ AM বুধবার
তিতাস কমিউটার (৩৩) ০৭:১০ AM নেই
এগারোসিন্দুর প্রভাতী (৭৩৮) ০৮:৪০ AM মঙ্গলবার
মহানগর প্রভাতী (৭০৩) ০৯:৫০ AM নেই
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) ০১:৫০ PM শুক্রবার
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮২) ০৫:২০ PM শুক্রবার
এগারোসিন্দুর গোধূলি (৭৫০) ০৬:৫০ PM নেই
উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১) ০৭:৩০ PM মঙ্গলবার
একটি বাস্তবিক পরামর্শ শেয়ার করছি ভাই, নরসিংদী স্টেশন থেকে ঢাকায় ফেরার সময় ট্রেনগুলোতে কিন্তু বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে একটু বেশি ভিড় থাকে। বিশেষ করে ছুটির দিন বা রবিবারে যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি নিরাপদ এবং আরামদায়ক সফর চান, চেষ্টা করবেন ট্রেনের অন্তত ১-২ দিন আগে অনলাইনে ই-টিকিট কিনে রাখতে। আর যদি হঠাৎ করেই ট্রেনের টিকেট না পান, তবে তিতাস কমিউটার লোকাল ট্রেন তো আছে, টিকেট কেটে সরাসরি চড়ে পড়তে পারবেন।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম?

আজকাল স্টেশনে লাইনে অপেক্ষা না করে ঘরের বসে ৫ মিনিটের মধ্যে ঢাকা-নরসিংদী ট্রেনের টিকিট কেনা সম্ভব। প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) বা 'Rail Sheba' মোবাইল অ্যাপে গিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার অথবা লগইন করুন। পরে হোমপেজে আপনার যাত্রার শুরুস্থান 'Dhaka', গন্তব্য 'Narsingdi', যাত্রার তারিখ ও পছন্দের সিটের ক্লাস (যেমন: S_CHAIR অথবা SNIGDHA) নির্বাচন করে ট্রেনের তালিকা থেকে পছন্দের ট্রেনের টিকিট নির্বাচন করুন।

টিকিট নিশ্চিত করার জন্য বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। পেমেন্ট সফল হলে আপনার স্ক্রিনে ও ইমেইলে ই-টিকিট চলে আসবে। এই অনলাইন টিকিটটি পিডিএফ ডাউনলোড করে মোবাইলে রাখলেই হবে, ভ্রমণের সময় প্রিন্টের ঝামেলা থাকবে না। অনলাইনে সমস্যা ছাড়া টিকিট বুকিং নিশ্চিত করতে সবসময় সঠিক এনআইডি তথ্য ব্যবহার করা ভালো, কারণ ট্রেনের টিটিই অনেক সময় টিকিটের তথ্যের সঙ্গে পরিচয়পত্র যাচাই করতে চায়। আশা করি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন সুন্দরভাবে।
আপনি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন এ বিষয়ে আপনার কোন ধারণা না থাকে তাহলে এখানে ক্লিক করেন এখানে প্রত্যেকটা বিষয় আমি আরো সুন্দরভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যাদেরই এ বিষয়ে একেবারে শূন্য ধারণা তারাও আর্টিকেলটা পড়লে খুব সহজেই অনলাইনে নিজের একটা টিকিট কনফার্ম করতে পারবেন। তাই আপনি যদি নতুন হন তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটা পড়ে আসুন।

ট্রেন ভ্রমণ সংক্রান্ত কিছু জরুরি টিপস?

ঢাকা থেকে নরসিংদী যাতায়াত আরও মসৃণ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা খুবই জরুরি। প্রথমত, ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ; এতে তাড়াহুড়ো করে ভুল ট্রেনে বা ভুল বগিতে ওঠার ঝুঁকি থাকে না। ভ্রমণের সময় আপনার অনলাইন টিকিটের পিডিএফ কপি ও এনআইডি সাথে রাখা ভালো, আর সাথে থাকা ব্যাগ বা মূল্যবান মালামাল সবসময় নিজের খেয়ালে রাখুন।
ঢাকা-টু-নরসিংদী-ট্রেনের-সময়সূচী
এছাড়া প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকার সময় মাইকের ঘোষণা ও ট্রেনের অবস্থান ঠিকভাবে দেখে নিন। সঠিক ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী মেনে চললে এবং ভ্রমণের সময় অচেনা কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় থেকে বিরত থাকলে আপনার পুরো সফরটি একেবারেই নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হবে।

এসএমএসের মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন?

স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা না করেই ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানার জন্য এসএমএস ট্র্যাকিং সিস্টেম একটি চমৎকার প্রযুক্তি। অনেক সময় ট্রেনের শিডিউল পরিবর্তন বা দেরির কারণে প্ল্যাটফর্মে অযথা বসে থাকতে হয়, যা বেশ দুঃখজনক। কিন্তু এই খুদে বার্তার মাধ্যমে আপনি বাড়িতে বসে বা রওনা দেওয়ার আগে জানতে পারবেন আপনার পছন্দের ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং আপনার স্টেশনে পৌঁছাতে কতটা সময় লাগবে।
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে TR লিখে স্পেস দিয়ে নির্দিষ্ট ট্রেনের নম্বরটি (যেমন: এগারোসিন্দুর প্রভাতীর জন্য TR 738) লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে পাঠালেই ফিরতি এসএমএসে ট্রেনের সঠিক অবস্থান পাওয়া যাবে। বাটন ফোন বা স্মার্টফোন কোনো মোবাইল থেকেই এই সুবিধা নেওয়া সম্ভব। যাত্রার ঠিক ১০-১৫ মিনিট আগে একবার লাইভ অবস্থান চেক করলে ভ্রমণটাও চাপমুক্ত হয় এবং মূল্যবান সময়ও সঞ্চিত হয়। এভাবে খুব সহজেই ট্রেনে লাইভ লোকেশন বের করতে পারবেন।

যাত্রীদের করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর?

প্রশ্নঃ ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
  • উত্তরঃ লোকাল বা মেইল ট্রেনে মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
প্রশ্নঃ নরসিংদী যাওয়ার পর কি স্ট্যান্ডেই লোকাল গাড়ি পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ, নরসিংদী স্টেশন থেকে নেমে ইজিবাইক বা রিকশা সহজেই পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ ট্রেনের টিকিট কি রিফান্ড বা ফেরত দেওয়া যায়?
  • উত্তরঃ নিয়ম অনুযায়ী ভ্রমণের নির্দিষ্ট সময় পূর্বে অনলাইন বা কাউন্টার থেকে বাতিল করা যায়।
প্রশ্নঃ মোবাইল দিয়ে টিকিট দেখালে কি যাত্রায় কোনো সমস্যা হয়?
  • উত্তরঃ না, মোবাইলে ডাউনলোডের ই-টিকিট দেখালেই প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনে সহজে ভ্রমণ করা যায়।
প্রশ্নঃ তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিট কি অনলাইনে পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ না, তিতাসসহ যেকোনো লোকাল ট্রেনের টিকিট সরাসরি স্টেশন কাউন্টার থেকে নিতে হয়।

এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত অভিজ্ঞতা?

ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী জেনে নিয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করাটা আমার কাছে সবসময়ই বাসের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও আনন্দের মনে হয়েছে। ঢাকার চেনা জ্যাম আর ধুলোবালি এড়িয়ে খুব কম খরচে ও দ্রুত সময়ে নরসিংদী পৌঁছাতে ট্রেনের চেয়ে সেরা বিকল্প আর হতেই পারে না। আমি নিজে একাধিকবার এই রুটে যাতায়াত করে দেখেছি, সকালের ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী ধরে 'এগারোসিন্দুর প্রভাতী' বা 'মহানগর প্রভাতী'-তে উঠলে একদম ঝুটঝামেলামুক্তভাবে সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। 

আপনার সুবিধার কথা চিন্তা করেই আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা টু নরসিংদী ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা ও কিছু জরুরি টিপস সহজভাবে এই লেখায় তুলে ধরেছি। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে যাত্রীর চাপ একটু বেশি থাকে, তাই ভ্রমণের দিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া এবং লাইভ এসএমএস ট্র্যাকিং ব্যবহার করাটা ভীষণ কাজে দেয়। আশা করি, আমার এই ছোট ছোট পরামর্শগুলো আপনার ভ্রমণকে অনেক বেশি সহজ, নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করে তুলবে। আপনার যাত্রা শুভ ও সুন্দর হোক। আপনার যাত্রা সুন্দর হোক।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Rifat Mhamud
Md. Rifat Mhamud
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার ও SEO এক্সপার্ট। ওয়েবসাইট, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও প্রযুক্তি নিয়ে নিয়মিত কাজ ও লেখালেখি করি। এই ওয়েবসাইটে আমার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত শেয়ার করে থাকি।