রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের সময় ও ভাড়ার তালিকা জানুন।
টিকিট কাটার সহজ নিয়ম ও ট্র্যাকিং টিপসসহ সঠিক তথ্য পেতে ভিজিট করুন। এখানে
প্রত্যেকটা বিষয়ে অনেক সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখা আছে।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি পর্যায়ক্রমে বসানো চেষ্টা করেছি। যাতে আপনি
প্রত্যেকটা তথ্য বা আপনার মনে থাকা প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর পর্যায়ক্রমে
পেয়ে যান। তাই লেখাটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানুন
- রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ছুটি
- রাজশাহী দিনাজপুর ট্রেনের টিকিটের ভাড়া তালিকা
- রাজশাহী দিনাজপুর ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ
- রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের রুট পরিচিতি
- টিকিট না পেলে বিকল্প কানেক্টিং ট্রেন
- অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
- যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
- মোবাইল এসএমএসে ট্রেনের লাইভ ট্র্যাকিং উপায়
- যাত্রীদের করা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর
- এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ছুটি
আপনি যদি শিক্ষানগরী রাজশাহী থেকে উত্তরের ঐতিহ্যবাহী জেলা দিনাজপুরে ট্রেন
ভ্রমণের প্ল্যান করে থাকেন, তবে রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের সময়সূচী
সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানা অত্যন্ত জরুরি। সত্যি বলতে, ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে
একটু স্বস্তির ভ্রমণের জন্য ট্রেনযাত্রার কোনো বিকল্প নেই। তবে এই রুটে
যাওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার রাজশাহী থেকে দিনাজপুর
সরাসরি যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন হলো বাংলাবান্ধা
এক্সপ্রেস। তাই ভ্রমণের শেষ মুহূর্তে স্টেশনে গিয়ে হয়রানি বা টিকিটের ঝামেলা
এড়াতে আগেই ট্রেন ছাড়ার সময় এবং ছুটির দিন জেনে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ
হবে।
| ট্রেন ও নম্বর | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটি |
|---|---|---|---|
| বাংলাবান্ধা (৮০৩) | রাত ০৯:০০ | রাত ০২:২৫ | শুক্রবার |
ভাই বা বোন হিসেবে একটা সত্যি অভিজ্ঞতা জানাই কারণ এই রুটে প্রতিদিন
শুধুমাত্র একটি ট্রেন চলাচল করে, তাই টিকিটের চাহিদা সবসময় উচ্চ থাকে। বিশেষ
করে ছুটির দিনে তো কথাই নেই! আর ভুলেও শুক্রবার রাতে রাজশাহী স্টেশনে গিয়ে
বসে থাকবেন না, কারণ ওইদিন ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তাই ভ্রমণের তারিখ
নির্ধারণ করার সঙ্গেই অনলাইন বা কাউন্টার থেকে টিকিটটি কনফার্ম করে নেওয়া
ভালো, এতে পুরো যাত্রা একদম নিশ্চিন্তে পার হয়ে যাবে।
রাজশাহী দিনাজপুর ট্রেনের টিকিটের ভাড়া তালিকা
ট্রেন ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় সময়ে সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে আমাদের চিন্তা
হয়, সেটি হলো রাজশাহী-দিনাজপুর ট্রেনের টিকিটের ভাড়া কত হতে পারে। সত্যি
বলতে, বাজেট অনুযায়ী সঠিক আসনটি নির্বাচন করতে পারলে পুরো সফরই বেশ উৎফুল্লকর
হয়ে ওঠে। আপনার পকেটের বাজেট যেমনই হোক কম খরচে সাধারণ সিটে যাত্রা করতে চান,
নাকি এসি সুপার সিটে আরাম করে যেতে চান রেলওয়ে তে সব ধরনের অপশনই রয়েছে।
চলুন, নিচে একটি সহজ এবং স্পষ্ট ছকের মাধ্যমে দেখে নেওয়া যাক বাংলাবান্ধা
এক্সপ্রেস ট্রেনের বিভিন্ন ক্লাসের ভাড়া কেমন।
| আসনের শ্রেণি (Class) | ভাড়ার পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ২৫৫/- |
| স্নিগ্ধা (AC Chair) | ৪৮৯/- |
| এসি সিট (AC Seat) | ৫৮৭/- |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ৮৭৪/- |
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়ে রাখি অনলাইনে টিকেট
কিনলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ২০ টাকা অতিরিক্ত লাগতে পারে, যা একদম স্বাভাবিক।
আর যদি আপনার বাজেট কম হয়, তবে শোভন চেয়ার যথেষ্ট আরামদায়ক এবং উপযুক্ত। তবে
গরমের দিনে বা কিছুটা নিরিবিলিতে আরাম করে ঘুমাতে চাইলে স্নিগ্ধা বা এরো
কন্ডিশনড সিটের বুকিং নেওয়াই উত্তম হবে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী সিটটি আগে থেকেই
কেটে রাখুন।
রাজশাহী দিনাজপুর ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ
রাজশাহী থেকে ট্রেন দিনাজপুরের দিকে যাত্রা করার সময় পথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ
স্টেশনে অল্প সময়ের জন্য থামে। যারা মাঝপথের স্টেশনগুলোতে নামতে চান বা
বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের কারো জন্য অপেক্ষা করেন, তাদের জন্য এই বিরতি এবং
সময় জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রাত ৯টায় রাজশাহী ত্যাগ করার পর ট্রেনটি কতোটা
সময় কোথায় থামে এবং আনুমানিক কত কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে, তা সহজভাবে
নিচে উপস্থাপন করা হলো।
| বিরতি স্টেশন | দূরত্ব (আনুমানিক) | বিরতি সময় |
|---|---|---|
| আব্দুলপুর জংশন | ৪৪ কিমি | ২০ মিনিট |
| নাটোর | ৫৭ কিমি | ০৩ মিনিট |
| মাধনগর | ৭৩ কিমি | ০২ মিনিট |
| আহসানগঞ্জ | ৮৪ কিমি | ০২ মিনিট |
| সান্তাহার জংশন | ১০৭ কিমি | ০৪ মিনিট |
| আক্কেলপুর | ১২৫ কিমি | ০২ মিনিট |
| জয়পুরহাট | ১৩৮ কিমি | ০২ মিনিট |
| পাঁচবিবি | ১৪৯ কিমি | ০২ মিনিট |
| বিরামপুর | ১৭০ কিমি | ০৩ মিনিট |
| ফুলবাড়ী | ১৮৩ কিমি | ০৩ মিনিট |
| পার্বতীপুর জংশন | ২০৩ কিমি | ২০ মিনিট |
| চিরিরবন্দর | ২১৬ কিমি | ০২ মিনিট |
| দিনাজপুর | ২৩০ কিমি | গন্তব্য স্টেশন |
যাত্রার ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা উচিত আব্দুলপুর এবং পার্বতীপুর জংশনে
ট্রেনটি ইঞ্জিন ঘুরানোর অথবা অন্য ট্রেনের সাথে ক্রসিংয়ের জন্য প্রায় ২০
মিনিটের মতো দীর্ঘ বিরতি নেয়। তাই এই সময়টাতে স্টেশনে নেমে একটু চা-নাস্তা
করা বা কিছুটা হাঁটাহাঁটি করে নিজেকে সতেজ করে নিতে পারবেন। তবে ট্রেনের
হুইসেল বাজলে সাথে সাথে নিজের সিটে ফিরে আসতে ভুলবেন না।
রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের রুট পরিচিতি
রাজশাহী থেকে দিনাজপুর যাওয়ার ট্রেনের পথটি চমৎকার এবং বৈচিত্র্যময়। রেলপথের
মোট দূরত্ব প্রায় ২৩০ কিলোমিটার। রাজশাহী স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার পরে
প্রথমে নাটোর ও পাবনা জেলার অংশ স্পর্শ করে ঐতিহ্যবাহী সান্তাহার জংশনের দিকে
যায়। এরপর জয়পুরহাট জেলা অতিক্রম করে ট্রেনটি উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রেল
জংশন পার্বতীপুরে প্রবেশ করে। পুরো যাত্রাপথে দুপাশে সবুজ প্রান্তর, ধানক্ষেত
আর উত্তরবঙ্গের গ্রামের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে সময় দারুণ কাটে।
তবে এই রুটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং টেকনিক্যাল বিষয় হলো ট্রেনের গতিপথ
পরিবর্তন। রাজশাহী থেকে ট্রেন ছাড়ার পর বড় থামোস্থান আব্দুলপুর জংশন এবং তার
পর পার্বতীপুর জংশন এই দুই স্থানে ট্রেনটির ইঞ্জিন ঘোরানো (Reversal) হয়।
পার্বতীপুর স্টেশন থেকে ট্রেনটি বাঁক নিয়ে সোজা পশ্চিম দিকে চিরিরবন্দর হয়ে
আধঘণ্টার মধ্যে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য দিনাজপুর জংশনে পৌঁছে যায়। এই পথে বেশ
কয়েকটি বড় নদী ও ঐতিহাসিক জংশন পার করতে হয়, ফলে প্রথমবার যারা এই রুটে ভ্রমণ
করেন, তাদের পক্ষে এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
টিকিট না পেলে বিকল্প কানেক্টিং ট্রেন
অনেকে অনেক সময় ভ্রমণের শেষ মুহূর্তে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের টিকিট পান না।
যেহেতু এই রুটে মাত্র একটি সরাসরি ট্রেন রয়েছে, তাই টিকিট শেষ হয়ে গেলে হতাশ
হয়ে বসে থাকার প্রয়োজন নেই! একটি অত্যন্ত সহজ উপায়ে আপনি নিশ্চিন্তে রাজশাহী
থেকে দিনাজপুরে পৌঁছাতে পারবেন এটি হলো কানেক্টিং ট্রেন বা রুট পরিবর্তন করে
যাওয়া।
এর জন্য আপনাকে খুব সহজ একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। রাজশাহী থেকে প্রতিদিন
চিলাহাটি বা পঞ্চগড়গামী বেশ কয়েকটি সুন্দর আন্তঃনগর ট্রেন ছাড়ে যেমন
বরেন্দ্র এক্সপ্রেস (৭৩২) অথবা তিতুমীর এক্সপ্রেস (৭৩৫)। আপনি সহজেই রাজশাহী
থেকে প্রথমে পার্বতীপুর জংশন পর্যন্ত টিকিট কিনতে পারেন। পার্বতীপুর জংশনে
নেমে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সেখান থেকে যে কোনো লোকাল, মেইল বা পঞ্চগড়গামী
কানেক্টিং ট্রেনে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে দিনাজপুর পৌঁছাতে পারবেন।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রাজশাহী থেকে দিনাজপুরের ট্রেনের টিকিট
কাটার প্রয়োজন নেই। নিজের স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে মাত্র কয়েক মিনিটে কাজটি
সম্পন্ন করা সম্ভব। এজন্য প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
(eticket.railway.gov.bd) অথবা Rail Sheba অ্যাপে গিয়ে নিজের এনআইডি (NID)
নম্বর ও ফোন নম্বর দিয়ে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর ‘From’ অপশনে
রাজশাহী এবং ‘To’ অপশনে দিনাজপুর নির্বাচন করে ভ্রমণের তারিখ ও পছন্দের আসন
(যেমন: শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা) বেছে নিয়ে বুকিং প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে হবে।
টিকিট নিশ্চিত করার চূড়ান্ত পর্বে পেমেন্ট সম্পূর্ণ করা খুবই সহজ। বিকাশ,
নগদ, রকেট অথবা যেকোনো ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে তাত্ক্ষণিকভাবে টিকিটের
নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করা সম্ভব। পেমেন্ট সফল হলে আপনার ফোনে একটি
কনফার্মেশন বার্তা পৌঁছে যাবে এবং আপনার ইমেইলে ই-টিকিট বা পিডিএফ কপি পাঠানো
হবে। যাত্রার আগে ই-টিকিটটি আপনার মোবাইলে সেভ করে রাখলেই হবে; এমনকি প্রিন্ট
না করলেও ই-টিকিটের রঙিন বা সাধারণ প্রিন্টকপি সাথে রাখলে নিরাপদে ও
অসুবিধাবিহীনভাবে ভ্রমণ করা যায়।
আপনি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন। এখনো না বুঝতে পারেন কোথা থেকে কি করব।
তাহলে আপনি
এখানে ক্লিক করুন। এখানে আমি প্রত্যেকটা বিষয় আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি।
প্রত্যেকটা বিষয়ে স্ক্রিনশট ব্যবহার করে উপস্থাপন করেছি। তাই আপনি খুব সহজেই
আর্টিকেলটি পড়তে পড়তে আপনার কনটেন্ট পড়ার পাশাপাশি টিকিট কাটার কাজটি
সম্পন্ন করতে পারেন। তাই এখনই গিয়ে আর্টিকেলটি করে আসুন টিকিট কাটার কাজটি
সম্পন্ন করুন।
যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
আপনি যদি সরাসরি এবং আরামদায়ক ভ্রমণ চান, তবে রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের
সময়সূচী অনুযায়ী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (৮০৩) নিঃসন্দেহে আপনার জন্য
সবচেয়ে সেরা পছন্দ। রাত ৯টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে শেষ রাতে দিনাজপুর পৌঁছানোর
কারণে আপনাকে দিনের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করতে হবে না। রাতের শান্ত
পরিবেশে ঘুমাতে ঘুমাতে যাত্রা শেষ করার জন্য এটি এক আদর্শ মাধ্যম। বিশেষ
করে যারা পরিবার, শিশু কিংবা বয়স্কদের সাথে ভ্রমণ করছেন, তাদের জন্য একটানা
এই সরাসরি জার্নিতেই সবচেয়ে বেশি সুবিধা ও স্বস্তি মিলবে।
অন্যদিকে, আপনার যদি সরাসরি ট্রেনের টিকিটের সংকট থাকে বা রাত জেগে ভ্রমণ
করতে মন না চায়, তবে বরেন্দ্র কিংবা তিতুমীর এক্সপ্রেসে পার্বতীপুর হয়ে
যাওয়াটা হতে পারে দারুণ এক বিকল্প। দিনে ভ্রমণের আনন্দ আলাদা, কারণ জানালার
পাশে বসে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতির রূপ দেখতে দেখতে যাওয়া যায়। তাই আপনার পছন্দ
যদি হয় রাতের নির্ঝঞ্জাট একটানা ভ্রমণ, তবে সরাসরি সময়সূচী মেনে
বাংলাবান্ধাকে প্রাধান্য দিন; আর দিনের আলোয় একটু ঘুরেফিরে যেতে চাইলে
কানেক্টিং ট্রেনের পরিকল্পনা বেছে নিন।
মোবাইল এসএমএসে ট্রেনের লাইভ ট্র্যাকিং উপায়
স্টেশনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে ট্রেন কখন আসবে তা ভেবে দুশ্চিন্তা
করার দিন কিন্তু এখন আর নেই। আপনার হাতে থাকা যেকোনো সাধারণ ফিচার ফোন বা
স্মার্টফোন থেকে একটি মাত্র ছোট এসএমএস পাঠিয়েই মুহূর্তের মধ্যে জেনে নেওয়া
সম্ভব আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি বর্তমানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছে এবং কত সময়
পর স্টেশনে পৌঁছাবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই সার্ভিসটি চালু থাকায় অহেতুক
প্ল্যাটফর্মে বসে অপেক্ষা করার বিড়ম্বনা থেকে খুব সহজেই বেঁচে যাওয়া যায়।
কাজটি করা খুবই সহজ; আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে TR লিখে
একটি স্পেস দিয়ে ট্রেনের নম্বর এবং পাঠাতে হবে 16318 নম্বরে। যেমন আপনি যদি
বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের বর্তমান লোকেশন জানতে চান, তবে আপনার ফোনে
টাইপ করুন TR 803 এবং পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে। সাথে সাথেই ফিরতি মেসেজে
ট্রেনটি এখন কোন স্টেশনে আছে এবং গন্তব্যের দিকে কতটা এগিয়েছে তা স্পষ্ট
জানিয়ে দেওয়া হবে। সার্ভিসটির জন্য সামান্য এসএমএস চার্জ প্রযোজ্য হলেও
সঠিক আপডেট পেতে এটি দারুণ কাজ করে।
যাত্রীদের করা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নঃ রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের দূরত্ব কত?
- উত্তরঃ রেলপথে মোট দূরত্ব প্রায় ২৩০ কিলোমিটার।
প্রশ্নঃ ট্রেনটিতে পৌঁছাতে মোট কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ আনুমানিক ৫ ঘণ্টা ২৫ মিনিট সময় লাগে।
প্রশ্নঃ এই রুটে সরাসরি ট্রেন কোনটি?
- উত্তরঃ একমাত্র সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন হলো বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (৮০৩)।
প্রশ্নঃ কত দিন আগে টিকিট কাটা যায়?
- উত্তরঃ ভ্রমণের ১০ দিন আগে থেকে টিকিট কাটা যায়।
প্রশ্নঃ শোভন চেয়ারের টিকিটের দাম কত?
- উত্তরঃ প্রতি সিটের ভাড়া ২৫৫ টাকা।
এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
সর্বশেষ লেখক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকেই বলব, ভ্রমণের আগে
রাজশাহী টু দিনাজপুর ট্রেনের সময়সূচী ভালোভাবে জেনে নেওয়াটা যে কতটা
স্বস্তিদায়ক, তা নিজে একাধিকবার ভ্রমণ করে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। যেহেতু এই
রুটে সরাসরি মাত্র একটিই আন্তঃনগর ট্রেন বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস চলাচল করে,
তাই সামান্য একটু অমনোযোগিতার কারণেও কিন্তু পুরো ভ্রমণের প্ল্যানটাই
ভেস্তে যেতে পারে। আমি নিজেও যখন প্রথমবার এই রুটে যাতায়াত করি, ভ্রমণের
অন্তত ৫-৬ দিন আগেই অনলাইনে টিকিটটা কনফার্ম করে নিয়েছিলাম।
তাই আমার তরফ থেকে আপনার জন্য সবচেয়ে বড় পরামর্শ থাকবে আপনি যদি ঝামেলাহীন
ও নিশ্চিন্ত মনে ভ্রমণ উপভোগ করতে চান, তবে অবশ্যই আপডেট রাজশাহী টু
দিনাজপুর ট্রেনের সময়সূচী মাথায় রেখে সঠিক সময়ে টিকেটটা কেটে নিন। বিশেষ
করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা উৎসবের সময়গুলোতে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি
থাকে, তাই অন্তত সপ্তাহের শুরুতেই অনলাইন বা অ্যাপ থেকে টিকিট বুক করে ফেলা
সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর পথিমধ্যে কোনো কারণে ট্রেনের বর্তমান
অবস্থান জানতে চাইলে মোবাইলের ওই এসএমএস ট্র্যাকিং সিস্টেমটি ব্যবহার করতে
একদম ভুলবেন না।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url