পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
পঞ্চগড় টু ঢাকা রুটের একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড় ও বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের
আপডেট সময়সূচী, আসনভিত্তিক ভাড়া এবং অনলাইনে ই-টিকেট কাটার সহজ নিয়ম জেনে
নিন একেবারে সহজ মাধ্যমে।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছি। আপনি আপনার
প্রয়োজনীয় তথ্য সূচীপত্র দেখে জেনে নিতে পারেন। বা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণটা পড়তে পারেন।
পেজ সূচিপত্রঃ পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জেনে নিন।
- পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
- ট্রেন ভিত্তিক আসন ও টিকিটের ভাড়া তালিকা
- পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের বিরতি স্টেশন
- পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময় ও দূরত্ব
- অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম
- আরামদায়ক ট্রেন ভ্রমণের প্রয়োজনীয় কিছু টিপস
- এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন
- ট্রেনের টিকিট বাতিল ও টাকা ফেরতের নিয়ম
- পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেন সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা
- আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে আপনার দীর্ঘ জার্নিটা অনেক বেশি
সহজ আর দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে যায়। প্রায় ৫২৬ কিলোমিটারের এই লম্বা পথ বাসে
যাওয়ার কথা চিন্তা করলেই যেখানে ক্লান্তি চলে আসে, সেখানে ট্রেনে ভ্রমণ করা
মানেই পরিবারের সাথে আরাম আর নিশ্চিন্তে গন্তব্যে পৌঁছানো। আপনাদের সুবিধার
জন্য পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে যাওয়া সবগুলো ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচী নিচে ছোট করে
সাজিয়ে দিলাম।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|
| একতা এক্সপ্রেস (৭০৬) | রাত ৯:১০ | সকাল ৭:৫০ | নেই |
| দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৮) | সকাল ৭:২০ | সন্ধ্যা ৬:৫৫ | নেই |
| পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৪) | দুপুর ১২:২০ | রাত ৯:৫৫ | নেই |
| বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (৮০৪) | সকাল ৮:৩০ | বিকাল ৫:৩০ | শনিবার |
আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি দিনের আলোয় উত্তরবঙ্গের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে যেতে
চাইলে দ্রুতযান বা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস বেছে নিন। আর রাতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সকালে
ঢাকায় নামতে চাইলে একতা এক্সপ্রেস সেরা। যে ট্রেনেই যান না কেন, ঝক্কি এড়াতে
নির্ধারিত সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছে যাবেন। আশা করি প্রত্যেকটা
বিষয়ে আপনি সুন্দরভাবে বুঝতে পেরেছেন।
ট্রেন ভিত্তিক আসন ও টিকিটের ভাড়া তালিকা
ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় সময়সূচীর পরেই যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি মাথায়
আসে, তা হলো টিকিটের দাম কত পড়বে। সত্যি বলতে, বাসের ভাড়ার তুলনায় ট্রেনের
ভাড়া যেমন অনেক সাশ্রয়ী, তেমনই ক্লাসের ওপর নির্ভর করে আপনার পছন্দের সিট বেছে
নেওয়ার সুযোগও বেশ চমৎকার। আপনাদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত
পঞ্চগড় টু ঢাকা রুটের আসনভিত্তিক সঠিক ভাড়ার তালিকা নিচে সুন্দর করে তুলে
ধরলাম।
| আসন শ্রেণী | একতা ও দ্রুতযান | পঞ্চগড় এক্সপ্রেস | বাংলাবান্ধা |
|---|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬৯৫ টাকা | ৭৪০ টাকা | ৫২৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি) | ১৩৩৪ টাকা | ১৪২১ টাকা | ১০০৬ টাকা |
| এসি সিট | ১৫৯৯ টাকা | ১৫৯৯ টাকা | - |
| এসি বার্থ | ২৩৯৮ টাকা | ২৫৯৮ টাকা | - |
টিকিট কাটার সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, অনলাইনে (Rail Sheba অ্যাপ বা
ওয়েবসাইটে) টিকিট বুক করলে মূল ভাড়ার সাথে ২০ টাকা অনলাইন সার্ভিস চার্জ যুক্ত
হবে। আর আপনি যদি রাতের ট্রেনে এসি বার্থ বা কেবিনে যান, তবে সাথে ৫০ টাকা
বেডিং চার্জ (বিছানা-চাদরের জন্য) যোগ হয়। পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে গেলে বলে
রাখি, ৩ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য অর্ধেক টিকিট বা চাইল্ড টিকিটের চমৎকার
ব্যবস্থা আছে।
পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের বিরতি স্টেশন
পঞ্চগড় থেকে ঢাকা যাওয়ার পথটা যেমন দীর্ঘ, তেমনই এই রুটের ট্রেনগুলো মাঝপথের
বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রীদের ওঠানামা করার সুবিধার্থে কিছুটা সময়
বিরতি নেয়। আপনি যদি পঞ্চগড় ছাড়া মাঝপথের কোনো স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার কথা
ভাবেন কিংবা স্বজনদের বিদায় জানাতে যান, তবে এই স্টেশনগুলো এবং সেখানে ট্রেন
কতক্ষণ থামে তা জানা থাকাটা খুবই প্রয়োজন। নিচে পঞ্চগড় টু ঢাকা রুটের প্রধান
বিরতি স্টেশনসমূহ। ট্রেনের আনুমানিক বিরতি সময় পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলো।
- ঠাকুরগাঁও রোডঃ বিরতি আনুমানিক ৩ থেকে ৫ মিনিট।
- দিনাজপুরঃ প্রধান স্টেশনগুলোর একটি, বিরতি আনুমানিক ৫ থেকে ১০ মিনিট।
- পার্বতীপুর জংশনঃ ইঞ্জিন বা রুট পরিবর্তনের জন্য বড় জংশন, বিরতি আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
- জয়পুরহাটঃ বিরতি আনুমানিক ৩ থেকে ৫ মিনিট।
- সান্তাহার জংশনঃ বিরতি আনুমানিক ৫ থেকে ৮ মিনিট।
- নাটোরঃ বিরতি আনুমানিক ৩ থেকে ৫ মিনিট।
- ঢাকা বিমানবন্দরঃ উত্তর ঢাকার যাত্রীদের নামার সুবিধার্থে বিরতি আনুমানিক ৩ থেকে ৫ মিনিট।
আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে একটা ছোট্ট সতর্কতা জানিয়ে রাখি পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের
মতো ট্রেনগুলো কিন্তু একদম নির্দিষ্ট কয়েকটি বড় স্টেশনেই শুধু দাঁড়ায় এবং বিরতি
সময় খুবই অল্প থাকে। তাই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর সাথে সাথেই অযথা দেরি না করে
দ্রুত সিটে গিয়ে বসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ করে পার্বতীপুরের মতো জংশনে
খাবার কিনতে নেমে সময় পার করে ফেলবেন না, কারণ হুইসেল দিলেই ট্রেন ছেড়ে দেয়।
পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময় ও দূরত্ব
পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময় ও দূরত্ব সম্পর্কে আগে থেকে পরিষ্কার ধারণা
থাকলে ভ্রমণের পুরো পরিকল্পনাটাই অনেক সহজ হয়ে যায়। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের
একদম শেষ প্রান্ত পঞ্চগড় থেকে রাজধানী ঢাকার মধ্যে রেলপথের মোট দূরত্ব
প্রায় ৫২৬ কিলোমিটার। বাসের ঝাঁকুনি আর যানজটের ঝক্কি এড়িয়ে এত দীর্ঘ পথ
নিরাপদে অতিক্রম করার জন্য ট্রেনকেই সবাই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন।
ট্রেনে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা পৌঁছাতে সাধারণত সময় লাগে আনুমানিক ১০ ঘন্টা থেকে
১১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মতো। অবশ্য পথের আবহাওয়া, সিগন্যাল কিংবা মাঝপথের বড়
জংশনগুলোতে ট্রেন কতক্ষণ বিরতি নিচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে এই সময়ের কিছুটা
হেরফের হতে পারে। যেমন পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলো কম স্টেশনে থামায়
বেশ দ্রুত পৌঁছে দেয়, আবার অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনে কিছুটা সময় বেশি লাগতে
পারে।
তবে আমার অভিজ্ঞতা বলে, সময় একটু বেশি লাগলেও আরামদায়ক সিটে বসে
উত্তরবঙ্গের অপার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কিংবা রাতে শান্তিতে ঘুমিয়ে পথ পাড়ি
দেওয়ার আনন্দই আলাদা। তাই নিশ্চিন্ত ও চাপমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করতে আগেই
পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময় ও দূরত্ব মনে রেখে আপনার ভ্রমণের সঠিক দিন ও
সময় নির্বাচন করুন।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম
আজকালের ব্যস্ত সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার
ঝামেলা আর একেবারেই পোহাতে হয় না, কারণ এখন ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে ফোন
দিয়ে টিকিট কেটে ফেলা যায়। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য আপনাকে প্রথমেই
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) কিংবা আপনার
মোবাইলে ‘Rail Sheba’ অ্যাপটি নামিয়ে নিতে হবে। অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ঢুকে
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একবার একটি অ্যাকাউন্ট
ভেরিফাই বা যাচাই করে নিলেই আপনার কাজ শেষ।
এরপর লগইন করে ‘From’ এর জায়গায় Panchagarh এবং ‘To’ এর জায়গায় Dhaka লিখে
ভ্রমণের তারিখ ও পছন্দের সিট (যেমন: শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা) নির্বাচন করতে
হবে।এরপর পেমেন্ট অপশনে গিয়ে বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট
কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজেই টিকিটের টাকা পরিশোধ করে দেওয়া যায়। পেমেন্ট
সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই আপনার ফোনে একটি নিশ্চিতকরণ মেসেজ চলে আসবে এবং
অ্যাপের ভেতরেই ই-টিকিট (PDF) ডাউনলোড করার অপশন পেয়ে যাবেন।
যাত্রা করার দিন এই ডাউনলোড করা অনলাইন টিকিটটি মোবাইলে দেখালেই চলে, তবে
নিরাপত্তার স্বার্থে এর একটি প্রিন্ট কপি সাথে রাখলে আরও ভালো হয়। এত সহজ
উপায়ে কোনো দালাল বা লাইনের ঝক্কি ছাড়াই আপনি একদম নিশ্চিত মনে নিজের পছন্দের
সিটটি বুক করে নিতে পারবেন। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন এখনও বিষয়টা
সুন্দরভাবে বুঝতে না পারেন তাহলে
এখানে ক্লিক করুন। এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি আরো ধরে ধরে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছি।
আরামদায়ক ট্রেন ভ্রমণের প্রয়োজনীয় কিছু টিপস
পঞ্চগড় থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ১০-১১ ঘণ্টার এই দীর্ঘ পথ ট্রেনে শান্তিতে
কাটানোর জন্য একটু আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা খুব জরুরি। যাত্রার দিন
তাড়াহুড়ো এড়াতে সবসময় নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে স্টেশনে
পৌঁছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘ যাত্রায় আরাম পেতে হালকা ও ঢিলেঢালা
সুতির পোশাক বেছে নিন এবং সাথে একটি হালকা চাদর বা শাল রাখুন, কারণ রাতের
বেলা এসি কোচে কিংবা স্বাভাবিক বাতাসেও বেশ ঠান্ডা লাগতে পারে।
এছাড়া নিজের সাথে প্রয়োজনীয় কিছু শুকনো খাবার, পানীয় জল এবং জরুরী ওষুধ সবসময়
হাতের কাছে রাখা ভালো, যাতে মাঝপথে হুট করে কোনো অসুবিধা না হয়। ট্রেনে নিজের
ব্যাগ ও দামি জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিজেকেই রাখতে হবে, বিশেষ করে রাতে
ঘুমানোর সময় মোবাইল ও ওয়ালেট নিরাপদ স্থানে রাখা জরুরি। এ বিষয়গুলো
খেয়াল রাখবেন।
আপনার ফোনের চার্জ যাতে শেষ না হয়ে যায়, সেজন্য সাথে একটি ফুল চার্জ করা
পাওয়ার ব্যাংক রাখতে ভুলবেন না। এছাড়া দীর্ঘসময় এক জায়গায় বসে না থেকে মাঝে
মাঝে ট্রেনের করিডোরে একটু হেঁটে নিলে শরীরের আড়ষ্টতা কেটে যায়। যাত্রাপথে
সহযাত্রীদের সাথে মার্জিত আচরণ করুন এবং নিজের আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে
চারপাশ পরিষ্কার রাখুন; দেখবেন আপনার অভিজ্ঞতা আর দশটা সাধারণ ভ্রমণের চেয়ে
অনেক বেশি উপভোগ্য ও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।
এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন
আচ্ছা, শোনো! লম্বা জার্নিতে সবচেয়ে বড় ঝামেলার কাজ কোনটা বলো তো? ওই যে
ট্রেন কখন আসবে, না জানি কতদূর পিছিয়ে আছে এই চিন্তায় স্টেশনে বসে বসে ঘড়ি
দেখা, তাই না? কিন্তু তোমার হাতে যদি একটা সাধারণ বাটন ফোনও থাকে, তবে এই
চিন্তা কিন্তু এক মিনিটে গায়েব হয়ে যাবে। তোমাকে স্টেশন মাস্টারের পেছনে
ছুটতে হবে না, একেবারেই নিজের ফোন থেকে একটা সহজ এসএমএস পাঠিয়ে ট্রেনের একদম
তাজা লোকেশন জেনে নিতে পারবে। নিয়মটা কিন্তু একদম পানির মতো সহজ।
ধরো তুমি রাতের একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের খবর জানতে চাও, যার ট্রেন নম্বর হলো
৭০৬। তোমাকে কিচ্ছু করতে হবে না, সোজা ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে বড় হাতের
অক্ষরে লিখবে TR তারপর একটা স্পেস দিয়ে ট্রেনের নম্বর 706 টাইপ করবে (যেমনঃ
TR 706)। এরপর মেসেজটা পাঠিয়ে দেবে 16318 নম্বরে। ব্যস, হাত-পা গুটিয়ে কয়েক
সেকেন্ড অপেক্ষা করো! ফিরতি মেসেজে রেলওয়ে তোমাকে জলজ্যান্ত জানিয়ে দেবে
ট্রেনটি ঠিক এই মুহূর্তে কোন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে বা কোন স্টেশনের দিকে
ছুটছে। তোমার অন্য কোনো ট্রেন হলে শুধু ৭০৬-এর জায়গায় সেই ট্রেনের নম্বরটা
বসিয়ে দিলেই হবে।
ট্রেনের টিকিট বাতিল ও টাকা ফেরতের নিয়ম
হুট করে প্ল্যান বদলে যাওয়া বা জরুরি কোনো কাজ পডে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটা
বিষয়, তাই না? এমন সময়ে কেনা টিকিটটা বাতিল করে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না
এই চিন্তায় আমরা অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। তবে শোনো, একদম ঘাবড়ানোর কিছু
নেই! বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী তুমি কিন্তু খুব সহজেই তোমার টিকিটটি
বাতিল করে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফেরত পেতে পারো। তবে একটা কথা মাথায় রাখবে,
ভ্রমণের সময় যত এগিয়ে আসবে, টিকিট বাতিলের সার্ভিস চার্জ কিন্তু তত একটু একটু
করে বাড়তে থাকবে।
তুমি যদি অনলাইনে টিকিট কেটে থাকো, তবে কাউন্টারে দৌড়াদৌড়ি না করে ‘Rail
Sheba’ অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকেই সরাসরি 'Refund' অপশনে গিয়ে ক্লিকেই টিকিট
ফেরত দিতে পারবে। আর যদি স্টেশন কাউন্টার থেকে হাতে টিকিট কেটে থাকো, তবে মূল
টিকিটটি নিয়ে ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাউন্টারে গিয়ে জমা দিতে হবে।
সাধারণত ট্রেনের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ফেরত দিলে কাটছাঁটের
পরিমাণ খুব কম থাকে, তবে ২৪ ঘণ্টা বা ১২ ঘণ্টার মধ্যে গেলে নিয়ম অনুযায়ী
কিছুটা টাকা কেটে বাকিটা ফেরত দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেন সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্নঃ পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দূরত্ব কত?
- উত্তরঃ প্রায় ৫২৬ কিলোমিটার।
প্রশ্নঃ ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ আনুমানিক ১০ থেকে সাড়ে ১১ ঘণ্টা।
প্রশ্নঃ সবচেয়ে কম ও বেশি ভাড়া কত?
- উত্তরঃ সর্বনিম্ন ৬৯৫ টাকা (শোভন চেয়ার) এবং সর্বোচ্চ ২৫৯৮ টাকা (এসি বার্থ)।
প্রশ্নঃ সবচেয়ে দ্রুত পৌঁছায় কোন ট্রেন?
- উত্তরঃ পঞ্চগড় এক্সপ্রেস।
প্রশ্নঃ কত দিন আগে অনলাইনে টিকিট পাওয়া যায়?
- উত্তরঃ ভ্রমণের ১০ দিন আগে।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী দেখে আমি নিজে যখনই যাতায়াত করেছি, পুরো
সফরটা আমার কাছে ভীষণ স্বাচ্ছন্দ্যময় আর আনন্দের মনে হয়েছে। বাসের দীর্ঘ
যানজট আর ক্লান্তি এড়িয়ে এই ৫২৬ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য ট্রেনের
চেয়ে ভালো বিকল্প দ্বিতীয়টি হতে পারে না। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি,
কম সময়ে আর কম বিরতিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইলে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ সেরা। আর
আপনি যদি রাতের বেলা শান্তিতে ঘুমিয়ে সকালে ঢাকায় নামতে চান, তবে ‘একতা
এক্সপ্রেস’-এর এসি কোচে টিকিট কেটে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার পুরো জার্নিকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে পঞ্চগড় টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
ভালোভাবে জেনে ভ্রমণের কয়েকদিন আগেই অনলাইনে টিকিট বুক করে নিন। শেষ
মুহূর্তের দালাল বা কাউন্টারের ভিড় এড়াতে এটি যেমন কাজে দেয়, তেমনই
স্টেশনে অন্তত আধা ঘণ্টা আগে পৌঁছালে কোনো তাড়াহুড়ো থাকে না। আমি যেভাবে
নিয়মিত স্বাচ্ছন্দ্যে এই রুটে যাতায়াত করি, আশা করি আমার এই বাস্তব
অভিজ্ঞতা ও ছোট ছোট টিপসগুলো মেনে চললে আপনার পঞ্চগড় থেকে ঢাকার ভ্রমণটিও
ঠিক তেমনই আরামদায়ক, মসৃণ ও স্মরণীয় হবে। আপনার আগামীর প্রতিটি যাত্রা শুভ
ও নিরাপদ হোক! এমন সব বাস্তব টিপস, তথ্য ও সঠিক নির্দেশনার জন্য সবসময়
ইনফোনেস্ট আইটি-র সাথেই থাকুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url