দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, ছুটির দিন ও টিকিট কাটার নিয়ম জানুন। সঠিক ও আপডেট তথ্য পেতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন। কারণ এখানে প্রত্যেকটা তথ্য অনেক সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখা আছে।
দিনাজপুর-টু-রাজশাহী-ট্রেনের-সময়সূচী
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। আপনি যদি শুনে থাকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকেন। তাহলে আপনার মনে থাকা সকল প্রশ্নের উত্তর পর্যায়ক্রমে পেয়ে যাবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানুন

দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী

দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে আপনার পুরো যাত্রাটাই কিন্তু একদম ঝামেলামুক্ত হয়ে যায়। সত্যি বলতে, এই দীর্ঘ রাস্তায় বাসের ঝাঁকুনি আর যানজটের ধকল এড়িয়ে শান্তিতে পৌঁছাতে ট্রেনের চেয়ে সেরা আর কিছুই হতে পারে না! আপনি যাতে মোবাইলের ছোট স্ক্রিনেও কোনো ঝামেলা ছাড়া এক পলকেই সব তথ্য বুঝে নিতে পারেন, সেই জন্য নিচে একদম নিখুঁত আর সহজভাবে সময়সূচীটি সাজিয়ে দিলাম।
ট্রেনের নাম দিনাজপুর ছাড়ে রাজশাহী পৌঁছায় সাপ্তাহিক বন্ধ
বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (৮০৪) সকাল ১১:০৭ বিকেল ০৫:১৫ শনিবার
দেখলেন তো, তথ্যটি কত সহজ এবং স্পষ্ট মনে হচ্ছে! প্রতিদিন সকালবেলা মিষ্টি রোদে রেলটি দিনাজপুর থেকে ছেড়ে চলে এবং বিকেলের চা খাওয়ার আগে রাজশাহী পৌঁছে দেয়। তবে ভাই, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলি সারাদিনে মাত্র এই এক সরাসরি ট্রেন থাকার কারণে, ঘড়ির কাঁটা ১১টা নাগাদ পৌঁছানোর অন্তত বিশ-ত্রিশ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া ভাল। এতে শেষ মুহূর্তের তাড়া মিটে যাবে এবং আরামে সিটে বসে সফর শুরু করতে পারবেন

দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা

ট্রেনের সিট পছন্দের ওপর কিন্তু ভ্রমণের পুরো আনন্দটা নির্ভর করে! দিনাজপুর থেকে রাজশাহী যাওয়ার প্ল্যান করার সময় কোন সিটের ভাড়া কত এটা জানা থাকলে বাজেট করাটা একদম পানির মতো সহজ হয়ে যায়। আপনি আপনার বাজেট আর স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী যাতে একদম সঠিক সিট বেছে নিতে পারেন, সেজন্য ট্রেনের সকল আসনের হালনাগাদ ভাড়ার তালিকাটা নিচে সহজভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো।
আসন / সিটের শ্রেণি অনলাইন/কাউন্টার ভাড়া
শোভন চেয়ার (Non-AC) ২৭৫ টাকা
স্নিগ্ধা (AC Chair) ৫২৪ টাকা
প্রথম সিট / বার্থ ৬৩০ টাকা
এসি বার্থ (AC Berth) ৯৪৫ টাকা
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে ছোট্ট একটি পরামর্শ দিতে চাই যদি আপনি সাধারণ বাজেটে একটু আরামদায়ক ভ্রমণ চান, তাহলে শোভন চেয়ারের টিকিট নিতে পারেন, সাধারণ সিটের মাঝে এটি বেশ ভালো। তবে গরম দিনে বা একটু বেশি আরামে যেতে চাইলে 'স্নিগ্ধা' বা এসি চেয়ার নেওয়াটা একদম উত্তম হবে। আর হ্যাঁ, অনলাইনে বা কাউন্টারে প্রক্রিয়াকরণ ফ্রি বা ভ্যাট সহ কিছু টাকা কম বেশি হতে পারে, তবে মূল ভাড়া কিন্তু একই। আপনার পছন্দের আসনটি আগে থেকেই বুক করে নিয়ে নিশ্চিন্তে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিন।

এই যাত্রা পথে ট্রেনের বিরোতি স্টেশন

দিনাজপুর থেকে ট্রেন যখন রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, পথে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় স্টেশনে বিরতি নেয়। যারা মাঝপথের কোনো স্টেশনে নামবেন কিংবা যাত্রা পথের দূরত্ব ও স্টেশন বিরতির সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চান, তাদের জন্য এই বিরতি স্টেশনগুলোর একটা পরিষ্কার তালিকা থাকা খুব দরকার। নিচে দিনাজপুর টু রাজশাহী রুটে ৮০৪ বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন, আনুমানিক দূরত্ব এবং বিরতির সময়ের তালিকা দেওয়া হলো।
বিরতি স্টেশন দূরত্ব (প্রায়) থামার সময় (মিনিট)
চিরিরবন্দর ১৬ কি.মি. ৩ মিনিট
পার্বতীপুর জংশন ২৯ কি.মি. ১০-১৫ মিনিট
ফুলবাড়ী ৪৭ কি.মি. ৩ মিনিট
বিরামপুর ৫৮ কি.মি. ৩ মিনিট
পাঁচবিবি ৭৮ কি.মি. ৩ মিনিট
জয়পুরহাট ৮৯ কি.মি. ৫ মিনিট
আক্কেলপুর ১০৫ কি.মি. ৩ মিনিট
সান্তাহার জংশন ১২৫ কি.মি. ১০ মিনিট
মাধনগর ১৫২ কি.মি. ৩ মিনিট
নাটোর ১৭১ কি.মি. ৫ মিনিট
আব্দুলপুর জংশন ১৯১ কি.মি. ৫ মিনিট
অভিজ্ঞতা থেকে বলি, পার্বতীপুর আর সান্তাহার জংশনে ট্রেন একটু বেশি সময় থামে কারণ সেখানে ইঞ্জিনের দিক পরিবর্তন বা অন্যান্য ট্রেনের ক্রসিং থাকে। তাই ওই সময়টুকুতে চাইলে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে চা-নাস্তা বা হালকা খাবার কিনে নিতে পারেন। তবে যেকোনো স্টেশনে নামার আগে ট্রেনের হুইসেল খেয়াল রাখা খুব জরুরি, যাতে যাত্রা বিরতির ফাঁকে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়।

আপনার জন্য কোন ট্রেনটি সেরা হবে

দিনাজপুর থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য কোনটি আপনার জন্য সেরা ট্রেন হবে এই প্রশ্নটি মাথায় আসা খুব স্বাভাবিক। সত্যি বলতে, এই রুটে কিন্তু আপনাকে খুব বেশি ট্রেন বেছে নেওয়ার দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হবে না। কারণ দিনাজপুর থেকে সরাসরি রাজশাহী পৌঁছানোর জন্য রেলওয়ের একমাত্র নির্ভরতার প্রতীক হলো ৮০৪ বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস। তাই সরাসরি এবং কোনো ঝামেলা ছাড়া দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইলে এই একটিমাত্র আন্তঃনগর ট্রেনই আপনার জন্য সেরা এবং একমাত্র আদর্শ সমাধান। সকালের মিষ্টি আলোয় যাত্রা শুরু করে বিকেল হতে না হতেই এটি আপনাকে রাজশাহীতে নামিয়ে দেবে।
দিনাজপুর-টু-রাজশাহী-ট্রেনের-সময়সূচী
তবে আপনি যদি একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করেন কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের টিকিট না পান, তবে কানেক্টিং বা বিকল্প রুটের ট্রেন বেছে নেওয়া আপনার জন্য দ্বিতীয় সেরা উপায় হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড় বা দ্রুতযান এক্সপ্রেসে চড়ে প্রথমে পার্বতীপুর বা সান্তাহার জংশনে নামতে পারেন এবং সেখান থেকে রাজশাহীগামী অন্য ট্রেনে (যেমনঃ বরেন্দ্র বা তিতুমীর এক্সপ্রেস) দ্বিতীয় টিকিট কেটে রাজশাহীতে পৌঁছাতে পারবেন। যদিও এতে কিছুটা সময় বেশি লাগবে এবং ট্রেন বদল করার একটা ঝক্কি থাকবে, তবুও জরুরি মুহূর্তে সরাসরি ট্রেনের টিকিট না পেলে এই বিকল্প ব্যবস্থাটি আপনার ভ্রমণকে নিশ্চিত করতে দারুণ কাজ দেবে।

বিকল্প উপায়ে দিনাজপুর থেকে রাজশাহী যাতায়াত

ট্রেনের টিকিটিং সিস্টেমে অনেকে দেখে থাকেন কাঙ্ক্ষিত দিনটির টিকিট অনুপলব্ধ বা জরুরি প্রয়োজনে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নির্ধারিত সময়ের সাথে মিলছে না। এমন অবস্থায় মন খারাপ করার কিছু নেই, কারণ বিকল্প উপায় হিসেবে আপনি সহজেই দিনাজপুর থেকে রাজশাহী পৌঁছাতে পারবেন। এ জন্য বাসে যাতায়াত করাই সবচেয়ে কার্যকরী অপশন হতে পারে। 
দিনাজপুরের বিআরটিসি (BRTC) বাস টার্মিনাল বা অন্যান্য পরিচিত বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন বহু দূরপাল্লার বাস রাজশাহীর দিকে যায়। বাসের টিকিট পাওয়া খুব সহজ এবং সারাদিন বিভিন্ন সময়ে বাস পাওয়া যায়, তাই সময়ের জন্য চিন্তা করতে হয় না।দ্বিতীয় বিকল্প হলো কিছু কৌশল প্রয়োগ করে ট্রেন যাত্রা সম্পন্ন করা, অর্থাৎ কানেক্টিং বা রুটিং ট্রেন নিতে হবে। যদি ট্রেনের উপর নির্ভর করতে চান, তাহলে দিনাজপুর স্টেশন থেকে গতির জন্য প্রথমে সান্তাহার অথবা পার্বতীপুর জংশন স্টেশনে নেমে যেতে পারেন। পার্বতীপুর বা সান্তাহার জংশন থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে একাধিক আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেন রয়েছে (যেমনঃ বরেন্দ্র বা তিতুমীর এক্সপ্রেস)।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

আজকাল স্টেশনে গিয়ে লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার সেই যুগ আর নেই ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে ট্রেনের টিকিট কেটে ফেলা সম্ভব। প্রথমত, টিকিট কাটার জন্য আপনাকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা মোবাইল অ্যাপ 'Rail Sheba'-তে ঢুকতে হবে। যদি আপনার অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে খুব সহজেই একটি অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করে নিন। 

এরপর ওয়েবসাইটে লগইন করে আপনার ভ্রমণের তারিখ, শুরুর স্টেশন (Dinajpur) এবং গন্তব্য স্টেশন (Rajshahi) সিলেক্ট করে সার্চ দিলেই 'বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস' ট্রেনের তালিকা ও খালি সিটের বিবরণ ভেসে উঠবে।দ্বিতীয়ত, সিট পছন্দের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দমতো সিট টাইপ (যেমন: শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা) নির্বাচন করে খালি সিটের ছক থেকে আসন সিলেক্ট করুন। এরপর পেমেন্ট করার জন্য বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে দিন। পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথেই আপনার ইমেইল এবং অ্যাপে একটি ডিজিটাল পিডিএফ (e-Ticket) চলে আসবে। 
এই অনলাইন টিকিটটি মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখলেই চলবে, অথবা চাইলে সুবিধার্থে যেকোনো প্রিন্টারের দোকান থেকে একটি কপি বের করে নিতে পারেন। এত সহজ আর আরামদায়ক উপায়ে টিকিট কেটে ফেললে ভ্রমণের দিন আর বাড়তি কোনো চিন্তাই মাথায় থাকে না। আপনি যদি এখনো বুঝতে না পারেন তাহলে এখানে ক্লিক করুন এখানে আমি আরো সুন্দরভাবে বিষয়টা স্ক্রিনশট ব্যবহার করে বুঝিয়ে দিয়েছি। তাই আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন এ বিষয়ে একেবারে শূন্য ধারণা থাকে তাও খুব সহজে আর্টিকেলটা পড়তে পড়তে টিকিট কাটার কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন।

ট্রেন যাত্রায় প্রয়োজনীয় মালামাল বহন নীতি

বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী ভ্রমণের সময় প্রত্যেক যাত্রীর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মালামাল বা লাগেজ বিনামূল্যে বহন করার সুযোগ থাকে, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু নির্দেশিকা মেনে চলা আবশ্যক। আপনার বুকিংকৃত আসনের শ্রেণিভেদে সর্বোচ্চ ৩৮ কেজি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যাগেজ সাথে রাখা যায়। আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা যদি থাকে এবং আপনি ইতোমধ্যে দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী দেখে সময় মিলিয়ে নিয়ে থাকেন, তবে অতিরিক্ত মালামাল বহনের ঝামেলা এড়াতে আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিষাক্ত, দাহ্য পদার্থ কিংবা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো অবৈধ জিনিসপত্র ট্রেনে নিয়ে ওঠা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
দিনাজপুর-টু-রাজশাহী-ট্রেনের-সময়সূচী
দ্বিতীয়ত, ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে স্টেশনে হুড়োহুড়ি থেকে বাঁচতে ব্যাগ বা মালামালের পরিমাণ যত কম ও সামলানো সহজ রাখা যায়, ভ্রমণ ততই উপভোগ্য হয়। যদি আপনার মালামাল নির্ধারিত ওজনের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে থাকে, তবে স্টেশনের বুকিং কাউন্টারে গিয়ে নির্ধারিত ফি দিয়ে অতিরিক্ত লাগেজের বুকিং করিয়ে নেওয়াই নিরাপদ নিয়ম। তাই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্ল্যাটফর্মে আসার আগে দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী মেনে হাতে কিছুটা বাড়তি সময় রাখা ভালো, যাতে ট্রেনের লাগেজ সুবিধা ব্যবহার করতে কোনো দৌড়ঝাঁপ বা সমস্যায় পড়তে না হয়।

এসএমএসের মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন

অনেক সময় ট্রেন দেরিতে পৌঁছালে অথবা ট্রেনটি কোথায় অবস্থান করছে তা জানতে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কষ্টকর হতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনার হাতে থাকা সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মাত্র একটি এসএমএস পাঠিয়ে ট্রেনের সঠিক বা লাইভ অবস্থান জেনে নিতে পারেন। এতে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই, যেকোনো ফিচার ফোন দিয়েই এটি করা সম্ভব। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই সুবিধা ব্যবহার করতে যে কোনো মোবাইল অপারেটর (যেমনঃ গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক) থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে TR লিখে একটি স্পেস দিয়ে নির্দিষ্ট ট্রেনের নম্বর লিখে ১৬৩১৮ (16318) নম্বরে পাঠাতে হবে।
বিষয়টি আরেকটু সহজে উদাহরণের মাধ্যমে বুঝানো যাক ধরি, আপনি দিনাজপুর থেকে রাজশাহী রুটের বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের বর্তমান অবস্থা জানতে চান। বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের নম্বর ৮০৪। সেজন্য আপনাকে ফোনের মেসেজ অপশনে প্রবেশ করে লিখতে হবে: TR 804 এবং পাঠাতে হবে 16318 নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে জানানো হবে ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে আছে, পরবর্তী স্টেশন কোথায় এবং কত মিনিট দেরিতে বা সময়মতো চলছে। প্রত্যেক এসএমএসের জন্য সামান্য সার্ভিস চার্জ কাটবে, কিন্তু ভ্রমণের আগে ট্রেনের অবস্থান সঠিকভাবে জানলে অযথা স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় না।

এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ দিনাজপুর টু রাজশাহী সরাসরি ট্রেন কয়টি?
  • উত্তরঃ একটিমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন, 'বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (৮০৪)'।
প্রশ্নঃ ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কবে?
  • উত্তরঃ প্রতি শনিবার।
প্রশ্নঃ দিনাজপুর থেকে রাজশাহী পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
  • উত্তরঃ প্রায় ৬ ঘণ্টা।
প্রশ্নঃ শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা সিটের ভাড়া কত?
  • উত্তরঃ শোভন চেয়ার ২৭৫ টাকা এবং স্নিগ্ধা (এসি) ৫২৪ টাকা।
প্রশ্নঃ কত দিন আগে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টা থেকে।
প্রশ্নঃ টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করলে কী হবে?
  • উত্তরঃ আসল ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে।

আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা

দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী মেনে ভ্রমণ করা আমার নিজের কাছে সবসময়ই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বলে মনে হয়েছে। আমি নিজে একাধিকবার এই রুটে যাতায়াত করে দেখেছি, শেষ মুহূর্তে দৌড়ঝাঁপ না করে অন্তত আধঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছালে এবং আগেভাগেই টিকিট কাটলে যাত্রার ক্লান্তি বলতে কিছুই থাকে না। আপনি যদি সকাল সকাল একটু গুছিয়ে নিয়ে ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে চলে আসেন, তবে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের চমৎকার পরিবেশ আর বাইরের সবুজ দৃশ্য উপভোগ করতে করতেই অনায়াসে পৌঁছে যাবেন আপনার গন্তব্যে।

সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় আমাদের সুন্দর পরিকল্পনাগুলো নষ্ট হয়ে যায়, তাই এই দিনাজপুর টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী গাইডটিতে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও একদম তাজা তথ্যগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি, আমার এই ছোট টিপসগুলো আপনার সফরকে অনেক বেশি সহজ, নিরাপদ এবং আনন্দময় করে তুলবে। আপনার রেলযাত্রা সম্পূর্ণ ঝামেলামুক্ত ও চমৎকার কাটুক এই শুভকামনা রইল! সবসময় এমন তথ্যবহুল ও দরকারি সহায়তার জন্য ইনফোনেস্ট আইটি (InfoNest IT)-র সাথেই থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Rifat Mhamud
Md. Rifat Mhamud
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার ও SEO এক্সপার্ট। ওয়েবসাইট, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও প্রযুক্তি নিয়ে নিয়মিত কাজ ও লেখালেখি করি। এই ওয়েবসাইটে আমার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত শেয়ার করে থাকি।