উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া (২০২৬)
উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী, ছুটির দিন, টিকিটের সঠিক দাম ও অনলাইন
বুকিং নিয়ম জানুন। নতুন সময়সূচী ও ট্রেন ট্র্যাকিং কোডসহ সম্পূর্ণ আপডেট তথ্য
এক জায়গায়।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয় পর্যায়ক্রমে এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা আপনি
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একবার মনোযোগ দিয়ে পড়লে এ বিষয়ে আপনার সকল প্রশ্নের
উত্তর খুব সহজেই খুঁজে পাবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
- উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী?
- উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিটের দাম?
- উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহীর মধ্যে বিরতি স্টেশন?
- এই যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য ভালো?
- রাজশাহী থেকে উল্লাপাড়া ফেরত আসার সময়সূচী?
- অনলাইনে টিকিট কাটার খুব সহজ মাধ্যম?
- উল্লাপাড়া স্টেশন কাউন্টার ও যাত্রীদের টিপস?
- এসএমএসের মাধ্যমে লাইভ লোকেশন জানুন?
- যাত্রীদের সবচাইতে বেশি করা কিছু প্রশ্ন উত্তর?
- এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?
উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী?
আপনি কি উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী খুঁজছেন? উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী
যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ মাধ্যম হলো ট্রেন। স্টেশনে গিয়ে যেন বিড়ম্বনায়
পড়তে না হয়, তাই এই রুটে চলাচলকারী সকল ট্রেনের একদম তাজা ও সঠিক সময়সূচী নিচে
দেওয়া হলোঃ
| ট্রেনের নাম | ধরন | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | অফ-ডে |
|---|---|---|---|---|
| পদ্মা (৭৫৯) | আন্তঃনগর | রাত ০১ঃ৩৩ | ভোর ০৪ঃ০০ | মঙ্গলবার |
| রাজশাহী (৫) | মেইল | রাত ০৩ঃ১৫ | সকাল ০৬ঃ১৫ | নেই |
| ধূমকেতু (৭৬৯) | আন্তঃনগর | সকাল ০৮ঃ৫৯ | দুপুর ১১ঃ৪০ | বৃহস্পতিবার |
| ধলেশ্বরী (৩৭) | মেইল | দুপুর ০১ঃ২০ | বিকাল ০৪ঃ৩০ | নেই |
| সিল্কসিটি (৭৫৩) | আন্তঃনগর | বিকাল ০৫ঃ৩৪ | রাত ০৮ঃ২০ | রবিবার |
ভ্রমণের আগে কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। আন্তঃনগর
ট্রেনের (পদ্মা, ধূমকেতু, সিল্কসিটি) সময়কাল বেশ সঠিক হলেও মেইল ট্রেনের সময়ে
মাঝে মাঝে ১০-১৫ মিনিট দেরি হতে পারে। আবার ইন্টারসিটি ট্রেনগুলোতে নির্দিষ্ট
ছুটির দিন থাকে, যা মেইল ট্রেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সুতরাং, ভ্রমণের দিন
ছুটির দিনটি সঠিকভাবে যাচাই করুন এবং কোনো সমস্যা ছাড়াই সিট নিশ্চিত করতে অন্তত
২০-৩০ মিনিট আগে উল্লাপাড়া স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিটের দাম?
উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের টিকিটের মূল্য মূলত ট্রেনের টাইপ ও সিটের
শ্রেণীর উপর নির্ভর করে। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বের জন্য নির্ধারিত
সিটের ভাড়া রয়েছে, ফলে পদ্মা, ধূমকেতু বা সিল্কসিটি যেকোনো আন্তঃনগর ট্রেনে উঠলেই
মূল ভাড়া একই থাকবে। মেইল ট্রেনের সাধারণ সিটের ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর
আন্তঃনগর ট্রেনে শোভন চেয়ার ১২৫ টাকা, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ২৪০ টাকা, এসি সিট
২৮৫ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ৪৩০ টাকা।
| ট্রেনের ধরন | সিটের ধরন | আসল ভাড়া | অনলাইন ভাড়া |
|---|---|---|---|
| মেইল | সাধারণ | ৳৫০ - ৳৬০ | ৳৭০ - ৳৮০ |
| আন্তঃনগর | শোভন চেয়ার | ৳১২৫ | ৳১৪৫ |
| আন্তঃনগর | স্নিগ্ধা (এসি) | ৳২৪০ | ৳২৬০ |
| আন্তঃনগর | এসি সিট | ৳২৮৫ | ৳৩০৫ |
| আন্তঃনগর | এসি বার্থ | ৳৪৩০ | ৳৪৫০ |
কাউন্টার থেকে টিকিট কাটলে মূল ভাড়া পড়লেও অনলাইনে সহজে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে
প্রতি টিকিটে ২০ টাকা চার্জ এবং এসি টিকিটে ১৫% ভ্যাট জুড়তে হয়। এছাড়া, ছুটির
দিনে 'শোভন চেয়ার' ও 'স্নিগ্ধা' ক্লাসের সিটের চাহিদা বেশি হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত
সমস্যাতেই ভ্রমণের ৩-৪ দিন আগে টিকিট কেটে রাখা উত্তম।
উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহীর মধ্যে বিরতি স্টেশন?
আরে ভাই, উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী তো জেনে নিলেন, কিন্তু মাঝপথে
আপনার ট্রেনটি ঠিক কোথায় কোথায় দাঁড়াবে সেই খবর রেখেছেন কি? উল্লাপাড়া থেকে ছাড়ার
পর ট্রেনের ধরন অনুযায়ী বিরতি স্টেশনের সংখ্যা একটু কম-বেশি হতে পারে। আপনি যদি
দ্রুতগতির পদ্মা, সিল্কসিটি বা ধূমকেতু এক্সপ্রেসের মতো ইন্টারসিটি ট্রেনে চেপে
বসেন, তবে ট্রেনগুলো কেবল বড় বড় জংশনে চটজলদি বিরতি দেবে। আর মেইল ট্রেনে উঠলে
মাঝপথের ছোটখাটো প্রায় সব স্টেশনেই কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেবে। এই রুটের প্রধান বিরতি
স্টেশনগুলো এক নজর দেখে নিনঃ
- বড়াল ব্রিজঃ আন্তঃনগর ও মেইল উভয় ট্রেনই থামে।
- চাটমোহরঃ ইন্টারসিটি ও মেইল ট্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিরতি স্টেশন।
- ঈশ্বরদী জংশনঃ উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান রেল জংশন, যেখানে সব ট্রেনই থামে।
- আব্দুলপুর জংশনঃ আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনগুলোর জন্য আরেকটি বড় স্টপেজ।
- আজিমনগরঃ মূলত মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলো এখানে দাঁড়ায়।
- আড়ানীঃ ইন্টারসিটি ও মেইল ট্রেনের জন্য জনপ্রিয় স্টপেজ।
- হরিয়ানঃ রাজশাহী পৌঁছানোর ঠিক আগের স্টেশন, যেখানে মূলত মেইল ট্রেন থামে।
যাই হোক, আপনি টিকিট কাটার আগে বা ট্রেনে ওঠার আগে নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে আপনার
নির্বাচিত ট্রেনের স্টপেজগুলি আপনার গন্তব্যের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে কি না। বিশেষ
করে ঈশ্বরদী বা আব্দুলপুর জংশনে অনেক যাত্রীর নামা-ওঠার তাড়া থাকে। তাই সময় নিয়ে
আরামে যাত্রা শুরু করুন।
এই যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য ভালো?
আরে ভাই, উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী দেখে তো সময় এবং ভাড়ার হিসাব
করে নিলেন। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল এতগুলোর মধ্যে আপনার জন্য নিখুঁত ট্রেনটি কোনটি
হবে?
সত্যি বলতে, প্রত্যেকের পছন্দের রূপ কিন্তু এক নয়। কেউ চায় দ্রুত এবং আরামদায়ক
যাত্রা, কারও বাজেট কম, আবার কেউ ভোরের আলো ফোটার আগে গন্তব্যে পৌঁছাতে পছন্দ
করেন। আপনার প্রয়োজন ও সুবিধার ভিত্তিতে কোন ট্রেনটি বেছে নেবেন, তা নিচে সহজভাবে
বোঝানো হয়েছে।
- দ্রুত ও এসি আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য পদ্মা বা ধূমকেতু এক্সপ্রেসঃ আপনি যদি গরমের দিনে একদম শান্তিতে, এসি স্নিগ্ধা বা কেবিনে আরামে হেলান দিয়ে যেতে চান এবং দ্রুত পৌঁছাতে চান, তবে পদ্মা বা ধূমকেতু এক্সপ্রেস আপনার জন্য সেরা। মাত্র আড়াই ঘণ্টার একটু বেশি সময়ে এগুলো আপনাকে পৌঁছে দেবে।
- বিকেলের রিল্যাক্সড জার্নির জন্য সিল্কসিটি এক্সপ্রেসঃ সারাদিনের কাজকর্ম শেষে বিকেলবেলা শান্তিতে ভ্রমণ করতে চাইলে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস একদম পারফেক্ট। এর শোভন চেয়ার ও এসি সিট দুটোই বেশ আরামদায়ক এবং রাতের খাবারের আগেই আপনাকে রাজশাহী পৌঁছে দেবে।
- যাঁরা খুব সকালে বা ভোরে পৌঁছাতে চান পদ্মা এক্সপ্রেসঃ আপনার যদি রাজশাহীতে গিয়ে সকালেই কোনো অফিস, পরীক্ষা বা জরুরি কাজ থাকে, তবে রাতের পদ্মা এক্সপ্রেসে উঠলে ভোর ৪ঃ০০ টার মধ্যেই পৌঁছাতে পারবেন। এতে আপনার পুরো দিনটি কাজের জন্য ফাঁকা থাকবে।
- কম খরচে ও বাজেট ফ্রেন্ডলি ভ্রমণের জন্য রাজশাহী বা ধলেশ্বরী এক্সপ্রেসঃ আপনি যদি খুব কম খরচে যাতায়াত করতে চান এবং সময়ের অত তাড়াহুড়ো না থাকে, তবে মেইল ট্রেনের সাধারণ সিট বেছে নিতে পারেন। মাত্র ৫০-৬০ টাকার টিকিটে অনায়াসে চলে যেতে পারবেন।
- জরুরি প্রয়োজনে ছুটির দিনেও ভ্রমণ মেইল ট্রেনঃ ইন্টারসিটি ট্রেনগুলোর সপ্তাহে একদিন অফ-ডে বা ছুটি থাকে। কিন্তু কোনো কারণে ছুটির দিনে আপনাকে হঠাৎ যেতেই হলে রাজশাহী বা ধলেশ্বরী এক্সপ্রেসই ভরসা, কারণ এগুলো সপ্তাহে সাত দিনই নিয়ম করে চলে।
তাহলে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণ আপনার ওপর আপনার যাত্রার প্রধান
উদ্দেশ্য, বাজেট এবং সময়ের একটু হিসাব করে দ্রুত টিকিটটি সংগ্রহ করুন। যে
ট্রেনই আপনি নির্বাচন করেন, যাত্রা যেন আপনার জন্য সুখকর ও সহজ হয় এমনই শুভ
কামনা।
রাজশাহী থেকে উল্লাপাড়া ফেরত আসার সময়সূচী?
রাজশাহীর কাজ শেষ করার পর কি এখন বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন? যাওয়ার পথের মতো
রাজশাহী থেকে উল্লাপাড়া ফেরার পথটাও কিন্তু বেশ সুখকর, যদি ট্রেনের সময়সূচীটা আগে
থেকেই জানেন। প্রতিদিন সকালে, বিকেলে বা রাতে আপনাকে নিরাপদে পৌঁছে দিতে বেশ কিছু
ট্রেন রাজশাহী স্টেশন থেকে উল্লাপাড়ার দিকে বের হয়। আপনার সুবিধা ও পছন্দ অনুযায়ী
ফেরার পরিকল্পনাটা সঠিকভাবে করতে পারেন, তাই নিচের ছকে ফেরার ট্রেনের শিডিউলটা
সাজিয়ে দেওয়া হলোঃ
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|
| সিল্কসিটি | সকাল ০৭ঃ৩০ | সকাল ০৯ঃ৪০ | রবিবার |
| পদ্মা | বিকাল ০৪ঃ০০ | সন্ধ্যা ০৬ঃ১৫ | মঙ্গলবার |
| ধূমকেতু | রাত ১১ঃ২০ | রাত ০১ঃ৩৫ | শনিবার |
| রাজশাহী এক্স | রাত ০৮ঃ১৫ | রাত ১০ঃ৫০ | নেই |
তবে ফেরার ট্রেনের জন্য উঠার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন পছন্দের ট্রেনের
ছুটির দিনটি একটু চেক করে নেওয়া কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা
উৎসবের সময় যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়ে যায়, তাই শেষ মুহূর্তের চাপ থেকে মুক্ত থাকতে
যাওয়া-আসার টিকিটের সঙ্গে ফিরতি যাত্রার আসনটি কাটিয়ে ফেলা সবচেয়ে বিচক্ষণ
পদক্ষেপ হবে।
অনলাইনে টিকিট কাটার খুব সহজ মাধ্যম?
স্টেশনের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা না করেই এখন ঘরে বসে স্মার্টফোন
ব্যবহার করে ট্রেনের টিকিট কেনা সম্ভব। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
(eticket.railway.gov.bd) বা মোবাইল অ্যাপ ‘Rail Sheba’-এর মাধ্যমে সহজেই আপনি
যেকোনো ট্রেনের সিট বুকিং করতে পারবেন। এতে আপনার সময় সাশ্রয় হবে এবং নিজের
পছন্দমত সময়ে ও সিটে যাওয়ার স্বাধীনতা পাবেন।
টিকিট ক্রয়ের প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। প্রথমবারের জন্য রেজিস্ট্রেশনের সময় এনআইডি
(NID) দিয়ে একাউন্ট নিশ্চিত করে আপনার যাত্রার শুরুস্থল (Ullapara), গন্তব্য
(Rajshahi) ও তারিখ নির্বাচন করে খুঁজুন। এরপর পছন্দের সিট নির্বাচন করে বিকাশ,
নগদ, রকেট বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে মোবাইলে ই-টিকিট চলে আসবে যা ভ্রমণের
সময় প্রদর্শন করলেই যথেষ্ট।
আপনি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন। ঠিকমতো এখনো না বুঝতে পারেন তাহলে
এখানে ক্লিক
করুন। এখানে আমি আরো বিস্তারিত ভেঙে ভেঙে সব কিছু বুঝিয়ে দিয়েছি। মাঝেমধ্যে
স্ক্রিনশট ব্যবহার করেও দিয়েছে। আপনার যদি এ বিষয়ে একেবারে শূন্য ধারণা থাকে
তাও এই আর্টিকেলটা পড়ে আপনি পড়তে পড়তে খুব সুন্দর ভাবেই অনলাইনে টিকিট কাটার
কাজটি খুব সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।
উল্লাপাড়া স্টেশন কাউন্টার ও যাত্রীদের টিপস?
কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটার অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে, তারা জানেন শেষ মুহূর্তের
তাড়াহুড়ো কতটা সমস্যার কারণ হয়। যদি আপনি অনলাইন ঝুঁকি এড়িয়ে সরাসরি
উল্লাপাড়া স্টেশন কাউন্টার থেকে ম্যানুয়ালি টিকিট কাটতে চান, তবে ট্রেন ছাড়ার
অন্তত আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আগে স্টেশনে যাওয়া মঙ্গলজনক হবে। বিশেষ করে ছুটির
দিনগুলোতে সিটের চাহিদা বেশি থাকে, তাই কাউন্টার খোলার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে
দাঁড়ানোই সুবিধাজনক।
এছাড়া স্টেশনে ঢোকার আগে টিকিটের টাকা হাতে বা খুচরো করে রাখলে টাকা ফেরত পাওয়ার
ঝামেলা কমবে এবং কাউন্টারের সার্ভিসও দ্রুত হবে।স্টেশনে অপেক্ষার সময়টাকে
আরামদায়ক করতে প্ল্যাটফর্মের নিয়মকানুনগুলি মনে রাখা জরুরি। আপনার ট্রেনের
সময়সূচী ও প্ল্যাটফর্ম নম্বর বারবার মাইকের ঘোষণা শুনে নিশ্চিত করুন, কারণ
শেষমুহূর্তে প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন হতে পারে।
এবং ট্রেন যখন প্ল্যাটফর্মে আসবে, তখন তাড়াহুড়ো না করে অন্য যাত্রীদের আগে নামতে
দিন, তারপর নিজে উঠুন। ভারী মালামাল থাকলে একটু সাবধান থাকবেন এবং যাত্রায়
অপরিচিত কারোর দেওয়া খাবার থেকে বিরত থাকুন এই সহজ সতর্কতাগুলি আপনার যাত্রাকে
নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলবে।
এসএমএসের মাধ্যমে লাইভ লোকেশন জানুন?
ধরুন আপনি উল্লাপাড়া স্টেশনে বসে আছেন অথবা বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুতি
নিচ্ছেন কিন্তু ঠিক এই সময় ট্রেনটি কোথায় আছে কিংবা স্টেশনে আসতে কতটা সময় লাগবে,
তা নিয়ে ভাবছেন? একদম চিন্তা করবেন না! কোনো জটিল অ্যাপ বা ইন্টারনেট ছাড়াই আপনার
হাতের সাধারণ বাটন অথবা স্মার্টফোন ব্যবহার করে একটি এসএমএস পাঠিয়ে লাইভ লোকেশন
পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদাহরণ নিয়ে ভাবা যাক।
মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন TR 760 (কারণ পদ্মা এক্সপ্রেসের নম্বর ৭৬০) এবং ১৬৩১৮
নম্বরে পাঠিয়ে দিন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি ফিরতি এসএমএস পাবেন, যেখানে থাকবে
ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে রয়েছে এবং আপনার স্টেশনে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে।
এভাবে যেকোনো ট্রেনের নম্বর ব্যবহার করে মুহূর্তেই ট্রেনের অবস্থান জানার
ব্যবস্থা আছে।
যাত্রীদের সবচাইতে বেশি করা কিছু প্রশ্ন উত্তর?
প্রশ্নঃ উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
- উত্তরঃ মেইল ট্রেনে ৫০ টাকা এবং আন্তঃনগর ট্রেনে ১২৫ টাকা।
প্রশ্নঃ উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী যেতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ আনুমানিক ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
প্রশ্নঃ অনলাইন টিকিটে কি বাড়তি টাকা লাগে?
- উত্তরঃ হ্যাঁ, অনলাইন ফি বাবদ প্রতি টিকিটে ২০ টাকা লাগে।
প্রশ্নঃ আন্তঃনগর ট্রেন কি প্রতিদিনই চলে?
- উত্তরঃ না, প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট ছুটি থাকে।
প্রশ্নঃ অনলাইনে কাটা টিকিট কি প্রিন্ট করতে হবে?
- উত্তরঃ না, মোবাইলে ই-টিকিট দেখালেই হবে।
প্রশ্নঃ কত দিন আগে টিকিট কেনা যায়?
- উত্তরঃ যাত্রা শুরুর সর্বোচ্চ ১০ দিন আগে টিকিট কেনা যায়।
এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?
দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, উল্লাপাড়া থেকে
রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ঠিকঠাক জেনে নিয়ে আগেভাগে পরিকল্পনা করাই হচ্ছে
নিশ্চিন্ত জার্নির মূল চাবিকাঠি। আমার নিজের যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি,
শেষ মুহূর্তে কাউন্টারে দৌড়ঝাঁপ না করে যাত্রার ২-৩ দিন আগেই অনলাইনে টিকিট
কেটে রাখলে মানসিক শান্তি যেমন থাকে, তেমনি নিজের পছন্দমতো সিটও নিশ্চিত পাওয়া
যায়। আর কম সময়ে ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য আমার ব্যক্তিগত পছন্দ দুপুরের
সিল্কসিটি কিংবা ভোরের পদ্মা এক্সপ্রেস যেগুলোতে আমি নিজে ভ্রমণ করে সবচেয়ে
ভালো সার্ভিস পেয়েছি।
আমার পরামর্শ থাকবে, আপনিও উল্লাপাড়া থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী
‘Rail Sheba’ অ্যাপ দিয়ে টিকিট কাটবেন এবং স্টেশনে যাওয়ার আগে অবশ্যই SMS-এর
মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন জেনে নেবেন। এতে স্টেশনে অযথা বসে থাকার ঝামেলা
এড়ানো যায়। আশা করি, আমার এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি টিপসগুলো মেনে
চললে আপনার ভ্রমণ হবে একদম ঝামেলাহীন ও আনন্দদায়ক।রেলপথের এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা,
আপডেটেড তথ্য ও ভ্রমণ সংক্রান্ত টিপস পেতে সবসময়
ইনফোনেস্ট আইটির সাথেই থাকুন।
আপনারযাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক!



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url