লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ (আপডেট)
লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের সময়, বিরতি স্টেশন ও আসনভিত্তিক
ভাড়ার আপডেটেড তালিকা জানুন। টিকিট কাটা ও ট্র্যাকিং ট্রিপস এখানে দেখুন।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি। আপনি চাইলেই শুরু
থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন। কারণ এখানে প্রত্যেকটা তথ্য
সর্বশেষ আপডেট করে উপস্থাপন করা আছে।
পেজ সূচিপত্রঃ লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
- লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
- লাকসাম টু ঢাকা ট্রেনের আসন ভিত্তিক ভাড়া
- লাকসাম টু ঢাকা ট্রেনের বিরতি স্টেশন
- যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
- অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
- নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের টিপস
- মোবাইলে ট্রেনের লাইভ লোকেশন ট্র্যাকিং
- ঢাকা পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় ও টিপস
- এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর
- আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
আপনি কি লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী খুঁজে হয়রান হচ্ছেন? ট্রেনে ভ্রমণের
দারুণ বিষয় হলো ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়া নিশ্চিন্তে পৌঁছানো যায়। লাকসাম জংশন থেকে
প্রতিদিন বেশ কিছু চমৎকার ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সঠিক সময়সূচী জেনে
সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারলে আপনার পুরো ভ্রমণটাই হবে একেবারে ঝরঝরে ও
নিখুঁত।
| ট্রেনের নাম | ট্রেনের কোড | লাকসামে পৌঁছাবে | ঢাকায় পৌঁছাবে | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| তূর্ণা এক্সপ্রেস | ৭৪১ | রাত ০১ঃ৩০ | ভোর ০৫ঃ১০ | নেই |
| উপকূল এক্সপ্রেস | ৭১১ | সকাল ০৭ঃ২৫ | সকাল ১১ঃ২০ | বৃহস্পতিবার |
| চট্টলা এক্সপ্রেস | ৮০১ | সকাল ০৮ঃ১৭ | দুপুর ১২ঃ৪০ | শুক্রবার |
| মহানগর এক্সপ্রেস | ৭২১ | দুপুর ০২ঃ৪২ | সন্ধ্যা ০৬ঃ৪০ | রবিবার |
| মহানগর গোধূলি | ৭০৩ | বিকেল ০৫ঃ০৪ | রাত ০৮ঃ৪৫ | নেই |
ট্রেনের সঠিক সময়সূচী জানা থাকলে স্টেশনে গিয়ে অযথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
করতে হয় না। তালিকায় উল্লেখ করা সময় অনুযায়ী আপনার convenience অনুযায়ী ট্রেন
চয়ন করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, মাঝে মাঝে সিগন্যালের লাইনে জ্যাম থাকলে সময়
কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তাই একটু সময় নিয়ে স্টেশনে পৌঁছানো বুদ্ধিমানের কাজ।
লাকসাম টু ঢাকা ট্রেনের আসন ভিত্তিক ভাড়া
ট্রেন ভ্রমণের আনন্দই অন্যরকম, তবে যাত্রার আগে টিকিটের মূল্য বা আসনভিত্তিক
ভাড়ার সঠিক জ্ঞান থাকলে বাজেট তৈরি করা সহজ হয়। লাকসাম থেকে ঢাকা রুটে বিভিন্ন
ধরণের আসনের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে আপনার ইচ্ছে ও বাজেট অনুযায়ী সহজেই একটি
আরামদায়ক আসন নির্বাচন করা সম্ভব।নিচে ঢাকা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ট্রেনের
আসনভিত্তিক হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা প্রদান করা হলোঃ
| আসনের ধরন | কাউন্টার ভাড়া | অনলাইন ভাড়া |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ২৮০ টাকা | ২৯০ টাকা |
| প্রথম সিট | ৪২৬ টাকা | ৪eb টাকা |
| স্নিগ্ধা (AC Chair) | ৫৩৫ টাকা | ৫৫৫ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ৬৩৯ টাকা | ৬৬০ টাকা |
| প্রথম বার্থ | ৬৮৯ টাকা | ৭১০ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ১,০১১ টাকা | ১,০৪৫ টাকা |
যদি আপনি একদম সহজ ও কম খরচে আরামদায়ক ভ্রমণ চান, তাহলে শোভন চেয়ার আপনার জন্য
আদর্শ বিকল্প। আর গরমের দিনে কিছুটা স্বস্তি আর এসি সুবিধা পেতে চাইলে স্নিগ্ধা
বা এসি সিট নিতে পারেন। একটি ছোট পরামর্শ অনলাইনে টিকিট কেনার সময় সার্ভিস
চার্জ হিসেবে প্রতি সিটে ১০-২০ টাকা বাড়তি হয়ে যায়, সুতরাং সেই অনুযায়ী
পরিকল্পনা করে টিকিট কেনা শুরু করাই ভালো।
লাকসাম টু ঢাকা ট্রেনের বিরতি স্টেশন
লাকসাম থেকে ঢাকায় ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় পথে বিভিন্ন স্টেশনগুলো দেখা সত্যি
রোমাঞ্চকর। লাকসাম জংশন থেকে শুরু করে ট্রেনটি দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর
পেরিয়ে কমলাপুর স্টেশনের দিকে চলে যায়। প্রতিটি বিরতি স্টেশনে ট্রেন থামলে
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কত রঙিন মানুষ ও স্টেশনের গুঞ্জন দৃশ্যমান হয়!যাত্রাপথে
ট্রেনটি ঠিক কত কিমি পাড়ি দিচ্ছে এবং মাঝপথের কোন স্টেশনে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে
পারে, তার একটি সুন্দর ধারণা নিচে টেবিলে উপস্থাপন করা হলোঃ
| স্টেশনের নাম | লাকসাম থেকে দূরত্ব | যাত্রাবিরতির সময় |
|---|---|---|
| কুমিল্লা | ২৫ কিমি | ৩-৫ মিনিট |
| কসবা | ৬৫ কিমি | ২-৩ মিনিট |
| আখাউড়া জংশন | ৮৪ কিমি | ৫-৭ মিনিট |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ৯৯ কিমি | ৩-৫ মিনিট |
| আশুগঞ্জ | ১১৮ কিমি | ২-৩ মিনিট |
| ভৈরব বাজার জংশন | ১২২ কিমি | ৩-৫ মিনিট |
| নরসিংদী | ১৫৩ কিমি | ৩-৪ মিনিট |
| ঢাকা বিমানবন্দর | ১৯০ কিমি | ৩-৫ মিনিট |
| ঢাকা (কমলাপুর) | ২০৫ কিমি | শেষ গন্তব্য |
একটি বিষয় মাথায় রাখুন, সব ট্রেন কিন্তু প্রতিটি স্টেশনে থামেনা! যেমন তূর্ণা
এক্সপ্রেস বা মহানগর গোধূলি গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছাতে কসবা বা আশুগঞ্জের মতো ছোট
স্টেশনে থামে না। তাই ট্রেনে ওঠার আগে আপনার টিকিটটি দেখে নিশ্চিত করে নেওয়া
উচিত যে ট্রেনটি আপনার নির্দিষ্ট গন্তব্য স্টেশনে থামবে কি না।
যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
লাকসাম থেকে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্রেনের নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে, তবে
আপনার ভ্রমণের সময় ও চাহিদা অনুযায়ী সেরা ট্রেন নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি
আপনি দিনের আলোতে স্বাচ্ছন্দ্যে চারপাশের মনোরম দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা নিতে চান,
তবে মহানগর গোধূলি বা উপকূল এক্সপ্রেস আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ নির্বাচন হতে পারে।
বিশেষ করে যারা সকালে ঢাকায় পৌঁছিয়ে দিনের কাজ সম্পন্ন করতে চান, তাদের জন্য
সকালের উপকূল এক্সপ্রেস সুবিধাজনক।
অন্যদিকে, যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় একদিনের ছুটি বাঁচিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ঢাকা
পৌঁছানো, তবে চোখ বন্ধ করে তূর্ণা এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন। এই ট্রেনটি গভীর
রাতে লাকসাম জংশনে পৌঁছায় এবং মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে
কাকডাকা ভোরে ঢাকায় নিয়ে যাবে। ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ বেশ শান্ত থাকায়
ব্যবসায়িক বা জরুরি কাজে যাওয়া যাত্রীদের জন্য তূর্ণা এক্সপ্রেস সবসময়ই অত্যন্ত
জনপ্রিয় ও প্রথম পছন্দ।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
আজকাল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার সেই ভোগান্তি আর নেই বললেই
চলে, মোবাইল দিয়েই কয়েক মিনিটে টিকিট কেটে নেওয়া যায়। অনলাইনে লাকসাম থেকে
ঢাকা ট্রেনের টিকিট কাটতে প্রথমে আপনাকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
(eticket.railway.gov.bd) অথবা Rail Sheba অ্যাপে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র
(NID) দিয়ে রেজিস্ট্রেশন বা লগইন করতে হবে। এরপর ‘From’ বক্সে Laksam এবং
‘To’ বক্সে Dhaka নির্বাচন করে আপনার ভ্রমণের তারিখ ও পছন্দের আসন (যেমন:
শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা) বাছাই করলেই উপলব্ধ সব ট্রেনের তালিকা আপনার সামনে
চলে আসবে।
পছন্দের ট্রেন এবং খালি সিট সিলেক্ট করার পর অনলাইন পেমেন্টের পালা। আপনি
বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজেই
টিকিটের টাকা পরিশোধ করে দিতে পারবেন। পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথেই আপনার
ইমেইল ও অ্যাপে একটি PDF ই-টিকিট চলে আসবে। এই টিকিটটি মোবাইলে সেভ করে নিলেই
চলবে; তবে নিরাপদে ভ্রমণের স্বার্থে স্টেশনে গিয়ে ডিসপ্লে কাউন্টার থেকে মূল
টিকিটটি প্রিন্ট করে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আর আপনি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন এখনো না বুঝতে পারেন। কিভাবে টিকিট কাটার
কাজটি সম্পন্ন করবেন। তাহলে আপনি
এখানে ক্লিক করুন। এখানে আমি প্রত্যেকটা বিষয়ে আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি। স্ক্রিনশট এর
মাধ্যমে প্রত্যেকটা বিষয়কে আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি যার নতুনদের জন্য
বুঝতে অনেক সুবিধা হবে। তাই আপনার এ বিষয়ে যদি একেবারে শূন্য ধরনের থাকে তাহলে
আপনি এখনই গিয়ে আর্টিকেলটা পড়ে নিন এবং টিকিট কাটার কাজটি সম্পন্ন
করুন।
নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের টিপস
ভ্রমণ তখনই শতভাগ আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে, যখন প্রস্তুতিটা হয় একেবারে নিখুঁত ও
পরিকল্পিত। আপনি যদি ট্রেন ভ্রমণের কথা ভেবে থাকেন, তবে প্রথমেই লাকসাম থেকে
ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ভালোভাবে দেখে নিয়ে সেই অনুযায়ী স্টেশনে পৌঁছানোর একটি
সঠিক পরিকল্পনা করে নিন। যাত্রার দিনে অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে লাকসাম জংশনে
উপস্থিত থাকা ভালো, কারণ ট্রেন আসার পর হুড়োহুড়ি করে উঠতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত
দুর্ঘটনা বা মালামাল হারানোর ঝুঁকি থেকে যায়। এছাড়া কামরায় নিজের নির্দিষ্ট
আসনে বসার পর ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সিটের ওপরের র্যাকে নিরাপদে রাখুন
এবং অচেনা কারো দেওয়া কোনো খাবার খাওয়া থেকে একেবারেই বিরত থাকুন।
দীর্ঘ যাত্রায় আরামদায়ক অভিজ্ঞতার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটার সময়েই আপনার
সুবিধা অনুযায়ী পছন্দসই সিট বেছে নেওয়া জরুরি। গরমের দিনে ভ্রমণের জন্য
স্নিগ্ধা বা এসি ক্লাসের টিকিট বেশ স্বস্তিদায়ক, তবে সাধারণ আবহাওয়ায় শোভন
চেয়ারের জানালাপাশের সিটে বসে বাইরের রূপ দেখতে দেখতে যাওয়ার মজাই আলাদা। তাই
ঝুটঝামেলা এড়াতে লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী দেখে বেশ কয়েক দিন আগেই
অনলাইনে আপনার কাঙ্ক্ষিত আসনটি বুক করে রাখুন। যাত্রাপথে হালকা সুতি পোশাক
পরা, সাথে নিজের সুপেয় পানির বোতল রাখা এবং পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা আপনার এই
পুরো সফরকে করবে আরো বেশি নিশ্চিন্ত, আরামদায়ক ও স্মরণীয়।
মোবাইলে ট্রেনের লাইভ লোকেশন ট্র্যাকিং
ট্রেন স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করার কষ্টটি আমাদের সবারই অল্প-বিস্তর অভিজ্ঞতা
রয়েছে। তবে আপনার স্মার্টফোন বা সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করে খুব সহজেই জানতে
পারবেন আপনার ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে এবং কত মিনিট দেরিতে
চলছে!যেমন ধরুন, আপনি রাতে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় যাচ্ছেন। তূর্ণা
এক্সপ্রেস ট্রেনের কোড ৭৪১।
এই ট্রেনের লাইভ লোকেশন জানার জন্য আপনার মোবাইলে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখবেনঃ TR
741 এবং এটি 16318 নম্বরে পাঠাবেন।ফিরতি এসএমএস-এ বাংলাদেশ রেলওয়ে আপনাকে
দ্রুত তথ্য দিবে যে ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে রয়েছে, পরবর্তী স্টেশন কোনটি
এবং লাকসাম জংশনে পৌঁছাতে আনুমানিক কত মিনিট সময় লাগবে। এভাবে যেকোনো ট্রেনের
কোড ব্যবহার করে ভ্রমণের আগে ট্রেনের সঠিক অবস্থান জেনে আপনি নিশ্চয়ে স্টেশনের
দিকে রওনা দিতে পারবেন।
ঢাকা পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় ও টিপস
লাকসাম জংশন থেকে শুরু করে ঢাকায় পৌঁছাতে সাধারণত ট্রেনের উপর ভিত্তি করে ৩
ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে। যেমন তূর্ণা
এক্সপ্রেস বা মহানগর গোধূলির মতো দ্রুততম আন্তঃনগর ট্রেনগুলো খুব কম বিরতি দেয়,
তাই রাত ০১ঃ৩০ মিনিটে লাকসাম ছাড়লে ভোর ০৫ঃ১০ মিনিটের মধ্যে কমলাপুরে পৌঁছে
যায়। আবার, চট্টগ্রাম থেকে আসা চট্টগ্রাম বা উপকূল এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলো
মাঝপথে কিছু ছোট স্টেশনে থামে, ফলে এদের চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো সময়
লাগে।সময়মতো ঢাকা পৌঁছনোর জন্য কয়েকটি কার্যকর টিপস মনে রাখা খুব উপকারী।
বিশেষ করে কর্মদিবসে সকালে বিমানবন্দর বা কমলাপুর স্টেশনে নেমে ট্রাফিক জট
এড়াতে আগে থেকেই গন্তব্যের রাইড বুক করা উচিত। তদুপরি, যদি আপনি ভোরবেলা তূর্ণা
এক্সপ্রেসে ঢাকা এসে থাকেন, তবে স্টেশন চত্বরে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে সকাল বেেলা
হওয়ার পর রওনা হওয়া নিরাপদ। আর ছুটির দিনে ট্রাফিক বা লাইনের সংকটের কথা মাথায়
রেখে সবসময় অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় নিয়ে আপনার মিটিং বা
অ্যাপয়েন্টমেন্টের সূচি নির্ধারণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্নঃ লাকসাম থেকে ঢাকা সবচেয়ে দ্রুত পৌঁছে কোন ট্রেন?
- উত্তরঃ তূর্ণা এক্সপ্রেস ও মহানগর গোধূলি।
প্রশ্নঃ লাকসাম টু ঢাকা ট্রেনের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম কত?
- উত্তরঃ শোভন চেয়ার ২৮০ টাকা।
প্রশ্নঃ বাচ্চাদের টিকিটে কোনো ছাড় আছে কি?
- উত্তরঃ হ্যাঁ, ৩-১২ বছরের শিশুদের হাফ টিকিট।
প্রশ্নঃ ভ্রমণের দিন কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যাবে?
- উত্তরঃ সিট খালি থাকলে মিলবে, আগে কাটা ভালো।
প্রশ্নঃ লাকসাম জংশনে ট্রেন কতক্ষণ থামে?
- উত্তরঃ সাধারণত ৫ থেকে ১০ মিনিট।
প্রশ্নঃ টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
- উত্তরঃ হ্যাঁ, নিয়ম মেনে ক্যানসেল করলে রিফান্ড মিলবে।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী জেনে নিয়ে যদি আপনি ভ্রমণে বের হন, তবে
আপনার জার্নি যে কতটা ঝামেলাহীন আর আনন্দের হবে তা আমি নিজে বারবার অভিজ্ঞতা
থেকে টের পেয়েছি। আমি সবসময় একটা জিনিস বিশ্বাস করি সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং
আগাম প্রস্তুতি থাকলে পথের ক্লান্তি অর্ধেক কমে যায়। লাকসাম জংশনের কোলাহল
পেরিয়ে ট্রেনের জানালার পাশে বসে বাইরে দিগন্তজোড়া সবুজ দেখতে দেখতে ঢাকার
উদ্দেশ্যে ছুটে চলার স্বাদই আলাদা; আর আপনি যদি সঠিক ট্রেন আর সময়টা আগেই ঠিক
করে রাখেন, তবে ভ্রমণের সেই আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়।
লাকসাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী আপনার ভ্রমণের সময় বেছে নেওয়ার
ক্ষেত্রে আমার একটি ব্যক্তিগত পরামর্শ থাকবে আপনার যাত্রা যদি জরুরি কাজের
হয়, তবে তূর্ণা বা মহানগর গোধূলির মতো ট্রেনগুলো বেছে নেওয়াই সবচেয়ে
বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অনলাইনে কয়েক দিন আগে টিকিট কেটে রাখা এবং রওনা হওয়ার
আগে মোবাইলে ট্রেনের লাইভ লোকেশনটা একটু চেক করে নেওয়া আমার নিজের এই ছোট ছোট
অভ্যাসগুলো আমাকে কতবার যে স্টেশনের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি আর অহেতুক অপেক্ষা
থেকে বাঁচিয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। আশা করি, আমার এই ছোট্ট টিপস ও পুরো
তথ্যগুলো আপনার ভ্রমণকে অনেক বেশি আরামদায়ক করবে।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url